বৈশ্বিক অর্থনীতি বড় ধরনের অনিশ্চয়তার দিকে এগোচ্ছে। এর মূল কারণ নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ। প্রাণঘাতী ভাইরাসটির বিস্তার রোধে হিমশিম খাচ্ছে পুরো বিশ্ব। দেশে দেশে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি শ্লথ হয়ে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে অনেক দেশই হাতে নিয়েছে বিশেষ পরিকল্পনা ও প্রণোদনা। বিশ্বের প্রায় অর্ধেক কয়লা প্লান্ট ২০২০ সালে লোকসানের মুখে পড়তে পারে। লন্ডনভিত্তিক অলাভজনক গবেষণা প্রতিষ্ঠান কার্বন ট্রাকারসের সাম্প্রতিক প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। খবর রয়টার্স ও স্টার অনলাইন।

পরিবেশবিষয়ক গবেষণা ও তথ্য প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বজুড়ে বর্তমানে সচল ও পরিকল্পিত ৯৫ শতাংশ কয়লা প্লান্টের মুনাফা নিয়ে এ গবেষণা পরিচালনা করেছে। গবেষণায় জানানো হয়েছে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সচল ৬ হাজার ৬৯৬টি কয়লা প্লান্ট ও পাইপলাইনে থাকা ১ হাজার ৪৬টি প্লান্টের মধ্যে ৪৬ শতাংশই চলতি বছর অলাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হতে পারে। আগের বছরের তুলনায় এ সংখ্যাটি ৪১ শতাংশ বেশি। আগামীতে অলাভজনক কয়লা প্লান্টের সংখ্যা আরো বেড়ে অর্ধশতাংশ ছাড়িয়ে যেতে পারে। প্রতিষ্ঠানটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে অলাভজনক কয়লা প্লান্টের পরিমাণ বেড়ে ৫২ শতাংশে উন্নীত হতে পারে। এর পেছনে মূল ভূমিকা রাখতে পারে নবায়নযোগ্য জ্বালানি সহজলভ্যতা ও স্বল্পমূল্যের প্রাকৃতিক গ্যাস প্রাচুর্যতা। 

চীন বিশ্বের শীর্ষ কয়লা উত্তোলন ও ব্যবহারকারী দেশ। সারা বিশ্বের মোট উত্তোলিত ও ব্যবহূত কয়লার প্রায় অর্ধেক হিস্যা থাকে দেশটির হাতে। দেশটিতে এরই মধ্যে এক হাজার গিগাওয়াটসের বেশি উৎপাদনক্ষম কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্লান্ট রয়েছে, যা দেশটির মোট ইনস্টলড বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতার ৬০ শতাংশ। এছাড়া আরো ১০০ গিগাওয়াটসের মতো নির্মাণাধীন রয়েছে। আগামীতে আরো বেশি কয়লা প্লান্টের অনুমতি দিতে পারে দেশটি।

পরিবেশ ইস্যুতে কয়লা ব্যবহারের ক্ষেত্রে বেশ কয়েক বছর ধরে চীনের অবস্থান কড়া ছিল। সরকারি বিধিনিষেধের জেরে দেশটিতে দ্রুত কমে আসছিল জ্বালানি পণ্যটির ব্যবহার। তবে পরিস্থিতি পাল্টে গেছে। নভেল করোনাভাইরাসের ধাক্কা সামলে অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে দেশটি। এ অবস্থায় অর্থনৈতিক গতি সঞ্চারিত করতে কয়লা খাতে উদ্দীপনা জোগানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারে দেশটি। চীনের ন্যাশনাল এনার্জি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এরই মধ্যে ঘোষণা দিয়েছে, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নিয়ম শিথিলে প্রস্তুত রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে দেশটি বিদ্যমান কয়লা প্লান্টগুলোর ৬০ শতাংশ দ্রুতগতিতে লোকসানের মুখে ছুটছে বলে জানিয়েছে কার্বন ট্রাকারস।

কার্বন ট্রাকারসের পাওয়ার ও ইউটিলিটিস বিভাগের উপপ্রধান ম্যাট গ্রে বলেন, কভিড-১৯ মহামারীর পর চীনসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশের সরকার তাদের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সহায়তা করতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুতে বিনিয়োগের জন্য প্রলুব্ধ করতে পারে। ব্যয়বহুল এসব পরিকল্পনা জলবায়ু পরিবর্তনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণের অন্তরায় হতে পারে। 

জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কে জাতিসংঘের ইন্টারগভর্নমেন্টাল প্যানেলের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের সীমাবদ্ধতা টানতে হলে ২০৩০ সালের মধ্যে ২০১০ সালের তুলনায় কয়লার বৈশ্বিক ব্যবহার অবশ্যই ৮০ শতাংশের নিচে কমিয়ে আনতে হবে।