আন্তর্জাতিক এ সংস্থার ২৫ জুন প্রকাশিত সর্বশেষ বাজার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভুট্টা, গম ও বার্লির উৎপাদন পরিস্থিতি ভালো হওয়ায় আগের মাসের পূর্বাভাসের চেয়ে এবার বিশ্বব্যাপী শস্য উৎপাদন ১ কোটি ২০ লাখ টন বেশি হতে পারে। খবর ওয়ার্ল্ড-গ্রেইন ডটকম।

নতুন এ সংশোধনের পর ২০২৬-২৭ বিপণন বছরে মোট বৈশ্বিক শস্য উৎপাদন ২৪২ কোটি ৬০ লাখ টনে পৌঁছবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, এ সংশোধিত পূর্বাভাস পণ্যবাজারের জন্য ইতিবাচক খবর হলেও মোট উৎপাদনের পরিমাণ গত বছরের তুলনায় কমই থাকছে। পূর্বাভাসটি সত্যি হলে উৎপাদন গত ২০২৫-২৬ বছরের রেকর্ড ২৪৮ কোটি ৮০ লাখ টনের চেয়ে ২ শতাংশ কম হবে। ফলে টানা চার বছর বাড়ার পর এবারই প্রথম বিশ্বজুড়ে সামগ্রিক শস্য উৎপাদন কমতে যাচ্ছে।

বর্তমানে বিশ্বজুড়ে কৃষি খাত বেশকিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, যার মধ্যে জলবায়ুর পরিবর্তন অন্যতম। প্রতিবেদনে আইজিসি উল্লেখ করেছে, প্রশান্ত মহাসাগরীয় আবহাওয়ার বিশেষ অবস্থা ‘এল নিনো’ এখন সক্রিয় রয়েছে এবং বছরের দ্বিতীয়ার্ধে এটি আরো শক্তিশালী হতে পারে। এ আবহাওয়া পরিস্থিতি প্রধান কৃষি অঞ্চলে চাষাবাদ ব্যাহত করতে পারে। সংস্থাটি জানায়, এর ফলে ফসলের ফলন কম-বেশি হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে দক্ষিণ গোলার্ধের আগামী দিনগুলোর ফসলের ওপর এর প্রভাব পড়ার শঙ্কা আছে। তবে এ মুহূর্তে এর সঠিক প্রভাব কতটা তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

আবহাওয়ার পাশাপাশি কৃষি উপকরণের দামও বাজারে বড় প্রভাব ফেলছে। গত কয়েক মৌসুম ধরে বিশ্বজুড়ে কৃষকরা সারের উচ্চ মূল্য নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে ছিলেন। তবে প্রতিবেদনে কিছুটা স্বস্তির কথা জানিয়ে বলা হয়েছে, সম্প্রতি কৃষি উপকরণের দাম কমে যাওয়ায় চাষীরা কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন, যা বিশ্বব্যাপী নতুন করে চাষাবাদের সিদ্ধান্ত সহজ করতে সাহায্য করতে পারে।

আলাদা করে প্রধান ফসলের দিকে তাকালে দেখা যায়, প্রধান খাদ্যশস্যগুলোর উৎপাদনে ভিন্ন ধারা রয়েছে। আইজিসির হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী গমের উৎপাদন হতে পারে ৮২ কোটি ১০ লাখ টন, যা আগের বছরের তুলনায় ৩ শতাংশ কম। অন্যদিকে ভুট্টার উৎপাদন ২ শতাংশ কমে ১৩১ কোটি টনে নামতে পারে। তবে গম ও ভুট্টার উৎপাদন সামান্য কমলেও বিশ্বব্যাপী এ প্রধান পণ্যগুলোর শক্তিশালী চাহিদার কারণে এগুলোর ব্যবহার এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে আশা করছে সংস্থাটি।

গম ও ভুট্টার উৎপাদন কিছুটা কমলেও সয়াবিনের উৎপাদন পরিস্থিতি বেশ ইতিবাচক। কাউন্সিল আশা করছে, আগের বছরের চেয়ে সয়াবিনের উৎপাদন ৩ শতাংশ বেড়ে রেকর্ড ৪৪ কোটি ২০ লাখ টনে দাঁড়াবে। এ রেকর্ড উৎপাদনের পাশাপাশি সয়াবিনের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও ব্যবহার যথাক্রমে ১৯ কোটি ও ৪৪ কোটি ৫০ লাখ টনের রেকর্ড ছুঁতে পারে। ব্যাপক সরবরাহের কারণে সয়াবিনের ব্যবহার নতুন উচ্চতায় পৌঁছলেও এর বৈশ্বিক মজুদ কিছুটা কমে আসতে পারে।

উৎপাদনের এ ওঠানামা এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারের দামের ওপর প্রভাব ফেলেছে। গম, ভুট্টা, বার্লি ও সয়াবিনের সরবরাহ পরিস্থিতি ভালো হওয়ায় সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে এগুলোর দাম বেশ কমেছে। ফলে আইজিসির শস্য ও তেলবীজ মূল্যসূচক আগের মাসের তুলনায় ৪ দশমিক ৭ শতাংশ কমেছে। এর মধ্যে ভুট্টার দাম সবচেয়ে বেশি ৭ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে।

বিশ্ববাজারে এ দাম কমার প্রবণতার একমাত্র ব্যতিক্রম ছিল চাল। চালের দাম উল্টো ৫ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বেশির ভাগ শস্যের দাম কমলেও বার্ষিক ভিত্তিতে সামগ্রিক মূল্যসূচক এখনো ৩ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি রয়েছে।