ইরাককে ছাড়িয়ে ভারতের শীর্ষ জ্বালানি তেল সরবরাহকারী হয়ে উঠেছে রাশিয়া। নভেম্বরে দেশটি থেকে সর্বোচ্চ অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করে ভারত। ব্যাপক মূল্যছাড়ের কারণে সম্প্রতি ভারতের বাজারে রুশ জ্বালানি বেশ জনপ্রিয়। এ জ্বালানি তেলের ওপর জি৭ভুক্ত দেশগুলোর প্রাইস ক্যাপ কার্যকর হওয়ার আগেই ভারতের পরিশোধন প্রতিষ্ঠানগুলো পর্যাপ্ত পরিমাণে মজুদ করার পরিকল্পনা হাতে নেয়, যা সরবরাহ বাড়াতে সহায়তা করেছে। খবর অয়েল প্রাইস ডটকম।
ভারত গত মাসে সব মিলিয়ে গড়ে দৈনিক ৪০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করে, যা আগের মাসের তুলনায় কম। তবে এর মধ্যে রাশিয়াই সরবরাহ করেছে ২৩ শতাংশ। এ সময় দেশটি দৈনিক ৯ লাখ ৮ হাজার ব্যারেল জ্বালানি তেল ভারতে রফতানি করে। অক্টোবরের তুলনায় ভারতে রুশ জ্বালানি তেল আমদানি ৪ শতাংশ বেড়েছে। এ নিয়ে টানা পাঁচ মাস দেশটি থেকে আমদানি বাড়াল ভারত।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের আগে ভারত ছিল রুশ জ্বালানি তেলের অত্যন্ত ক্ষুদ্র ক্রেতা। কিন্তু পশ্চিমা ক্রেতারা রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল আমদানি কমিয়ে দিলে ভারত রাশিয়ার শীর্ষ জ্বালানি তেল ক্রেতায় পরিণত হয়। পাশাপাশি চীনও দেশটিতে ব্যাপক হারে আমদানি বাড়াতে শুরু করে।
অন্যদিকে গত মাসে ইরাক থেকে ভারতের অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি কমেছে। এ সময় দেশটি থেকে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরের পর সর্বনিম্ন জ্বালানি তেল আমদানি করা হয়। এছাড়া সৌদি আরব থেকে আমদানি কমে ১৪ মাসের সর্বনিম্নে নেমেছে।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা জানায়, গত মাসে রাশিয়ার জ্বালানি তেল লোডিংয়ে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। এ সময় দেশটি দৈনিক ৫০ লাখ ব্যারেলের বেশি জ্বালানি তেল রফতানির উদ্দেশ্যে লোডিং করে। ইউরোপের জ্বালানি রফতানি কমে গেলেও তাতে ভারসাম্য আনে ভারত।
এদিকে এশিয়ার পরিশোধন প্রতিষ্ঠানগুলো জ্বালানি তেলে আরো মূল্যছাড় দেয়ার দাবি জানিয়েছে রাশিয়ার প্রতি। উন্নত দেশগুলোর জোট জি৭ রুশ জ্বালানি তেলের ওপর প্রাইস ক্যাপ আরোপের পরই এমন দাবি ওঠে।
ইউক্রেনে হামলার প্রতিক্রিয়ায় জি৭ রাশিয়ার জ্বালানি তেলের ওপর প্রাইস ক্যাপ আরোপ করে। রুশ জ্বালানি তেলের সর্বোচ্চ মূল্য বেঁধে দেয়া হয় ব্যারেলপ্রতি ৬০ ডলার। ৫ ডিসেম্বর থেকে প্রাইস ক্যাপ কার্যকর হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে যেসব দেশ প্রাইস ক্যাপ ও নিষেধাজ্ঞা দেয়নি, সেসব দেশে জ্বালানি তেলের বাজার সম্প্রসারণে চেষ্টা চালাচ্ছে। আর এক্ষেত্রে এগিয়ে আছে এশিয়া। ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ব্যাপক মূল্যছাড়ে এশিয়ায় জ্বালানি তেল রফতানি করছে রাশিয়া। এবার জ্বালানি তেলের রাশিয়ান বাজার আদর্শ উরাল ক্রুডে মূল্যছাড়ের পরিমাণ আরো বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে এশিয়ান ক্রেতারা।
ভারতের পরিশোধন কেন্দ্রগুলো ব্যয়, বীমা ও জাহাজীকরণ (সিআইএফ) ভিত্তিতে প্রতি ব্যারেল উরাল ক্রুড আমদানির ক্ষেত্রে ১৫ ডলার পর্যন্ত মূল্যছাড় সুবিধা উপভোগ করছিল। কিন্তু প্রাইস ক্যাপ কার্যকর হওয়ার পর বাজার আদর্শটিতে মূল্যছাড় আরো বাড়ানোর জন্য রফতানিকারকদের চাপ দিচ্ছে দেশটির ক্রেতারা। বর্তমানে স্পট মার্কেট থেকে সরাসরি উরাল ক্রুড কেনার ক্ষেত্রে ব্যারেলপ্রতি ২০ ডলার ছাড় দেয়ার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।
বাজার অংশীজনদের কেউ কেউ বলছেন, প্রাইস ক্যাপ কার্যকর হওয়ার পর এমনটা ঘটারই কথা ছিল। এছাড়া ইউরোপ সমুদ্রপথে আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় রাশিয়ার রফতানি গন্তব্য সংকুচিত হয়ে পড়েছে। দেশটি বর্তমানে জ্বালানি তেল রফতানির ক্ষেত্রে এশিয়ামুখী। আর সে সুযোগই কাজে লাগাচ্ছেন এ অঞ্চলের ক্রেতারা। বিশেষ করে মূল্যছাড় সুবিধার কারণে ভারত দেশটির শীর্ষ জ্বালানি তেল ক্রেতা হয়ে উঠছে।
এদিকে জি৭ভুক্ত দেশগুলোর দেয়া প্রাইস ক্যাপের তোয়াক্কা করছে না চীন। দেশটি রাশিয়ান ইএসপিও ক্রুড বেঁধে দেয়া ৬০ ডলারের বেশি দামেই কিনছে। নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি এড়াতে এসব জ্বালানি তেল রফতানির ক্ষেত্রে রাশিয়া নিজস্ব ট্যাংকার ও বীমা ব্যবস্থা ব্যবহার করছে বলে জানা গিয়েছে।










