সাতক্ষীরার পাইকারি ও খুচরা বাজারে কমেছে রসুনের দাম। ১৫ দিনের ব্যবধানে কেজিতে ২৫-৩০ টাকা পর্যন্ত কমে বিক্রি হচ্ছে এ মসলাপণ্য। গতকাল সাতক্ষীরা জেলা সদরের সুলতানপুর বড় বাজারের কয়েকটি মসলার আড়ত ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ঘুরে এ তথ্য জানা গেছে।
ব্যবসায়ী ও আড়তদাররা বলছেন, সরবরাহ বাড়ার পাশাপাশি বাজারে নতুন রসুন ওঠায় দাম কমছে পণ্যটির। আগামী দিনগুলোয় দাম আরো কমার সম্ভাবনা দেখছেন তারা।
সুলতানপুর বড় বাজারের মসলার আড়ত মেসার্স মামা-ভাগ্না ভাণ্ডারে গতকাল প্রতি কেজি রসুন পাইকারিতে বিক্রি হয় ৯০-৯৫ টাকায়। দুই সপ্তাহ আগেও বিক্রি হয়েছিল ১২০-১২৫ টাকায়। দাম কমে যাওয়ার বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী মো. জহুরুল হক জানান, সরবরাহ বাড়ার পাশাপাশি বাজারে নতুন রসুন আসার কারণে দাম কমতির দিকে। রসুনের পাশাপাশি পেঁয়াজের দামও কমে গেছে। প্রতি কেজি ৫০-৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি রসুন ১০০-১০৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কয়েকজন খুচরা ব্যবসায়ী জানান, পাইকারিতে দাম কমে যাওয়ায় খুচরা বাজারেও তার প্রভাব পড়েছে। ১৫-১৬ দিন আগেও সাতক্ষীরার খুচরা বাজারে রসুন বিক্রি হয়েছে ১৩০-১৩৫ টাকা কেজি দরে।
অন্যদিকে সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম জানান, চলতি মৌসুমে ২ হাজার ৫৬০ টন উৎপাদন লক্ষ্য নিয়ে জেলার সাতটি উপজেলায় ৩২০ হেক্টর জমিতে রসুন চাষ করা হয়েছে। এরই মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ রসুন জমি থেকে উত্তোলন করা হয়েছে।
সাতক্ষীরা জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা এসএম আব্দুল্লাহ জানান, রসুন ও পেঁয়াজসহ অন্যান্য মসলার দাম কমতির দিকে। তাছাড়া রমজান বা ঈদ উপলক্ষে কোনো ব্যবসায়ী মসলার দাম যাতে বাড়াতে না পারেন, সেজন্য সার্বক্ষণিক তদারক করা হচ্ছে।
ভোমরা শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব শাখা থেকে জানা গেছে, চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসে এ বন্দর দিয়ে রসুন আমদানি হয়েছে ১৩ হাজার ১৭১ টন, যার আমদানি মূল্য ২০৭ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। গত অর্থবছরের একই সময় আমদানি হয়েছিল ৭ হাজার ৩১৯ টন, যার আমদানি মূল্য ছিল ১০৭ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। সে হিসেবে আমদানি বেড়েছে ৫ হাজার ৮৫২ টন।










