চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ থেকে ১ হাজার ৩০৯ কোটি ৪১ লাখ বা ১৩ দশমিক শূন্য ৯ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রফতানি হয়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে রফতানি হয়েছিল ১ হাজার ২৩১ কোটি ৩২ লাখ ডলারের পণ্য। সে হিসাবে তিন মাসে রফতানি বেড়েছে ৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্যের ওপর ভিত্তি করে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ রফতানি প্রতিবেদনে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) এ তথ্য উঠে এসেছে। সংস্থাটি বলছে, এ সময়ে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, প্রকৌশল পণ্য, গৃহস্থালি বস্ত্র এবং ওষুধ রফতানিতে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে তৈরি পোশাক রফতানি হয়েছে ১ হাজার ৫৭ কোটি ৮৬ লাখ ডলারের, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের ৯৯৭ কোটি ৪ লাখ ডলারের তুলনায় ৬ দশমিক ১০ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে নিট পোশাক রফতানি ৫৯৬ কোটি ৩৮ লাখ ডলার, আগের অর্থবছরের একই সময়ে যা ছিল ৫৫৮ কোটি ডলার। এ খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬ দশমিক ৮৮ শতাংশ। ওভেন পোশাক রফতানি হয়েছে ৪৬১ কোটি ৪৮ লাখ ডলার, আগের অর্থবছরের ৪৩৯ কোটি ৪ লাখ ডলারের তুলনায় যা ৫ দশমিক ১১ শতাংশ বেশি।

পোশাকের বাইরে কয়েকটি প্রধান খাতেও রফতানি বেড়েছে। প্রথম প্রান্তিকে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রফতানি হয়েছে ৩৬ কোটি ৬৯ লাখ ডলারের, প্রবৃদ্ধি ১৪ দশমিক ৭৪ শতাংশ। পাট ও পাটজাত পণ্যের রফতানি ৩১ দশমিক ৫৫ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৫ কোটি ৩৮ লাখ ডলারে। প্রকৌশল পণ্যের রফতানি হয়েছে ১৯ কোটি ২৭ লাখ ডলার, প্রবৃদ্ধি ১৬ দশমিক ৫১ শতাংশ। গৃহস্থালি বস্ত্র রফতানি হয়েছে ২৩ কোটি ১৩ লাখ ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১১ দশমিক ৯৪ শতাংশ বেশি।

ওষুধ রফতানিতে আরো বেশি প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। প্রথম প্রান্তিকে এ খাত থেকে ৭ কোটি ৬৬ লাখ ডলারের পণ্য রফতানি হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের ৫ কোটি ৪৫ লাখ ডলারের তুলনায় ৪০ দশমিক ৩৯ শতাংশ বেশি। উইগ ও মানব চুলের রফতানি বেড়েছে ৪৬ দশমিক ১৮ শতাংশ, অন্যান্য জুতার ১৭ শতাংশ এবং কার্পেটের ৩৮ দশমিক ৭১ শতাংশ।

অন্যদিকে প্রাথমিক পণ্য রফতানিতে কিছুটা দুর্বলতা ছিল। প্রথম প্রান্তিকে প্রাথমিক পণ্য রফতানি ১২ দশমিক ৩৮ শতাংশ কমে হয়েছে ৩৫ কোটি ৭০ লাখ ডলার। কৃষিপণ্য ১৩ দশমিক ৭৪ শতাংশ, হিমায়িত ও জীবিত মাছ ১০ দশমিক ২৭ শতাংশ, চিংড়ি ১৯ দশমিক ১০ শতাংশ এবং তুলা ও তুলাজাত পণ্যের রফতানি ১২ দশমিক ৪১ শতাংশ কমেছে।

বাজারভিত্তিক রফতানিতে যুক্তরাষ্ট্রই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাজার। জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে দেশটিতে ২৫৯ কোটি ১৬ লাখ ডলারের পণ্য রফতানি হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের ২৩২ কোটি ৭৮ লাখ ডলারের তুলনায় ১১ দশমিক ৩৪ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে দ্বিতীয় বৃহত্তম বাজার যুক্তরাজ্যে রফতানি হয়েছে ১৩৭ কোটি ২ লাখ ডলারের পণ্য। তৃতীয় বৃহত্তম বাজার জার্মানিতে রফতানি হয়েছে ১২১ কোটি ৯০ লাখ ডলারের পণ্য।

উদীয়মান বাজারগুলোর মধ্যে তুরস্কে রফতানিতে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে। দেশটিতে রফতানি ১০০ দশমিক ১১ শতাংশ বেড়ে ২১ কোটি ৫ লাখ ডলারে উন্নীত হয়েছে, আগের অর্থবছরের একই সময়ে যা ছিল ১০ কোটি ৫২ লাখ ডলার। ভারত ও জাপানও বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ রফতানি বাজার হিসেবে অবস্থান ধরে রেখেছে। প্রথম প্রান্তিকে প্রধান রফতানি বাজারগুলোর তালিকায় ভারতের অবস্থান ষষ্ঠ ও জাপানের নবম।

এদিকে শুধু সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ থেকে ৩৯৩ কোটি ৭২ লাখ ডলারের পণ্য রফতানি হয়েছে। এর আগের অর্থবছরের একই মাসের ৩৬২ কোটি ৭৬ লাখ ডলারের তুলনায় প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ। তবে আগস্টের ৪৪২ কোটি ৯৫ লাখ ডলারের তুলনায় সেপ্টেম্বরে রফতানি কমেছে ১১ দশমিক ১১ শতাংশ।

সেপ্টেম্বরে শুধু তৈরি পোশাক রফতানি হয়েছে ৩০৮ কোটি ৩০ লাখ ডলারের, যা আগের অর্থবছরের একই মাসের ২৮৩ কোটি ৯৮ লাখ ডলারের তুলনায় ৮ দশমিক ৫৬ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে রয়েছে ১৭৭ কোটি ডলারের নিট পোশাক ও ১৩১ কোটি ৩০ লাখ ডলারের ওভেন পোশাক। এছাড়া সেপ্টেম্বরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রফতানি ২০ দশমিক ১৯ শতাংশ, পাট ও পাটজাত পণ্যের ২২ দশমিক ৭২ শতাংশ, গৃহস্থালি বস্ত্রের ১৩ দশমিক ৫২ শতাংশ এবং ওষুধের ৬৪ দশমিক ৩৩ শতাংশ বেড়েছে।