তীব্র দাবদাহ পরিস্থিতি পার করছে চীন। বিভিন্ন অঞ্চলে দেখা দিয়েছে খরা। বেড়ে গিয়েছে বিদ্যুতের চাহিদা। যদিও খরায় জলবিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহূত জলাধারগুলোর পানি কমে গিয়েছে। ব্যাহত হচ্ছে বিদ্যুৎ উৎপাদন। এ অবস্থায় দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কারখানাগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। কভিডজনিত লকডাউনের শ্লথগতি কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি এমন প্রতিবন্ধকতার মধ্যে পড়ল। এতে দেশটির অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার আরো ধীর হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বার্তা সংস্থা এপির একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের সিচুয়ান প্রদেশে পাঁচদিনের জন্য রেশনিংয়ের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। এতে অঞ্চলটির সোলার প্যানেল, সিমেন্ট ও ইউরিয়া সার প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলো উৎপাদন বন্ধ বা কমিয়ে এনেছে। একদিকে খরার কারণে জলাধারের পানি কমে গিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। অন্যদিকে তীব্র দাবদাহের কারণে বিদ্যুতের চাহিদাও বেড়ে গিয়েছে। এ অবস্থায় তীব্র বিদ্যুৎ ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

কারখানা বন্ধ করার বিষয়টি ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। কারণ কয়েক দশকের মধ্যে দেশটির সবচেয়ে শক্তিশালী নেতা শি জিনপিং আগামী অক্টোবর কিংবা নভেম্বরে নিজেকে তৃতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা দেবে বলে মনে করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে আরো পাঁচ বছর তিনি চীনকে নেতৃত্ব দেবেন।

এর আগে কভিড প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় মার্চের শেষ দিকে চীনের বাণিজ্যিক কেন্দ্র সাংহাইসহ অন্য শিল্পকেন্দ্রগুলো বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এরপর বিধিনিষেধ শিথিল করা হলেও বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে ধীর পুনরুদ্ধার দেখা দিয়েছে। জুলাইয়েও দেশটির শিল্পোৎপাদন ও খুচরা বিক্রি বৃদ্ধির গতি দুর্বল রয়ে গিয়েছে। চলতি বছরের প্রথমার্ধে চীনা অর্থনীতি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় মাত্র ২ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। এ হার সরকারের ৫ দশমিক ৫ শতাংশ বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেকেরও কম।

চলতি গ্রীষ্মকালীন মৌসুমে চীনের মধ্য ও উত্তরাঞ্চলজুড়ে স্বাভাবিক মাত্রার অর্ধেক বৃষ্টিপাত হয়েছে। এ অবস্থায় পানির সরবরাহ নিশ্চিত করতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। সরকারি বার্তা সংস্থা সিনহুয়া নিউজ এজেন্সির খবরে বলা হয়েছে, পানির ঘাটতি তৈরি হওয়া দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের চংকিংয়ের কাছে দুটি গ্রামে পানি সরবরাহ করছে দমকলের ট্রাকগুলো। সরকারের মতে, পানির অভাবে ও উচ্চ তাপমাত্রার কারণে মধ্য ও উত্তর চীনজুড়ে কয়েক হাজার হেক্টর জমির ফসল শুকিয়ে গিয়েছে। আবহাওয়া অফিস সতর্ক করেছে যে, কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছতে পারে।

সিচুয়ান প্রভেন্সিয়াল ডিপার্টমেন্ট অব ইকোনমিকস অ্যান্ড ইনফরমেশন টেকনোলজির মতে, সিচুয়ানে জলবিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহূত জলাশয়গুলোর পানির স্তর চলতি মাসে অর্ধেকের মতো কমে গিয়েছে। প্রদেশটিতে ৯ কোটি ৪০ লাখ মানুষের বসবাস।

গুওগুয়াং কোম্পানির একটি সহায়ক সংস্থা কীটনাশক ও সার উৎপাদন করে। সংস্থাটির উৎপাদন সোমবার থেকে অন্তত শনিবার পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। টংওয়েই সোলা ও জিসিএল-পলি এনার্জিসহ সিচুয়ানের সৌরবিদ্যুৎ সরঞ্জাম নির্মাতারা বিদ্যুৎ রেশনিংয়ের নোটিস পাওয়ার কথা জানিয়েছে।

গত বছরও চীন একই ধরনের প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হয়েছিল। সে সময় পর্যাপ্ত বৃষ্টির অভাবে জলবিদ্যুৎ জলাধার কমে যাওয়ার পর দক্ষিণ-পূর্বের গুয়াংডং প্রদেশের কারখানা বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। তবে এ ধরনের প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে উঠতে সরকার এরই মধ্যে প্রণোদনার ঘোষণা দিয়েছে। হেবেই, শানসি ও লিয়াওনিং প্রদেশ এবং উত্তরের ইনার মঙ্গোলিয়া অঞ্চলের খরা মোকাবেলায় ২৮ কোটি ইউয়ান (৪ কোটি ১০ লাখ ডলার) বরাদ্দ করেছে। সিনহুয়ার খবরে বলা হয়েছে, কিছু ছোট ও মাঝারি আকারের নদী এতটাই শুকিয়েছে যে, সেগুলোর প্রবাহ বন্ধ হয়ে গিয়েছে।

এদিকে কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি উত্তর-পশ্চিম থেকে ইনার মঙ্গোলিয়াজুড়ে ভারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে। পাশাপাশি কিছু অঞ্চলে বন্যা দেখা দিতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।