ব্যবসায়ীদের আপত্তি সত্ত্বেও আমদানি-রফতানি পণ্যের নিরাপত্তায় ইলেকট্রনিক সিল ও লক সেবার পরিসর বাড়িয়েছে জাতীয় রাজস্ব রোর্ড (এনবিআর)। দেশের সব বন্দর, কাস্টমস, রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল ও অর্থনৈতিক অঞ্চলে এ নিরাপত্তাব্যবস্থা অবিলম্বে কার্যকরের নির্দেশনা দিয়ে সংশোধিত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সংস্থাটি। এর আগে শুধু চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে আমদানি বা রফতানি করা পণ্য চট্টগ্রাম জেলায় অবস্থিত ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো (আইসিডি) বা অফ ডকে পরিবহনের সময় সিল বা লক নেয়ার বিধান জারি করা হয়েছিল।

এদিকে পণ্যের নিরাপত্তায় ইলেকট্রনিক সিল ও লক সেবা সম্পর্কিত আগের নির্দেশনাটিই ব্যবসায়ীদের আপত্তির মুখে এখনো কার্যকর হয়নি। এর মধ্যে দেশব্যাপী এ সেবা সম্প্রসারণের নির্দেশনা দেয়ার যৌক্তিকতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।

চট্টগ্রাম কাস্টমসের তথ্যমতে, ২০১৮ সালের ২৬ জুনের প্রজ্ঞাপন সংশোধন করে নতুন প্রজ্ঞাপনটি গত ৩০ অক্টোবর জারি করেছে এনবিআর। সংশোধিত প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, এ বিধিমালা আমদানি, রফতানি, ট্রানজিট, ট্রানসশিপমেন্টসহ অনুরূপ ক্ষেত্রে কাস্টমস-পোর্টের সঙ্গে কাস্টমস স্টেশন, কাস্টমস ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো, কাস্টমস ইনল্যান্ড ওয়াটার কনটেইনার, টার্মিনাল, রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল ও অর্থনৈতিক অঞ্চলে পণ্য পরিবহন এবং সিলিং কার্যক্রমের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।

এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম কাস্টমসের কমিশনার মো. ফখরুল আলম বণিক বার্তাকে বলেন, ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি এখানে সরকারের রাজস্ব ও দেশের স্বার্থও রয়েছে। এখন বিধানটি বাস্তবায়ন করতে হবে ব্যবসায়ী, কাস্টমস এবং যারা সেবাটি দেবে তাদের সমন্বয়ে।

তবে সংশোধিত প্রজ্ঞাপনটির বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন এনবিআর ও চট্টগ্রাম কাস্টমসের ঊর্ধ্বতন একাধিক কর্মকর্তা। তারা বলেন, ব্যবসায়ীদের বিরোধিতার কারণে আগের প্রজ্ঞাপনটিই বাস্তবায়ন করা যায়নি। এখন নতুনভাবে সেবার পরিসর বাড়িয়ে দেশব্যাপী করা হয়েছে। নতুন প্রজ্ঞাপন জারির পর এক মাস পার হয়ে গেলেও বাস্তবায়নের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

এনবিআরের বিধিমালা অনুযায়ী, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের আমদানি বা রফতানি পণ্যের কনটেইনারের মাধ্যমে এ লক বা সিল সেবা দেয়া হবে। কনটেইনারে ইলেকট্রনিক সিল ও লক সেবা দেয়া হবে। এর পাশাপাশি প্রতি কাভার্ড ভ্যান বা ট্রাক পণ্য সিল বা লক করা যাবে। সেবার বিপরীতে প্রথম ৪৮ ঘণ্টার জন্য ৬০০ টাকা এবং এর পরের প্রতি ঘণ্টায় ৫০ টাকা করে দিতে হবে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, শুল্কমুক্ত সুবিধায় আনা পণ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এ ধরনের বিধিবিধানের প্রাসঙ্গিকতা রয়েছে। কিন্তু বাণিজ্যিক খাতে আমদানি হওয়া পণ্যে কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে যথাযথ শুল্ক পরিশোধ করার পরও আবার কেন বাড়তি ব্যয় করতে হবে? পণ্য রফতানির ক্ষেত্রেও চাহিদা অনুযায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই পণ্য জাহাজীকরণ হয়।

পোশাক রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান ফোর