আমেরিকানরা প্রতিদিনের হালকা খাবার বা স্ন্যাকস নির্বাচনের জন্য এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের সাহায্য নিচ্ছে। স্লিম জিম প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান কনাগ্রা ব্র্যান্ডস সম্প্রতি এমন এক তথ্য প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, এআইয়ের ব্যবহারের কারণে কড়া স্বাদ ও বেশি প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার এবং নির্দিষ্ট শারীরিক সুরক্ষার উপযোগী পণ্যের চাহিদা হুট করেই বেড়ে গেছে। খবর রয়টার্স।

ওজন কমানোর দাবি করা ওষুধের ব্যাপক জনপ্রিয়তা ও হোয়াইট হাউজের ‘মেক আমেরিকা হেলদি অ্যাগেইন’ উদ্যোগের কারণে খাদ্যাভ্যাসে এমন পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকে। এখন সাধারণ গ্রাহকরা যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর খাবার খুঁজছে।

যুক্তরাষ্ট্রের স্ন্যাকস বাজারের আকার বর্তমানে প্রায় ১৯৮ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার। খাতটি পুরো খাদ্যপণ্যের বাজারের তুলনায় ১ দশমিক ৪ গুণ দ্রুত সম্প্রসারণ হচ্ছে। বাজার পরিস্থিতি বুঝতে কনাগ্রা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান সারকানা যৌথভাবে কাজ করেছে। দুই সংস্থা ১৭ হাজার পণ্যের ওপর ৫ কোটি ৩০ লাখের বেশি লেনদেনের তথ্য বিশ্লেষণ করেছে।

কনাগ্রার গ্রোথ সায়েন্স বিভাগের জ্যেষ্ঠ ভাইস প্রেসিডেন্ট বব নোলান জানান, করোনাকালের পরবর্তী ছয় বছরে খাদ্যগ্রহণের সংস্কৃতি যতটা বদলেছে, তা গত ৫০ বছরেও দেখা যায়নি।

তিনি বলেন, ‘এখন স্ন্যাকস শুধু সময় কাটানোর খাবার নয়। এটি মানুষের ব্যক্তিগত জীবনের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেউ প্রোটিনের মাত্রা বাড়াতে চায়, কেউ চায় শক্তি, আবার কেউ স্বস্তির জন্য স্ন্যাকস পছন্দ করে।’

বিশ্লেষকদের মতে, এ পরিবর্তনের মূল চালিকাশক্তি কেবল স্বাস্থ্য সচেতনতা নয়। তরুণ প্রজন্ম, বিশেষ করে জেন-জি ভোক্তারা এখন কড়া স্বাদের স্ন্যাকস খুঁজছে। মিষ্টি-ঝাল বা টক ও নোনতা স্বাদের সংমিশ্রণ এখন তাদের কাছে খুব প্রিয়। একই সঙ্গে ক্রেতারা এখন যেকোনো পণ্যের উপাদান খতিয়ে দেখছে। কী কিনবে তা ঠিক করতে অনেকেই চ্যাটজিপিটির মতো এআই টুল ব্যবহার করছে। ক্রেতারা নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের নাম না খুঁজে এআইকে বলছে, ‘এমন স্ন্যাকসের নাম বলো যাতে বেশি প্রোটিন বা ফাইবার আছে।’

বাজারের তথ্য বলছে, এআই ও স্বাস্থ্য সচেতনতার কারণে ঐতিহ্যবাহী স্ন্যাকসগুলোর চাহিদা এখন কমে এসেছে। কুকিজ কিংবা অতিরিক্ত লবণাক্ত চিরাচরিত স্ন্যাকস বিক্রি করতে গিয়ে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে অনেক প্রতিষ্ঠান।