চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) রেকর্ড পরিমাণ মুনাফা অর্জন করেছে মার্কিন জ্বালানি প্রতিষ্ঠান এক্সনমোবিল ও শেভরন। বিশ্ববাজারে জ্বালানির ঊর্ধ্বমুখিতার কারণে মুনাফায় উল্লম্ফন হয়েছে প্রতিষ্ঠান দুটির। একই সঙ্গে ব্যয়ের দিকেও সচেতন দৃষ্টি রয়েছে দুই জ্বালানি জায়ান্টের।

সিএনবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, দ্বিতীয় প্রান্তিকে ১১ হাজার ৬২০ কোটি ডলার মুনাফা করেছে শেভরন। গত বছরের একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটির মুনাফা ছিল মাত্র ৩০৮ কোটি ডলার। দ্বিতীয় প্রান্তিকের ফলাফল বিশ্লেষকদের পূর্বাভাসকেও ছাড়িয়ে গিয়েছে।

চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে এক্সনের মুনাফা ছিল ১ হাজার ৭৯০ কোটি ডলার। গত বছরের একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটির মুনাফা ছিল ৪৭০ কোটি ডলার।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে অর্থনৈতিক মন্দা নিয়ে আশঙ্কা এখনো কাটেনি। এর মধ্যেও এ বছরের জুনে জ্বালানি খাতের আয় কয়েক বছরের সর্বোচ্চে ছিল। জ্বালানি খাতের পরই সবচেয়ে ভালো অবস্থা ছিল উপযোগ খাতের।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রুশ সেনাবাহিনীর আক্রমণের জের ধরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকে। বিভিন্ন দেশে ক্রমে ঘনীভূত হয় জ্বালানি সংকট। অথচ বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের বিরাট একটি অংশ আসে যুদ্ধরত দেশ দুটি থেকে। যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনের পক্ষে কোনোভাবেই তা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। অন্যদিকে রাশিয়াকে বয়কটের ডাক দিয়েছে পশ্চিমা মহল। জ্বালানি সরবরাহের জন্য রাশিয়ার বিকল্প ভাবছে ইউরোপ।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদন বাড়ানোর ওপর জোর দেন। জ্বালানি ব্যয় বাড়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতির হার গত চার দশকের সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। এর বিপরীতে প্রতিষ্ঠানগুলোর তরফ থেকে জানানো হয়, তারা উৎপাদন বাড়াচ্ছে। তবে তারা বেশ কয়েকটি চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। এর মধ্যে অন্যতম রয়েছে শ্রমবাজারে প্রতিকূলতা।

এক বিবৃতিতে শেভরনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাইক উইর্থ বলেন, গত বছরের তুলনায় আমরা সার্বিক বিনিয়োগ দ্বিগুণ করেছি। গত বছরের তুলনায় এ বছর পারমিয়ান বেসিনে প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন ১৫ শতাংশ বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কার্যক্রমের ক্ষেত্রে দ্বিতীয় প্রান্তিকে ব্যারেলপ্রতি জ্বালানি তেলের গড় বিক্রয়মূল্য ছিল ৮৯ ডলার। গত বছরের একই সময়ে বিক্রয়মূল্য ছিল ৫৪ ডলার। অন্যদিকে প্রাকৃতিক গ্যাসের গড় বিক্রয়মূল্য প্রতি হাজার ঘনফুটের জন্য দাঁড়িয়েছে ৬ ডলার ২২ সেন্ট। অথচ গত বছরের একই সময়ে বিক্রয়মূল্য ছিল ২ ডলার ১৬ সেন্ট। পাশাপাশি পুনঃক্রয় প্রকল্পও বাড়িয়েছে অয়েল জায়ান্টটি।