চলতি বছরের মার্চে চীনের ইস্পাত উৎপাদন খাতে মন্দা ভাব বজায় ছিল। মূলত নভেল করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে দীর্ঘদিন লকডাউন চলমান থাকায় চীনা ইস্পাত উৎপাদন সংকুচিত হয়ে পড়েছে। স্বাভাবিকভাবেই দেশটিতে কমে গেছে ইস্পাত উৎপাদনের প্রধান কাঁচামাল আকরিক লোহার চাহিদা। এর জের ধরে গত মার্চে চীনা আমদানিকারকরা ব্যবহারিক ধাতুটির আমদানি কমিয়ে দিয়েছেন। এ সময় দেশটিতে আকরিক লোহা আমদানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে। চীনের জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব কাস্টমসের সর্বশেষ মাসভিত্তিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। খবর রয়টার্স ও সিনহুয়া।
চীন আকরিক লোহার শীর্ষ ভোক্তা দেশ। একই সঙ্গে ব্যবহারিক ধাতুটির আমদানিকারকদের বৈশ্বিক তালিকায়ও দেশটি শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের মার্চে চীনে সব মিলিয়ে ৮ কোটি ৫৯ লাখ ১০ হাজার টন আকরিক লোহা আমদানি হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় দশমিক ৬ শতাংশ কম। ২০১৯ সালের মার্চে দেশটিতে মোট ৮ কোটি ৬৪ লাখ ২০ হাজার টন আকরিক লোহা আমদানি হয়েছিল। সেই হিসেবে এক বছরের ব্যবধানে চীনে ব্যবহারিক ধাতুটির আমদানি কমেছে ৫ লাখ ১০ হাজার টন।
চীনের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম দুই মাসে (জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক বাজার থেকে চীনা আমদানিকারকরা সব মিলিয়ে ১৭ কোটি ৬৮ লাখ টন আকরিক লোহা আমদানি করেছেন। সেই হিসেবে বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) দেশটির আকরিক লোহার সম্মিলিত আমদানি দাঁড়িয়েছে ২৬ কোটি ২৭ লাখ ১০ হাজার টন।
চীনে আমদানি করা আকরিক লোহার সিংহভাগ ইস্পাত কারখানাগুলোয় ব্যবহার করা হয়। নভেল করোনাভাইরাস মহামারীর ধাক্কায় গত মার্চে দেশটিতে শিল্প ধাতুটির উৎপাদন কমে গেছে। ওয়ার্ল্ড স্টিল অ্যাসোসিয়েশনের (ডব্লিউএসএ) সর্বশেষ মাসভিত্তিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের শীর্ষ ইস্পাত উৎপাদনকারী দেশ চীনের কারখানাগুলোয় গত মার্চে সব মিলিয়ে ৭ কোটি ৯০ লাখ টন অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১ দশমিক ৭ শতাংশ কম। মূলত এ কারণে মার্চে দেশটিতে আকরিক লোহার চাহিদাও তুলনামূলক কম ছিল। ফলে চীনা আমদানিকারকরা আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ব্যবহারিক ধাতুটির আমদানি কমিয়ে দিয়েছেন।
এ বিষয়ে বেইজিংভিত্তিক ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান জিনরুই ফিউচার্সের পণ্যবাজারবিষয়ক বিশ্লেষক ঝুও গুইকিউ বলেন, চীনা ইস্পাত খাতে আকরিক লোহা আমদানি কমার বিষয়টি স্বল্পমেয়াদি। এখন লকডাউন উঠে গিয়েছে। উৎপাদন খাত গতিশীল হতে শুরু করেছে। ফলে আগামীতে চীনে ইস্পাত উৎপাদন বাড়বে। ইস্পাত কারখানাগুলোয় বাড়বে আকরিক লোহার চাহিদা। এর জের ধরে আমদানিকারকরাও ব্যবহারিক ধাতুটির আমদানি বাড়িয়ে দেবেন।









