চট্টগ্রামে শিল্পবর্জ্য দূষণ প্রতিরোধ এবং কারখানা মনিটর করার জন্য আইপি ক্যামেরা (ইন্টারনেট প্রটোকল ক্যামেরা) স্থাপনে ২০১৯ সালে নির্দেশনা দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। তবে গত চার বছরেও মাত্র ৫০টি কারখানায় আইপি ক্যামেরা স্থাপিত হয়েছে। এখনো শতাধিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপন করেনি আইপি ক্যামেরা। তবে ক্যামেরা স্থাপন না করা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে এবার কঠোর হচ্ছে পরিবেশ অধিদপ্তর। কোনো কারখানা তাদের নির্দেশনা না মানলে নবায়ন ছাড়পত্র দেয়া বন্ধ করে দিয়েছে সংস্থাটি । অবশ্য সরকারি নির্দেশনা মানতে আইপি ক্যামেরা স্থাপনে আরো সময় চান উদ্যোক্তারা।

চট্টগ্রাম পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকায় পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র আছে ২৭৩টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের। এর মধ্যে বেশকিছু প্রতিষ্ঠানের ইটিপি প্রয়োজন নেই। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৪১টি সিইটিপির সঙ্গে যুক্ত। আলাদাভাবে ১৩২ প্রতিষ্ঠানের ইটিপি থাকায় তাদের নিয়মিত মনিটর করে পরিবেশ অধিদপ্তর। এ ১৩২ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি নিয়ে মাত্র ৪০টি শিল্প-কারখানায় এখন পর্যন্ত নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় আইপি ক্যামেরা স্থাপন করেছে। এছাড়া আরো প্রায় ১০টির মতো প্রতিষ্ঠান আইপি ক্যামেরা লাগানোর অনুমতি নিতে আবেদন করেছে চট্টগ্রাম মহানগর পরিবেশ অধিদপ্তর কার্যালয়ে।

অন্যদিকে চট্টগ্রাম পরিবেশ অধিদপ্তরের মহানগর বাদে জেলা পর্যায়ের স্থাপনকৃত কারখানাগুলোয় আইপি ক্যামেরা স্থাপন করতে পেরেছে মাত্র ১০টি প্রতিষ্ঠান। জেলায় কারখানার সংখ্যা আছে দেড় শতাধিক। যেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ইটিপি স্থাপন বাধ্যতামূলক, ওইসব প্রতিষ্ঠানে আইপি ক্যামেরা স্থাপন করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। 

পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, আমাদের কাছে গোপনীয়ভাবে খবর আসে শিল্প-কারখানাগুলো নিয়মিতভাবে পরিচালনা করার সময়ে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিশোধনে ইটিপি বন্ধ রাখেন। কিন্তু আমরা অভিযানে গেলে বেশির ভাগ সময়ে তারা আগেভাগে খবর পেয়ে ইটিপি চালু রাখেন। অনেককে আমরা হাতেনাতে ধরতে পারি এবং তাদের বিরুদ্ধে জরিমানা বা মামলাসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। তবে এখন প্রধানমন্ত্রী দপ্তরের একটি নির্দেশনা আসায় আমাদের কাজ অনেকটা কমে গেছে। এখন যেসব কারখানায় ইটিপি আছে, সেখানে তারা উন্নত প্রযুক্তির আইপি ক্যামেরা স্থাপন করবে। সেই আইপি ক্যামেরা ইন্টারনেটের সার্ভারের সঙ্গে আমাদের পরিবেশ অধিদপ্তরে কানেক্ট থাকবে। তারা সেই আইপি ক্যামেরাগুলোর আইডি ও পাসওয়ার্ড আমাদের কাছে জমা দেবে। সেখান থেকে আমরা আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে কারখানার কার্যক্রম নিয়মিত মনিটর করব। 

পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক (মেট্রো) হিল্লোল বিশ্বাস বণিক বার্তাকে বলেন, ‘শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোয় আইপি ক্যামেরা দ্রুত লাগানোর জন্য নোটিস বা নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। যারা এ নির্দেশনা মানবে না তাদের কোনো ছাড়পত্র নবায়ন সনদ দেবে না পরিবেশ অধিদপ্তর। তবে যারা আমাদের নির্দেশনা অনুযায়ী আইপি ক্যামেরা লাগানোর জন্য আমাদের পরামর্শ নিচ্ছেন তাদের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তর সব ধরনের সহায়তা করছে। 

পরিবেশ অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য বলছে, আইপি ক্যামেরা বাসানোর জন্য যেসব প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশনা সংবলিত চিঠি দেয়া হয়েছে তাদের মধ্যে যারা এখনো ক্যামেরা স্থাপন করেননি তাদের নবায়ন ছাড়পত্র দেয়া বন্ধ রেখেছে পরিবেশ অধিদপ্তর মহানগর কার্যালয়। অর্ধশতাধিক প্রতিষ্ঠানের ছাড়পত্র নবায়ন আটকে রেখেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। তবে শিল্পোদ্যোক্তারা আরো সময় চেয়েছেন পরিবেশ অধিদপ্তরের কাছে।

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা জানান, ছাড়পত্র নবায়নে ক্যামেরা স্থাপন বাধ্যতামূলক করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। সেজন্য যেখানে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বা ইটিপি চালানো হয়, সেখানে ক্যামেরা লাগানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রতিষ্ঠানগুলো। তবে অনেক সময় ক্যামেরা লাগালেও সফটওয়্যারের জটিলতার কারণে ডিডিও ফুটেজ পরিষ্কার না হওয়ায় সেটা বাতিল করা হয়েছে। তবে আমরা ভালো মানের ক্যামেরা বসানোর জন্য কাজ করছি। আশা করছি, পরিবেশ অধিদপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হবে। 

আইপি ক্যামেরার কারিগরি বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মিয়া মাহমুদুল হক বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আইপি ক্যামেরা স্থাপন পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো প্রকল্প নয়। প্রধানমন্ত্রী দপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা কারখানাগুলোয় এ ক্যামেরা বসানোর নির্দেশনা দিই। মূলত এ ক্যামেরা বসিয়ে কারখানাগুলোকে মনিটর করাই আমাদের কাজ। তবে একসঙ্গে মনিটর করার জন্য একটি সেন্ট্রাল অ্যাপসের তৈরি করা হলে যেকোনো জায়গা থেকে বসে কারখানাগুলোর কার্যক্রম মনিটর করা সম্ভব হবে। নয়তো একেকটি আইপি ক্যামেরার সফটওয়্যার আলাদা হওয়ায় সেগুলো একসঙ্গে মনিটর করা কষ্টসাধ্য। তবে মন্ত্রণালয় বিষয়টি সমাধানে কাজ করছে।