নভেল করোনাভাইরাসের প্রকোপে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক কার্যক্রম শ্লথ হয়ে পড়েছে। একটি বড় ধরনের মন্দার হুমকিতে ঝুলছে বিশ্ববাজার। পৃথিবীর অর্ধেকের বেশি মানুষ লকডাউনে আবদ্ধ হয়ে পড়েছে। পরিবহন খাত ধসে পড়েছে। এ পরিস্থিতি অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের চাহিদায় ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। ইউএস এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ইআইএ) সম্প্রতি চলতি বছরের জন্য জ্বালানি পণ্যটির বৈশ্বিক চাহিদা প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস আরো কমিয়ে এনেছে। খবর রয়টার্স।
ইআইএর তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালে বিশ্বজুড়ে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের চাহিদা প্রবৃদ্ধি কমে দৈনিক গড়ে ৫২ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেলে নামতে পারে। প্রতিষ্ঠানটির আগের মাসের পূর্বাভাসে তা দৈনিক গড়ে ৫৬ লাখ ব্যারেল উল্লেখ করা হয়। তবে আগামী বছর পণ্যটির বৈশ্বিক চাহিদা প্রবৃদ্ধি কিছুটা চাঙ্গা হয়ে উঠতে পারে।
সর্বশেষ মাসভিত্তিক প্রতিবেদনে ইআইএ জানিয়েছে, আগামী বছর জ্বালানি পণ্যটির বৈশ্বিক চাহিদা প্রবৃদ্ধি দৈনিক গড়ে ৪৬ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেল বেড়ে ৬৪ লাখ ১০ হাজার ব্যারেলে উন্নীত হতে পারে।
বৈশ্বিক চাহিদা কমার সঙ্গে সঙ্গে চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের বাজারেও জ্বালানি তেলের চাহিদা কমে যেতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে প্রতিষ্ঠাটি। তথ্যমতে, ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেলের চাহিদা দৈনিক গড়ে ১৩ লাখ ব্যারেল কমে যেতে পারে। এদিকে চাহিদা কমায় কমে যেতে পারে পণ্যটির উত্তোলন। এ সময় দেশটিতে জ্বালানি পণ্যটির উত্তোলন দৈনিক গড়ে ৪ লাখ ৭০ হাজার ব্যারেল কমে যেতে পারে।
ইআইএর অ্যাডমিনিস্ট্রেটর ডক্টর লিন্ডা কাপুয়ানো বলেন, কভিড-১৯-এর কারণে অর্থনৈতিক চাপ বৃদ্ধি ও সংক্রমণ রোধে বিভিন্ন বিধিনিষেধের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে যুক্তরাষ্টের তরল জ্বালানি চাহিদার ওপর। বিশেষ করে চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) তা চরমে উঠতে পারে। এ সময়ে দেশটির যানবহন খাতে গ্যাসোলিনের ব্যবহার কমে ২০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্নে নামতে পারে।
শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, চলতি বছর সৌদি আরব, রাশিয়াসহ বিশ্বের শীর্ষ উত্তোলনকারী দেশগুলোও অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের উত্তোলন কমিয়ে আনতে পারে। আজ অনুষ্ঠিত বৈঠকে মূল্যবৃদ্ধির চেষ্টা হিসেবে জ্বালানিটি উত্তোলন কমাতে ঐকমত্যে পৌঁছতে পারে সৌদি আরব ও রাশিয়া। যদিও তা যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণের ওপর নির্ভর করছে বলে খাতসংশ্লিষ্ট একজন মন্তব্য করেছেন।









