ঈদুল আজহার মূল আকর্ষণ পশু কোরবানি। কোরবানিকৃত পশুর মাংস দিয়ে তৈরি হয় বাহারি সব খাবার। আর এসব খাবার তৈরিতে অন্যতম উপাদান বিভিন্ন ধরনের মসলা। প্রতিবারই কোরবানির ঈদের আগে সরগরম থাকে মসলার বাজার। এবার দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। মসলার পাইকারি বাজার স্থিতিশীল থাকেলও বিপরীত চিত্র খুচরা বাজারে। পাইকারি বাজারে গরম মসলার দাম কম থাকলেও শুকনো মরিচের দাম বেড়েছে দুই বাজারেই। এ তালিকায় রয়েছে জিরা, তেজপাতা ও ধনিয়া।
ঈদবাজারে মসলার দাম স্থিতিশীল হওয়ার কারণ সম্পর্কে ব্যবসায়ীরা বলছেন, দুই কারণে পাইকারি বাজারে বাড়েনি মসলার দাম। বন্যা পরিস্থিতি ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার কারণে বাজারে ক্রেতার আনাগোনা কম। পাশাপাশি চাহিদার চেয়ে মসলার জোগান বেশি থাকায় দাম বাড়েনি। গত বছরও মসলার দাম সহনশীল ছিল।
রাজধানীর বিভিন্ন বাজারদর বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পাইকারি বাজারে মানভেদে এলাচের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ২০০ টাকায়। এক মাস আগে এলাচের কেজি ছিল ১ হাজার ৪০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা। এ হিসাবে কেজিতে এলাচের দাম কমেছে কেজিপ্রতি ২০০ টাকা পর্যন্ত। এলাচের দাম কমলেও অপরিবর্তিত রয়েছে লবঙ্গ ও দারুচিনির দাম। পাইকারিতে লবঙ্গের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৪০ থেকে ১ হাজার ৬০ টাকা। এছাড়া দারুচিনির কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩১০ থেকে ৩৯০ টাকা।
বাজারে ভারত থেকে আমদানি করা জিরার দাম প্রতি কেজিতে বেড়েছে ৫ টাকা। পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি জিরা বিক্রি হচ্ছে ৩৮৫-৩৯০ টাকা দরে। কিছুদিন আগে যা ছিল ৩৮০-৩৮৫ টাকা। অন্যদিকে আফগানিস্তান থেকে আমদানি করা জিরার দাম অপরিবর্তনীয়। প্রতি কেজি আফগানি জিরা বিক্রি হচ্ছে ৪০০-৪১০ টাকায়।
এদিকে পাইকারি বাজারে গরম মসলার দাম অপরিবর্তিত থাকলেও বেড়েছে শুকনো মরিচের দাম। দেশী শুকনো মরিচের কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৮০-৩৫০ টাকা, যা কিছুদিন আগে ছিল ২২০-২৬০ টাকার মধ্যে। আর আমদানি করা শুকনো মরিচের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩৫০-৪২০ টাকা, যা কিছুদিন আগে ছিল ৩০০-৩৮০ টাকা।
খুচরা বাজারের পরিস্থিতি পাইকারি বাজারের ঠিক বিপরীত। এলাকাভেদে খুচরা বাজারগুলোয় মসলার দাম বেশি রাখা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ক্রেতারা। জুরাইনের বাসিন্দা রোকসানা বেগম বলেন, জানতে পেরেছি এবার মসলার দর কম। কিন্তু বাজারে গিয়ে দেখি দাম চড়া। জিরা কিনেছি ৪৫০ টাকা কেজি দরে। এলাচ কিনেছি দেড় হাজার টাকা কেজি দরে। খুচরা বাজারে সব মসলার দামই বেশি।
কারওয়ান বাজারের পাইকারি বিক্রেতা রাসেল ব্যাপারী বলেন, খুচরা বাজারে অল্প পরিমাণে মসলা বিক্রি হয়। বিক্রেতারা ইচ্ছামতো দাম রাখতে পারেন। কিন্তু পাইকারি বাজারে সে সুযোগ নেই।
এ সম্পর্কে জানতে চাইলে পোস্তগোলার মসলাবিক্রেতা আবদুল হালিম বলেন, পাইকারি মসলার বাজার স্থিতিশীল। খুচরা বাজারে দাম বেশি। ১০ থেকে সর্বোচ্চ ১০০ টাকা পর্যন্তও কেজিতে বেশি রাখা হচ্ছে বিভিন্ন মসলার দাম। কিশমিশের দাম ৪০০-৫০০ টাকার মধ্যে। লবঙ্গ ১ হাজার ২০০-১ হাজার ৫০০, দারুচিনি কেজিপ্রতি ৩০০-৫৫০, জায়ফল ৬৫০-৭৯৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া জয়ত্রি ২ হাজার ২০০-৩ হাজার, আলুবোখারা ৫৫০-৬৭০, পাঁচফোড়ন ১৫০-৩২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।










