নারায়ণগঞ্জের নিতাইগঞ্জে গমের দাম মণপ্রতি ৩০-৫০ টাকা কমেছে। ফলে অঞ্চলটিতে নিম্নমুখী হয়েছে আটা-ময়দার দাম।

নিতাইগঞ্জের বাজারে গতকাল খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভালো মানের আটার দাম বস্তাপ্রতি (৫০ কেজি) ১০০ টাকা কমেছে। প্রতি বস্তা আটা বাজারে বর্তমানে বেচাকেনা হচ্ছে ১ হাজার ৮০০ টাকায়। যার কেজিপ্রতি মূল্য দাঁড়ায় ৩৬ টাকা, এটি কয়েক মাস আগে ছিল ৩৮ টাকা।

মানের দিক থেকে কিছুটা নিম্নমানের আটা বাজারে বেচাকেনা হচ্ছে বস্তাপ্রতি ১ হাজার ৬৫০ টাকায় আর কেজিপ্রতি ৩৩ টাকায়, যা এক-দেড় মাস আগে ছিল ৩৪-৩৫ টাকা।

বাজারে ভালো মানের ময়দার দাম বস্তাপ্রতি ২ হাজার ৫০০ টাকা এবং কেজিপ্রতি ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা দেড় মাস আগে ছিল ৫২ টাকা।

এদিকে ইউক্রেনের লাল গম বাজারে বর্তমানে বেচাকেনা হচ্ছে ১ হাজার ২৮০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকায়, যা এক-দেড় মাস আগে ছিল ১ হাজার ৩৫০ টাকা। কানাডার গমের দাম কমেছে মণপ্রতি ৫০ টাকা। বর্তমানে বাজারে পণ্যটি মণপ্রতি ১ হাজার ৫৬০ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে, যা এক মাস আগে ছিল ১ হাজার ৬০০ টাকা। কানাডার কিছুটা নিম্নমানের গমের দাম বর্তমানে মণপ্রতি ১ হাজার ৫০০ টাকা।

অন্যদিকে বাংলাদেশী প্রতি মণ গম বাজারে বেচাকেনা হচ্ছে ১ হাজার ৩২০ টাকায়, যা কিছুদিন আগে ছিল ১ হাজার ৪০০ টাকা। সে হিসাবে দেশী গমের দাম মণপ্রতি ৭০-৮০ টাকা কমেছে।

নারায়ণগঞ্জের নিতাইগঞ্জে ৬০-৭০টি আটা-ময়দার মিল রয়েছে। এসব মিল থেকে উৎপাদিত আটা-ময়দা নদী ও সড়কপথে ৩০টিরও বেশি জেলার মানুষের চাহিদা পূরণ করে। তবে বর্তমানে নিতাইগঞ্জে ক্রেতা আগমন কিছুটা কমেছে। ফলে এসব মিলের কার্যক্রম নিম্নমুখী হয়েছে।

নিতাইগঞ্জের বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার মিলের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ হোসাইন বোখারী জানান, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর বাজারে গমের সিন্ডিকেট ভেঙেছে। ফলে গমের দাম কিছুটা কমেছে। তবে এক মাস ধরে নিতাইগঞ্জে আটা-ময়দার ব্যবসায় মন্দা চলছে।

আটা-ময়দা সমিতির সাবেক সভাপতি শেখ ওয়াজেদ আলী বাবুল বলেন, ‘‌আটা-ময়দার দাম নিম্নমুখী হলেও ক্রেতা না থাকায় বাজারে বেচাকেনা নেই বললেই চলে। ফলে মিলে উৎপাদন কম করতে হচ্ছে। সপ্তাহে শুধু দু-তিনদিন মিল চালানো যাচ্ছে।’