দেশে ক্যাপ ও ক্যাপজাতীয় পণ্য উৎপাদন ও রফতানি ক্রমেই বাড়ছে। মানে ভালো হওয়ায় ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশী ক্যাপ ও ক্যাপজাতীয় পণ্যের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে ৩৪ কোটি ৫৬ লাখ ৫৯ হাজার ৯২২ ডলারের এ পণ্য রফতানি করে বাংলাদেশ। আর ২০১০-১১ অর্থবছরে রফতানি হয়েছিল ৩ কোটি ৭৪ লাখ ১০ হাজার ৪৮ ডলার। সে হিসাবে গত ১২ বছরে ক্যাপের রফতানি বেড়েছে ১০ গুণ। 

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্যমতে, ২০১০-১১ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে পৃথিবীর ৪৬টি দেশে এ পণ্য রফতানি করা হতো। বর্তমানে প্রায় ৭৮ দেশে রফতানি হয়। এসব ক্যাপের মধ্যে ৭০-৮০ শতাংশ ক্যাপ পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে যায়। বাকি ২৫-৩০ শতাংশ অন্যান্য দেশে রফতানি হয়।

ইপিবি আরো বলছে, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ১৮ কোটি ২৮ লাখ ৭৩ হাজার ৪৯৩ ডলারের পণ্য রফতানি করা হয়। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ২০ কোটি ২৬ লাখ ১০ হাজার ৪১৭ ডলার, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ১৮ কোটি ৭৭ লাখ ৬৪ হাজার ৬৫৬ ডলার, ২০২০-২১ অর্থবছরে ২২ কোটি ৩৮ লাখ ৭৯ হাজার ৯৩ ডলার ক্যাপ রফতানি হয়েছে। তবে ২১-২২ অর্থবছরে রফতানির পরিমাণ ৩৬ কোটি ৪ লাখ ৩২ হাজার ৬৪৫ ডলার ছাড়িয়েছে। আর চলতি অর্থবছরের আট মাসে ৩৪ কোটি ৫৬ লাখ ৫৯ হাজার ৯২২ ডলার ছাড়াল। 

রফতানীকৃত এসব ক্যাপের মধ্যে রয়েছে বিয়ানী পুল, ক্রসেট হ্যাট, ব্রেইডেড স্ট্র, প্লেইন স্ট্র, অ্যাস্কট, আকুবরা ম্যান, বেসবল, ব্রেটন, ফেডোরা, গেটস বাই, কটন বাকেট, সুপার স্ট্রেচ, লং নিট, হান্টিং ওভেন, ফোল্ডেবল ক্যাপ, উইন্টার হ্যাট ক্যাপ প্রভৃতি। এসব ক্যাপের বড় বাজার তৈরি হয় শীত ও গ্রীষ্মকালীন মৌসুমে। ইউরোপের দেশগুলো এসব ক্যাপের বড় বাজার। এসব ক্যাপ রফতানি হয় এমন দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, সুইজারল্যান্ড, কানাডা, জার্মানি, ডেনমার্ক, প্রভৃতি। এছাড়া ধর্মীয় উপলক্ষকে কেন্দ্র করে প্রেয়ার ক্যাপের রফতানি বৃদ্ধি পায়। এসব ক্যাপের বাজারের মধ্যে রয়েছে ভারত, ওমান, সৌদি আরব, মালদ্বীপ, মালয়েশিয়া, নেপাল প্রভৃতি দেশ। 

ইউনিটি ক্যাপস অ্যান্ড হ্যাডস ওয়্যার লিমিটেডের ইউনিটি ক্যাপস অ্যান্ড হ্যাড ওয়্যারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নজরুল ইসলাম বলেন, করোনার ধাক্কায় ক্যাপের বাজার কিছুটা স্তিমিত হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে এ পণ্যের বাজার ভালো অবস্থানে আছে। ইউনিটি এখন প্রতি মাসে ৫ লাখ ডলারের মতো রফতানি করছে। যুক্তরাষ্ট্রে আমাদের ক্যাপের চাহিদা বেশি বলেও জানান তিনি।

ঢাকা ক্যাপস অ্যান্ড মোরের চেয়ারম্যান এম তরিকুল ইসলাম বলেন, গ্রীষ্ম ও শীতকালীন সময়ে দেশের বাইরে থেকে ক্যাপ রফতানি আদেশ বেশি পাওয়া যায়। এ সময় রফতানীকৃত টুপির মধ্যে রয়েছে বেসবল, ম্যাশ, স্ন্যাপ ব্যাক, বাকেট হেড। 

আল কারীম ক্যাপের পরিচালক মো. ইউসুফ বলেন, রমজানের আগে প্রেয়ার ক্যাপের চাহিদা বৃদ্ধি পায়। এ সময় আমাদের মাসিক আয় হয় ৩৫-৪০ লাখ টাকা। রমজানের পরে আবার বিক্রি কমে যায়। শীতকালীন সময়ে আবার হেটস্ জাতীয় পণ্যের চাহিদা বাড়ে। 

চকবাজারের টুপি হাউজের পরিচালক মো. জুবায়ের বলেন, প্রেয়ার ক্যাপের জন্য দেশের বড় বাজার চকবাজার। আগে আমরা শুধু দেশের ক্যাপ বিক্রেতাদের কাছে পাইকারি বিক্রি করতাম, খুচরা বিক্রির হার ছিল কম। কিন্তু সে জায়গা থেকে অনেকেই নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করছেন। অধিকাংশ ব্যবসায়ী দেশের বাইরের মার্কেট নিয়ে চিন্তা করছেন। ফলে এখানকার বাজারটা বড় হচ্ছে। 

রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) পরিচালক (টেক্সটাইল) মাহমুদুল হাসান বলেন, বাংলাদেশে ক্যাপের বড় বাজার ছিল না। আগেও ক্যাপ রফতানি হতো। তবে সাম্প্রতিককালে এ বাজার বড় হচ্ছে। বাজারটি বড় করতে আমরাও ইনসেনটিভ দিচ্ছি। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোয় প্রেয়ার ক্যাপ ও ইউরোপ, আমেরিকার দেশগুলোয় স্পোর্টস ক্যাপের চাহিদা বেশি বলে জানান তিনি।