স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের পর ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) জিএসপি প্লাস সুবিধা পেতে বাংলাদেশকে ৩২টি কনভেনশনের শর্তের দীর্ঘ তালিকা বাস্তবায়ন করতে হবে। এসব চুক্তি পরিবেশ, শ্রম ও মানবাধিকার সংক্রান্ত।
রাজধানীর তেজগাঁওয়ে গতকাল ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরাম অব বাংলাদেশ (আইবিএফবি) আয়োজিত ডিউ ডেলিজেন্স ল’স শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা জানান ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত চার্লস হুইটলি।
আইবিএফবি সভাপতি হুমায়ুন রশীদের সভাপতিত্বে বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডেপুটি হেড অব ইইউ মিশন বার্নড স্প্যানিয়ার। অনুষ্ঠানে আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি ফারুক হাসান, নিট পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন এবং আইবিএফবি সহসভাপতি এমএস সিদ্দিকী। অনুষ্ঠান শেষে ধন্যবাদ জানান আইবিএফবি উপদেষ্টা মুহাম্মদ আবদুল মজিদ।
ইইউ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ডিউ ডিলিজেন্স আইন না মানলে নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারে বাংলাদেশ। পাশাপাশি জরিমানার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগের জন্য ব্র্যান্ডগুলোকে বাধ্য করা হবে।
বৈঠকে ইইউ রাষ্ট্রদূত চার্লস হোয়াইটলি বলেন, ‘যে ডিউ ডিলিজেন্স আইন করা হয়েছে, তা শুধু ক্রেতা-বিক্রেতার বিষয় না, সরবরাহ চেইনের সঙ্গে যুক্ত সবার পালনের জন্যই তা করা হয়েছে। এসব নিয়ম-কানুনের মধ্যে শিশুশ্রম, বাধ্যতামূলক শ্রম, দাসত্ব, বন ধ্বংস, পরিবেশ দূষণ, ইকোসিস্টেমের ক্ষতি ও মানবাধিকারের মতো বিষয় রয়েছে। সুতরাং এসব শুধু ইউরোপীয় ইউনিয়নের একার স্বার্থ নয়, এর সঙ্গে বৈশ্বিক স্বার্থ যুক্ত।’
বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, ‘বাণিজ্যের ক্ষেত্রে গত কয়েক বছরে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বেশকিছু বিধিবিধান পাস হয়েছে। যদিও এসবের মূল সারমর্ম প্রায় একই। তার পরও প্রতিটির জন্য আলাদা নিরীক্ষা করতে হয়। এটি নিঃসন্দেহে সময় ও আর্থিক দিক থেকে টেকসই না। সুতরাং আইনগুলো সর্বজনীন ও বৈশ্বিকভাবে পালনযোগ্য হওয়া উচিত।
মূল প্রবন্ধে বার্নড স্প্যানিয়ার বলেন, ‘স্থানীয় দুর্বল নিয়ম ও কম দামে ক্রয়াদেশ নেয়ার অসুস্থ প্রতিযোগিতার কারণে বৈশ্বিক সরবরাহ খাতে অনেকেই নিয়ম-কানুন মেনে চলেন না। আমরা বাংলাদেশে রানা প্লাজা ধসের ঘটনা এবং নভেল করোনাভাইরাস মহামারীর সময় কিছু ব্র্যান্ড ও ক্রেতাদের দায়িত্বহীন আচরণ দেখেছি। এসব ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দিয়েছে, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো স্বেচ্ছায় নিয়ম-কানুন মানছে না। এজন্য সরবরাহ খাতে সুশাসন থাকা প্রয়োজন। এ বাস্তবতায় ইইউ কিছু আবশ্যক পালনীয় আইন বাস্তবায়ন করছে।’









