অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা না থাকায় গত তিন দশকেও ভালো কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেনি সাতক্ষীরা বিসিক শিল্পনগরীতে। শুরু থেকেই এখানে নেই সীমানা প্রাচীর, নেই প্রশস্ত রাস্তা ও যথাযথ ড্রেনেজ ব্যবস্থা। মাটি ভরাট না করায় প্রতি বর্ষা মৌসুমে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। ফলে বড় কোনো উদ্যোক্তা আসতে চান না সাতক্ষীরা বিসিকে।

বিসিকে অবস্থিত অধিকাংশ ক্ষুদ্র শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিকদের মতে, অত্যন্ত সম্ভাবনাময় শিল্পনগরীকে করুণ দশায় নিয়ে গেছে সাতক্ষীরা বিসিকে দায়িত্বরতরা। এখানে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর কোনো নিরাপত্তা নেই, চারদিকে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ। 

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বিনেরপোতায় অবস্থিত বিসিকের উপব্যবস্থাপকের কার্যালয় থেকে জানা গেছে, উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরায় ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটাতে ১৯৯০ সালে ১৫ একর ২৬ শতক জমির ওপর গড়ে তোলা বিসিক শিল্পনগরী। এখানে রয়েছে ৯৬টি প্লট। ওই ৯৬টি প্লটে ৪০টি ইউনিট করা হয়। এর ২৪টি ইউনিটের মধ্যে ২৩টিতে ক্ষুদ্র ও একটিতে মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। বর্তমানে অধিকাংশ ক্ষুদ্র শিল্পপ্রতিষ্ঠান চলছে নাজুক অবস্থায়। এছাড়া নয়টি ইউনিট বন্ধ রয়েছে এবং সাতটি ইউনিট প্রক্রিয়াধীন আছে।

সাতক্ষীরা বিসিক শিল্পনগরীতে অবস্থিত গানিম এগ্রো কেয়ার লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী গাজি মতিনুল ইসলাম জানান, বাউন্ডারি ওয়াল না থাকায় ফ্যাক্টরির নিরাপত্তা নিয়ে ঝুঁকির মধ্যে থাকতে হয়। নিজ খরচে দেড় লাখ টাকা দিয়ে মাটি ভরাট করেছি, যা বিসিকের করার কথা।

সাতক্ষীরা বিসিক শিল্পনগরীর ক্ষুদ্র শিল্প মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও পান্ডে ফাইবার ইন্ডাস্ট্রিজের স্বত্বাধিকারী সুরেশ পান্ডে জানান, সংশ্লিষ্ট বিসিক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্বহীনতা ও অসহযোগিতার কারণেই সাতক্ষীরার বিসিক শিল্পনগরী আজ মুখ থুবড়ে আছে। তিন দশক পেরিয়ে গেলেও এখানে কোনো অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলো না।

সাতক্ষীরা জেলা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি নাসিম ফারুক খান জানান, শুধু সরকারের পৃষ্ঠপোষকতার অভাবেই অত্যন্ত সম্ভাবনাময় এ শিল্পনগরীর এমন করুণ দশা। সাতক্ষীরার অর্থনীতিকে আরো এগিয়ে নিতে বিসিকের অবকাঠামো উন্নয়ন খুবই জরুরি। দেশের বড় ব্যবসায়ীদের আকৃষ্ট করতে আধুনিকায়ন করতে হবে সাতক্ষীরা বিসিক।

শিল্পনগরীর বিদ্যমান বিভিন্ন সমস্যার কথা স্বীকার করে সাতক্ষীরা বিসিকের দায়িত্বরত উপব্যবস্থাপক গোলাম সাকলাইন বলেন, সাতক্ষীরা বিসিক শিল্পনগরীর জন্য ৭ কোটি ৬৯ লাখ ৬৯ হাজার টাকার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এ প্রকল্পের কেবল রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণের জন্য বরাদ্দ ছাড় হয়েছে। সেগুলোর কাজও প্রায় শেষের দিকে। কিন্তু অন্যান্য কাজের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো টেন্ডার আহ্বান করা হয়নি। কবে নাগাদ হবে তা বলতে পারি না।

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হুমায়ূন কবির জানান, সাতক্ষীরা বিসিকের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সংস্কারকাজের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এখানকার শিল্পনগরীকে উৎপাদনমুখী করে তুলতে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক তদারকি করা হয়ে থাকে। বিসিকের উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শেষ হলে দেশের বড় ব্যবসায়ীরাও এখানে এগিয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।