এশিয়ার প্রধান বাজারগুলোয় চলতি সপ্তাহে চালের দাম ঊর্ধ্বমুখী ছিল। এ অঞ্চলের দেশগুলোর তো চালের চাহিদা রয়েছেই, পাশাপাশি আফ্রিকার দেশগুলোতেও ভারতীয় চালের বেশ চাহিদা রয়েছে। অন্যদিকে যেকোনো সময় রফতানি বন্ধ হয়ে যেতে পারে এমন আশঙ্কায় অনেক ব্যবসায়ী অতিরিক্ত চাল কিনে মজুদ করে রাখছেন, যা চালের বাজার দর বাড়াচ্ছে। খবর বিজনেস রেকর্ডার।

এমন পরিস্থিতিতে থাইল্যান্ড থেকে রফতানি হওয়া চালের দাম গত জুনের পর সর্বোচ্চে উঠেছে। এর পেছনে কারণ হিসেবে সরবরাহ বৃদ্ধি এবং ডলারের বিপরীতে থাই বাথের ভালো মানের কথা বলা হচ্ছে। দেশটি থেকে রফতানি হওয়া ৫ শতাংশ ভাঙা চালের টনপ্রতি দাম উঠেছে ৪৫২-৪৬০ ডলার, যা গত সপ্তাহে ছিল ৪২৫-৪৫৭ ডলার। অর্থাৎ এক সপ্তাহের ব্যবধানে থাইল্যান্ডের রফতানি বাজারে চালের দাম বেড়েছে ২৭ টাকার বেশি।

ব্যাংককভিত্তিক ব্যবসায়ীরা বলছেন, মূলত এশিয়ার বাজারে সবচেয়ে বেশি চালের চাহিদা রয়েছে। চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দামও কিছুটা বেড়েছে। আরেক ব্যবসায়ী বলেন, শিগগিরই রফতানিতে কড়াকড়ি আরোপ করা হবে বলে একটি কথা প্রচার হয়েছে। সে আশঙ্কায় অনেক ব্যবসায়ী আগে থেকে চাল কিনে মজুদ করে রাখছেন। সে কারণেও চাল বিক্রি বেড়েছে।

ভারতের ৫ শতাংশ ভাঙা সেদ্ধ চালের দাম প্রকারভেদে টনপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৩৭৪-৩৮০ ডলারে, যা আগের সপ্তায় বিক্রি হয়েছে ৩৭৩-৩৭৮ ডলারে। চালের চাহিদায় কিছুটা উন্নতি হওয়ায় দামও কিছুটা বেড়েছে।

অন্ধ্রপ্রদেশের কাকিনাড়া এলাকাভিত্তিক রফতানিকারকরা বলছেন, ভারতের চাল অন্য অনেক দেশের তুলনায় সস্তা। সে কারণে অন্যান্য বছর ডিসেম্বরের দ্বিতীয়ার্ধে কম বেচাকেনা হলেও এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। কিউবা আগের চেয়ে ভারত থেকে বেশি চাল আমদানি করছে। এরই মধ্যে ২৭৮ হাজার ১৫০ টন চাল নিয়ে কাকিনাড়া বন্দর থেকে কিউবার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়েছে একটি জাহাজ।

বিজনেস রেকর্ডারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশও ভারত থেকে চাল কিনতে চায়। দুই দেশের সরকার পর্যায়ের এক চুক্তি অনুযায়ী মোট দুই লাখ টন চাল কেনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। একটি সূত্র বলছে, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে চালের দাম সহনীয় রাখতে এ বিপুল পরিমাণ চাল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির সরকার।

ভিয়েতনামের ৫ শতাংশ ভাঙা চালের টনপ্রতি দাম দাঁড়িয়েছে ৪৪৮-৪৫৩ ডলারে, যা গত সপ্তাহের মতোই অপরিবর্তিত রয়েছে। হো চি মিন সিটির এক ব্যবসায়ী বলেন, ভিয়েতনামের চালের চাহিদা স্থিতিশীল রয়েছে। এ বাজারের মূল ক্রেতা হলো ফিলিপাইন। প্রাথমিক তথ্য থেকে দেখা যায়, চলতি মাসের ১ থেকে ২৮ তারিখের মধ্যে হো চি মিন সিটির বন্দর থেকে ১ লাখ ৬৭ হাজার ৬৫০ টন চাল ফিলিপাইন ও ইন্দোনেশিয়ায় রফতানি করা হচ্ছে।