একদিকে উৎপাদনকারী অঞ্চলগুলোয় বিদ্যমান খরা, অন্যদিকে নভেল করোনাভাইরাসের বৈশ্বিক মহামারীর জের ধরে আকস্মিক চাহিদা বেড়ে যাওয়া—
এ দুই কারণে গত সপ্তাহে থাইল্যান্ডে রফতানিযোগ্য চালের দাম রেকর্ড ছুঁয়েছিল। সপ্তাহ ঘুরতেই দেশটিতে রেকর্ড অবস্থান থেকে কমে এল খাদ্যপণ্যটির দাম। তবে থাইল্যান্ডে কমলেও ভারতে সর্বশেষ সপ্তাহে রফতানিযোগ্য চালের দাম আগের তুলনায় চাঙ্গা হয়ে উঠেছে। খবর বিজনেস রেকর্ডার ও রয়টার্স।
থাইল্যান্ডের বাজারে সর্বশেষ সপ্তাহে রফতানিযোগ্য ৫ শতাংশ ভাঙা চাল টনপ্রতি ৫৩০-৫৩৮ ডলারে বিক্রি হয়। এক সপ্তাহ আগেও খাদ্যপণ্যটির দাম উঠেছিল টনপ্রতি ৫৫৫-৫৮০ ডলারে। ২০১৩ সালের এপ্রিলের পর এটাই থাই চালের সর্বোচ্চ রফতানি মূল্য। সে হিসাবে এক সপ্তাহের ব্যবধানে থাইল্যান্ডে চালের রফতানি মূল্য রেকর্ড অবস্থান থেকে টনপ্রতি সর্বোচ্চ ৪২ ডলার কমেছে।
ব্যাংককভিত্তিক ট্রেডাররা বলেন, গত নভেম্বরে থাইল্যান্ডে খরা শুরু হয়েছে। ব্যাহত হয়েছে ধান-চাল উৎপাদন। বাজারে আগে থেকেই এর প্রভাব ছিল। এরই মধ্যে নভেল করোনাভাইরাসের কারণে লকডাউনে যাওয়ায় আকস্মিকভাবে চালের চাহিদা বেড়েছে। সীমিত সরবরাহের বিপরীতে বাড়তি চাহিদা চাঙ্গা করে তোলে খাদ্যপণ্যটির বাজার।
এখন আবহাওয়া পরিস্থিতি আগের তুলনায় কিছুটা স্বাভাবিক। কিছু কিছু অঞ্চলে বৃষ্টি হয়েছে। এতে আশার আলো দেখছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। চালের দামও প্রায় সাত বছরের রেকর্ড অবস্থান থেকে নেমে এসেছে।
এদিকে ভারতের বাজারে সর্বশেষ সপ্তাহে রফতানিযোগ্য ৫ শতাংশ ভাঙা চাল টনপ্রতি ৩৭৫-৩৮০ ডলারে বিক্রি হয়। গত আগস্টের প্রথম সপ্তাহের পর এটাই খাদ্যপণ্যটির সর্বোচ্চ দাম। গত সপ্তাহে ভারতের বাজারে রফতানিযোগ্য এ চালের দাম ছিল টনপ্রতি ৩৬১-৩৬৫ ডলারের মধ্যে।
মুম্বাইয়ের ট্রেডাররা জানান, দেশজুড়ে লকডাউন চলমান থাকায় শ্রমিক ও পরিবহন সংকটের মুখে পড়েছে ভারতের চাল রফতানিকারকরা। এর প্রভাবে দেশটির বাজারে চালের রফতানিমূল্য খুব একটা বাড়েনি। এমনকি নতুন রফতানি চুক্তি সই থেকে সাময়িক বিরত রয়েছেন ভারতীয় চাল রফতানিকারকরা।
ভিয়েতনামেও একই চিত্র দেখা গেছে। সাময়িক নিষেধাজ্ঞার কারণে দীর্ঘ সময় ধরে দেশটির রফতানিকারকরা চালের নতুন রফতানি চুক্তি সই করেননি। তবে ভিয়েতনাম সরকারের এ নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হয়েছে। চলতি মাসে চার লাখ টন চাল রফতানির প্রত্যাশা করছেন দেশটির রফতানিকারকরা। তবে সাময়িক বন্ধের জের ধরে চার সপ্তাহ ভিয়েতনাম সরকার চালের রফতানিমূল্যের উত্থান-পতনের তথ্য প্রকাশ করেনি।








