যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ইস্পাত উৎপাদনকারী দেশ। তবে অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণে প্রতি বছর দেশটি প্রচুর ইস্পাত আমদানিও করে। বিদায়ী বছরে দেশটিতে ধাতবপণ্যটির আমদানি আগের বছরের তুলনায় ১৫ শতাংশ কমেছে। আমেরিকান আয়রন অ্যান্ড স্টিল ইনস্টিটিউটের (এআইএসআই) একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। খবর ইয়াহু ও জ্যাকস।

মূলত ইস্পাত আমদানিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত অতিরিক্ত শুল্কের কারণে দেশটির ব্যবসায়ীরা পণ্যটির আমদানি কমিয়েছেন। ২০১৮ সালে ট্রাম্প প্রশাসন দেশটির ট্রেড এক্সপেনশন অ্যাক্ট ১৯৬২ আইনের ২৩২ ধারা অনুযায়ী ধাতুটির আমদানিতে ২৫ শতাংশ বাড়তি কর আরোপ করে।

এআইএসআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক বাজার থেকে সব মিলিয়ে ২ কোটি ৮৬ হাজার ৬০ হাজার টন ইস্পাত আমদানি করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১৫ শতাংশ কম। এর মধ্যে পরিশোধিত ইস্পাত আমদানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১০ লাখ ৮০ হাজার টন, যা ২০১৮ সালের তুলনায় ১৭ দশমিক ৯ শতাংশ কম। যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ পরিশোধিত ইস্পাত আমদানিকারক। বিদায়ী বছরে পণ্যটির মোট বৈশ্বিক আমদানি বাণিজ্যে দেশটির হিস্যা দাঁড়িয়েছে ১৯ শতাংশ, যা ২০১৮ সালের তুলনায় ২৩ শতাংশ কম।

আগের বছরের তুলনায় কমলেও ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে সবচেয়ে বেশি ইস্পাত সরবরাহ করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। দেশটি থেকে ২৬ লাখ ৬ হাজার টন ইস্পাত আমদানি করেছে যুক্তরাষ্ট্র, আগের বছরের তুলনায় যা ৬ শতাংশ কম। এছাড়া জাপান ও জার্মানি থেকে ১২ লাখ ৫৬ হাজার ও ১০ লাখ ৪৬ হাজার টন ইস্পাত আমদানি করেছে দেশটি। আগের বছরের তুলনায় উভয় দেশ থেকেই পণ্যটির আমদানি কমেছে ৯ ও ২২ শতাংশ।

২০১৮ সালের মার্চে ট্রাম্প প্রশাসন দেশটির ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম আমদানির ওপর বাড়তি শুল্ক আরোপ করে। এর পর থেকে দেশটিতে পণ্যগুলোর আমদানি নিম্নমুখী হতে থাকে। ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রে আগের বছরের তুলনায় ইস্পাতের আমদানি ১২ শতাংশ কমে গিয়েছিল।