সাতক্ষীরা জেলায় মসলাজাত পণ্য আদা ও রসুনের উৎপাদন কমে যাচ্ছে। গত মৌসুমের তুলনায় চলতি মৌসুমে ফসল দুটির উৎপাদন কমেছে অন্তত ২৪০ টন। সংশ্লিষ্ট কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ জানিয়েছে, আদা উৎপাদনে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হয়। এ কারণে এটি চাষ করতে এলাকার কৃষকরা খুব একটা আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। একই সঙ্গে মাটি ও আবহাওয়াগত কারণে উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরায় রসুনের উৎপাদনেও আশাব্যঞ্জক ফলাফল পাওয়া যায় না।
সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি মৌসুমে জেলায় রসুন উৎপাদন হয়েছে ৩ হাজার ৩০০ টন, গত মৌসুমের তুলনায় যা ৫০০ টন কম। এছাড়া গত মৌসুমে জেলায় ৪৪৫ হেক্টর পরিমাণ জমিতে রসুন উৎপাদন হয়েছিল ৩ হাজার ৭০০ টন। সেখানে চলতি মৌসুমে জেলায় ৪৩৫ হেক্টর জমিতে রসুন উৎপাদন হয়েছে ৩ হাজার ৩০০ টন। ফলে গত মৌসুমের তুলনায় চলতি মৌসুমে ফসলটির উৎপাদন কমেছে ৪০০ টন। এদিকে চলতি মৌসুমে আদা চাষ হয় ২০ হেক্টর জমিতে। এ সময় উৎপাদন হয়েছে মাত্র ১৬০ টন। আগের মৌসুমে জেলায় ২৫ হেক্টর জমিতে উৎপাদন হয়েছে ২০০ টন আদা। এ হিসাব অনুযায়ী চলতি মৌসুমে ৪০ টন আদা উৎপাদন কমেছে।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার মাহমুদপুর গ্রামের কৃষক রবিন মণ্ডল চলতি মৌসুমে এক বিঘা জমিতে রসুন উৎপাদন করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, সব মিলিয়ে প্রায় এক টন পরিমাণ রসুন উৎপাদন হয়েছে তার। উৎপাদন কম হলেও অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার রসুনের দাম বেশ ভালো পাওয়া যাচ্ছে। রবিন বলেন, ‘গত বছরের এ সময় বাজারে রসুন বিক্রি করেছি পাইকারি প্রতি কেজি ৪০-৪৫ টাকা দরে। বর্তমান বাজারে রসুনের দাম ৭৫-৮০ টাকার দর যাচ্ছে। বাজারের বর্তমান দাম অনুযায়ী উৎপাদন খরচ বাদে ৩০-৩৫ হাজার টাকা লাভ হতে পারে।’
এদিকে তালা উপজেলার কুমিরা গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি তিনি কিছু আদা চাষ করেছেন। তবে ফসলটি উৎপাদন করতে প্রায় এক বছর সময় পার হয়ে যায়। ফলে বাণিজ্যিকভাবে আদা চাষে আগ্রহ থাকে না। প্রতি বিঘায় ১ টনের ওপর উৎপাদন হয় ফসলটির। কিন্তু এ সময়ের মধ্যে অন্য তিনটি ফসল উৎপাদন করা যায়। গত বছর একই পরিমাণ জমিতে আদা উৎপাদন করে ২৫ হাজার টাকা লাভ হয়েছে বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আদা চাষে সময় লাগে প্রায় ১০ মাস। ফলে আগ্রহ কমে যাচ্ছে চাষীদের। অন্যদিকে জেলার মাটি ও আবহাওয়ার কারণে দেশের অন্যান্য জেলার তুলনায় সাতক্ষীরায় রসুন উৎপাদন খুব ভালো হয় না। তবে এখন বারি-জাতের রসুন বীজ রোপণ করায় আগামীতে উৎপাদন আরো বাড়বে বলে আশা করছি।’










