ভারতের ধান-চাল উৎপাদনকারী রাজ্যগুলোয় বছরের শুরু থেকেই চমত্কার আবহাওয়া বিরাজ করছে। এর প্রভাব পড়েছে কৃষিপণ্যের উৎপাদনে। মার্কিন কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) ফরেন এগ্রিকালচার সার্ভিস জানিয়েছে, আবহাওয়া ভালো থাকায় ২০২০-২১ মৌসুমে রেকর্ড পরিমাণ চাল উৎপাদনের কাছাকাছি পর্যায়ে অবস্থান করছে ভারত। একই সঙ্গে এ মৌসুমে দেশটিতে গম উৎপাদনেও নতুন রেকর্ড হতে পারে। খবর ওয়ার্ল্ডগ্রেইনডটকম।
ইউএসডিএর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২০-২১ মৌসুমে ভারতে সব মিলিয়ে ১১ কোটি ৭০ লাখ টন চাল উৎপাদন হতে পারে। মাটির সঠিক আর্দ্রতা, পরিমিত তাপমাত্রা ও ধানের চারা বেড়ে ওঠার সময়ে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের কারণে দেশটিতে এ মৌসুমে ধানের রোপণ ও উৎপাদন বৃদ্ধির সম্ভাবনা আরো জোরদার হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
এ মৌসুমে ভারতে ধানের হেক্টরপ্রতি ফলন দাঁড়াতে পারে ৪ টনে, যা অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেক বেশি। মূলত হেক্টরপ্রতি ফলন বৃদ্ধি ভারতে চালের উৎপাদন বাড়িয়ে দিতে অন্যতম প্রধান ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। গত কয়েক দশক ধরে ভারতে ধানের আবাদি জমির পরিমাণ ক্রমেই কমে আসছে। নগরায়ণের জন্য জমির চাহিদা বৃদ্ধি ও অধিক লাভজনক ফসল উৎপাদনের প্রবণতা কৃষকদের ধান আবাদে অনাগ্রহী করে তুলছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এসে একরপ্রতি ফলন বৃদ্ধি ভারতে চালের উৎপাদন বাড়িয়ে তোলার পেছনে ভূমিকা রাখছে।
ইউএসডিএর প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, উচ্চফলনশীল নতুন নতুন জাতের ধান আবাদ কৃষিপণ্যটির ফলন বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে। এছাড়া উন্নত কৃষি অনুশীলন ও সেচ সুবিধার সম্প্রসারণ ঘটায় দেশটিতে ধান-চালের উৎপাদন ক্রমেই বাড়ছে।
ভারত এখন অবধি বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ চাল উৎপাদনকারী দেশ। তবে বিশ্বের অন্য যে কোনো দেশের তুলনায় ভারতে ধানের একরপ্রতি ফলনের হার বেশ কম। ধানের প্রধান উৎপাদনকারী রাজ্যগুলোতে শস্য আবাদের ব্যাপক পরিবর্তন এক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। তবে খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, সময় এখনো ফুরিয়ে যায়নি। সেচ সুবিধার আরো সম্প্রসারণ, উচ্চফলনশীল নতুন জাতের ধান রোপণ এবং কৃষিতে বিভিন্ন আধুনিক প্রযুক্তি ও যন্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে দেশটিতে ধান-চালের উৎপাদন বৃদ্ধির আরো সুযোগ রয়েছে।
উৎপাদন বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ভারতে চাল ব্যবহারের হারও বাড়ছে। ইউএসডিএর প্রাক্কলন অনুযায়ী, ২০১৯-২০ মৌসুমে দেশটি চালের ব্যবহার বেড়ে ১০ কোটি ২০ লাখ টন ছুঁতে পারে, আগের মৌসুমের তুলনায় যা ৩ শতাংশ বেশি। ২০২০-২১ মৌসুমে তা আরো বেড়ে ১০ কোটি ৮০ লাখ টনে উন্নীত হতে পারে। এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় চালের চাহিদা বৃদ্ধির জের ধরে এ সময় দেশটি থেকে পণ্যটির রফতানিতে চাঙ্গা থাকতে পারে। ইউএসডিএর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২০-২১ মৌসুমে দেশটি থেকে সব মিলিয়ে ১ কোটি ২০ লাখ টন চাল রফতানির সম্ভাবনা রয়েছে।
অনুকূল আবহাওয়ার জের ধরে শুধু চাল নয়, ২০২০-২১ মৌসুমে গম উৎপাদনেও রেকর্ড করতে পারে ভারত। ইউএসডিএর পূর্বাভাস অনুযায়ী, এ সময়ে ভারতে সব মিলিয়ে ১০ কোটি ৫০ লাখ টন গম উৎপাদন হতে পারে। দেশটিতে গত চার বছর ধরে খাদ্যপণ্যটির উৎপাদন চাঙ্গা রয়েছে। নতুন ও উচ্চফলনশীল জাতের আবাদ ও আবাদি জমির পরিমাণ বৃদ্ধি কৃষিপণ্যটির উৎপাদন বাড়াতে অন্যতম প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে।
কয়েক বছর স্থিতাবস্থার পর ২০২০-২১ মৌসুমে ভারতে গমের অভ্যন্তরীণ ব্যবহার বাড়তে পারে। ইউএসডিএর তথ্য অনুযায়ী, অভ্যন্তরীণ বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ ও দাম নাগালের মধ্যে থাকায় ২০২০-২১ মৌসুমে ভারতে খাদ্যপণ্যটির ব্যবহার বেড়ে ৯ কোটি ৩০ লাখ টন ছাড়াতে পারে। তবে টানা রেকর্ড উৎপাদন দেশটির গমের মজুদ প্রত্যাশার তুলনায় বাড়িয়ে দিয়েছে। ২০১৯-২০ মৌসুমে দেশটিতে খাদ্যপণ্যটির সমাপনী মজুদ দাঁড়াতে পারে ২ কোটি ৪০ লাখ টনে, যা আগের বছরের তুলনায় ৭০ লাখ টন বেশি এবং ন্যূনতম বাফার স্টকের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি। ভারতে গমের বাফার স্টক ধরা হয় ৭৫ লাখ টন।









