এ পরিস্থিতি সামাল দিতে স্বর্ণ বেচাকেনায় রেকর্ড ছাড় দিচ্ছেন দেশটির ব্যবসায়ীরা। অন্যদিকে বিনিয়োগ চাহিদা ও শিল্প খাতের ক্রয় অব্যাহত থাকায় চীনের বাজারে স্বর্ণের প্রিমিয়াম বা বাড়তি দর এখনো ঊর্ধ্বমুখী। খবর রয়টার্স।

বাজারসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে চাহিদা কমে যাওয়া এবং বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বিক্রির প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় গত সপ্তাহে প্রতি আউন্স স্বর্ণে রেকর্ড ২০৭ ডলার পর্যন্ত ছাড় দেয়া হয়েছে। আগের সপ্তাহেও এ ছাড়ের পরিমাণ ছিল আউন্সপ্রতি সর্বোচ্চ ১৫ ডলার।

সম্প্রতি ভারত সরকার স্বর্ণ ও রুপা আমদানিতে শুল্ক ৬ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ নির্ধারণ করেছে। একই সঙ্গে গহনা রফতানির জন্য শুল্কমুক্ত স্বর্ণ আমদানির নিয়মও কিছুটা কঠোর করা হয়েছে। এখন থেকে প্রতি লাইসেন্সে সর্বোচ্চ ১০০ কেজি স্বর্ণ আমদানির সীমা বেঁধে দিয়েছে দেশটি।

হায়দরাবাদভিত্তিক এক গহনা ব্যবসায়ী জানান, হঠাৎ আমদানি শুল্ক বাড়ায় বাজারে স্বর্ণের দাম অনেক বেড়ে গেছে। এতে সাধারণ ক্রেতা ও গহনা প্রতিষ্ঠানগুলোয় চাহিদা কমেছে। এছাড়া দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেক বিনিয়োগকারী তাদের সংগ্রহে থাকা স্বর্ণ বিক্রি করে দিচ্ছেন।

ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে গত সপ্তাহে প্রতি ১০ গ্রাম স্বর্ণের দাম ছিল ১ লাখ ৬৪ হাজার ৪৯৭ রুপি, যা দুই মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। যদিও গতকাল তা কিছুটা কমে ১ লাখ ৬০ হাজার ৫০০ রুপিতে নেমেছিল।

মুম্বাইভিত্তিক এক বুলিয়ন ডিলার জানান, চাহিদা কমে যাওয়ায় বাজারে স্ক্র্যাপ বা পুরনো স্বর্ণের সরবরাহ বেড়ে গেছে। তাই স্বর্ণ বেচাকেনায় ছাড় বাড়িয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

এদিকে বিশ্বের শীর্ষ স্বর্ণ ব্যবহারকারী দেশ চীনে বিশ্ববাজারের তুলনায় প্রতি আউন্স স্বর্ণে ১৫-২০ ডলার প্রিমিয়াম (সংযোজিত মূল্য) নেয়া হচ্ছে।

এমকেএস পাম্পের বৃহত্তর চীন অঞ্চলের পরিচালক বার্নার্ড সিন জানান, বিনিয়োগ চাহিদা এবং সৌর ও ইলেকট্রনিকস খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্রয় বাড়ায় চীনের বাজারে স্বর্ণ বেচাকেনায় প্রিমিয়াম বেড়েছে। বিশেষ করে ভ্যাট রিবেট প্রত্যাহারের ফলে এসব প্রতিষ্ঠান এখন ব্যাপক হারে মজুদ বাড়াচ্ছে।

এদিকে এশিয়ার অন্য অঞ্চলের মধ্যে সিঙ্গাপুরে আউন্সপ্রতি ১ থেকে ৩ ডলার ৩০ সেন্ট প্রিমিয়াম থাকলেও জাপানে ৫০ সেন্ট ছাড়ে স্বর্ণ বেচাকেনা হচ্ছে।