লালমনিরহাটে বেড়েছে চালের দাম। পাইকারি ও খুচরা বাজারে মানভেদে কৃষিপণ্যটির মূল্য কেজিতে ৩-৪ টাকা করে বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন নিম্নআয়ের মানুষ।

সম্প্রতি লালমনিরহাটের বিভিন্ন চালের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মোটা চাল পাইকারিতে ৪১-৪২ ও খুচরা পর্যায়ে বিক্রি হচ্ছে ৪৩-৪৪ টাকায়। পাইজাম চাল পাইকারিতে ৪৯-৫০ ও খুচরা পর্যায়ে বিক্রি হচ্ছে ৫১-৫২ টাকায়। স্থানীয় উৎপাদিত আটাশ ও স্বর্ণা চাল পাইকারিতে ৪৪-৪৫ ও খুচরা পর্যায়ে ৪৫-৪৬ টাকা দরে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া জিরা ও নাজিরশাইল চাল আরো বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

লালমনিরহাট সদর উপজেলার চাল ব্যবসায়ী মো. সোলায়মান আলী মোল্লা জানান, গত ২৮ জুন তিনি ১০ কেজি পাইজাম চাল কিনেছেন। প্রতি কেজি চালের দাম পড়েছে ৫৩ টাকা। অথচ একই চাল গত মে মাসে ৪৭ টাকা দরে কিনেছিলেন। এক মাসের ব্যবধানে চালের দাম কেজিতে ৬ টাকা করে বেড়েছে।

লালমনিরহাটের বুড়িমারী স্থলবন্দর ব্যবহারকারী স্থানীয় মেসার্স রাহি ট্রেডার্সের আমদানিকারক ব্যবসায়ী তারেক ইসলাম রাশেদ বলেন, বর্তমানে চালের বাজার কিছুটা অস্থির। চাল আমদানির মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে পারে সরকার। তবে এর আগে যেভাবে সিন্ডিকেট করে চাল আমদানি হয়েছিল, এবার যেন সেরকম কিছু না ঘটে। সব ব্যবসায়ী যেন চাল আমদানির অনুমতিপত্র পায়। তাহলে বাজার স্থিতিশীল থাকবে।

লালমনিরহাট গোসালা বাজারের পাইকারি ও খুচরা চাল ব্যবসায়ী মেসার্স দেওয়ান অ্যান্ড সন্সের স্বত্বাধিকারী মো. মোসলেম দেওয়ান বলেন, আমি ছোট ব্যবসায়ী। ট্রাকভর্তি চাল না কিনলে চাল পাওয়া যায় না। এজন্য কয়েকজন ব্যবসায়ী মিলে আমরা চাল ক্রয়ের পর ভাগ করে তা পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে বিক্রি করে থাকি। বর্তমানে চালের দাম কেজিতে ২-৩ টাকা বেশি। প্রতিকূল আবহাওয়া এবং করোনায় পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধি ও সংকটের কারণে দাম বেড়েছে বলে মোকাম থেকে বলা হচ্ছে। এখানে আমাদের কিছু করার নেই।

লালমনিরহাট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সাবেক সভাপতি ও শিল্পোদ্যোক্তা শেখ আব্দুল হামিদ বাবু বলেন, ধান উৎপাদনকারী কৃষক, ব্যবসায়ী ও সরকারের কাছে পর্যাপ্ত ধান ও চাল মজুদ রয়েছে। আপাত কোথাও কোনো সংকট নেই। চাতাল মালিকদের সঙ্গেও চুক্তি হওয়া চাল আগস্টের মধ্যেই পেয়ে যাবে সরকার। যেকোনো সময়ের তুলনায় বর্তমানে চালের বাজার মোটামুটি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এখনই চাল আমদানির কোনো প্রয়োজন দেখছি না।