যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতির হার এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। ফলে গ্যাস ও অন্যান্য বিলে বাড়তি অর্থ প্রদান করতে হচ্ছে ভোক্তাদের। তাতেই অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে পড়ে গিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের তরুণ ও স্বল্প আয়ের নাগরিকরা। এ অবস্থায় দেশটির জেনারেশন জেড ভোক্তা এবং যাদের ক্রেডিট স্কোর কম রয়েছে তারা ক্রেডিট কার্ড ও অটো লোন বিলের ক্ষেত্রে বেশ পিছিয়ে পড়ছেন। সেই সঙ্গে তারা যে গতিতে ক্রেডিট কার্ডের ঋণ জমা করছেন, তা মহামারীর আগে কখনো দেখা যায়নি।
রয়টার্সের খবর অনুসারে, ২৫ বছর বা তার কম বয়সীদের ক্রেডিট কার্ডের ব্যালান্স আগের বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকের তুলনায় বেড়েছে ৩০ শতাংশ। যেটা বৃহত্তর জনসংখ্যার ক্ষেত্রে বেড়েছে মাত্র ১১ শতাংশ। ক্রেডিট স্কোর কোম্পানি ভিনটেজস্কোরের করা যুক্তরাষ্ট্রের ১ কোটি ২৫ লাখ নমুনার র্যানডম স্যাম্পলিংয়ে এ তথ্য উঠে এসেছে। নন-প্রাইম ঋণগ্রহীতাদের জন্য ব্যালান্স অথবা যেসব ব্যক্তির ক্রেডিট স্কোর ৬৬০-এর নিচে তাদেরও এ সময়ে বেড়েছে ২৫ শতাংশ।
কয়েক মাসব্যাপী যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তাদের জন্য সবকিছু একটু ভালোর দিকেই ছিল। তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টও সরকারের প্রণোদনা প্যাকেজ, শিক্ষার্থী ঋণ পরিহার ও মহামারীকালের সঞ্চয়ের কারণে ভালো ছিল।
ভিনটেজস্কোরের প্রধান টাভারেস বলেন, এখন কিছু কিছু ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে যে অনেক মার্কিন নাগরিক বাইরে ঘুরতে যাওয়া ও বাইরে খাওয়ার জন্য তাদের অর্থনীতি অতিরিক্ত প্রসারিত করছে। কিন্তু ক্রেডিট কার্ডের ঋণ পরিশোধ ধীর হয়ে গিয়েছে। এটা মহামারীর প্রথম বছরে ভোক্তাদের ঋণ পরিশোধ এবং আরো বেশি মিতব্যয়ী হওয়ার প্রচেষ্টার সঙ্গে বেশ বিপরীত বলেই মনে করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তারা গত দুই বছরের মধ্যে একটু ধীরগতিতে ব্যয় বৃদ্ধি করছে। কেননা অর্থনীতি দ্বিতীয় প্রান্তিকে কিছুটা সংকুচিত হয়ে পড়েছে। কিছু কিছু পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় ভোক্তাদের বিবেচনামূলক খরচ কমাতে হচ্ছে বলে জানিয়েছে ওয়ালমার্ট ইনক এবং প্রোক্টর অ্যান্ড গ্যাম্বল কোম্পানির মতো প্রতিষ্ঠানগুলো।
টাভারেস জানান, হঠাৎ করে দাম বেড়ে যাওয়ায় তরুণ ও কম ক্রেডিটের ঋণগ্রহীতাদের চাপের মুখে ফেলতে পারে। ভিনটেজস্কোর বলছে, নন-প্রাইম ঋণগ্রহীতাদের মধ্যে ক্রেডিট কার্ডের পার্সেন্টেজ এবং ৩০ দিন বাকি থাকা অটো লোনের পরিমাণও বেড়েছে। ক্রেডিট কার্ডের ত্রুটিও তরুণ প্রজন্ম ও নন-প্রাইম ঋণগ্রহীতাদের মধ্যে বেড়ে দাঁড়িয়েছে মহামারীর আগের পর্যায়ে।
বড় তিনটি ভোক্তা ক্রেডিট রেটিং এজেন্সির মধ্যে একটি ট্রান্সইউনিয়ন। তাদের মতে, মূল্যস্ফীতি এমনই থাকলে ক্রেডিট কার্ডের ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ার হার বেড়ে ২০২৩ সালের প্রথম প্রান্তিকে দাঁড়াতে পারে ৮ দশমিক ৪ শতাংশে। যেটা চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে থাকা ৮ শতাংশের থেকে বেশি।









