গতকাল স্বর্ণের বাজার আগের দিনের তুলনায় ঊর্ধ্বমুখী ছিল। তবে মূল্যবান ধাতুটির সাপ্তাহিক বাজার নেমেছে দুই মাসের মধ্যে সর্বনিম্নে। দীর্ঘ বাণিজ্য বিরোধের সমাপ্তি টেনেছে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। এ লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে প্রথম পর্যায়ের বাণিজ্য চুক্তি সই হয়েছে। সব মিলিয়ে মার্কিন অর্থনীতিতে এই মুহূর্তে সুবাতাস বইছে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের ঔজ্জ্বল্য ফিকে করে এনেছে। খবর রয়টার্স।

গতকাল শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের স্পটমূল্য সামান্য বেড়ে আউন্সে ১ হাজার ৫৫৫ ডলার ২৪ সেন্টে উঠেছে, যা আগের দিনের তুলনায় দশমিক ২ শতাংশ বেশি। তবে পণ্যটির সাপ্তাহিক গড় দাম দশমিক ৪ শতাংশ কমে ৮ নভেম্বর শেষ হওয়া সপ্তাহের পর সর্বনিম্নে নেমেছে। একই দিনে মূল্যবান ধাতুটির ফিউচার মূল্য আউন্সে দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৫৫৫ ডলার ৪০ সেন্টে কেনাবেচা হয়েছে।

স্বর্ণকে ধরা হয় আপত্কালীন সময়ের সবচেয়ে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে। বৈশ্বিক অর্থনীতির অস্থিরতা বা ভূরাজনৈতিক উত্তেজনায় ধাতুটির চাহিদা বেড়ে যায়। সঙ্গে বাড়ে দামও। গত বুধবার বাণিজ্য বিরোধ রোধে প্রথম পর্যায়ের চুক্তি সই করেছে ওয়াশিংটন ও বেইজিং। এর মাধ্যমে বিশ্বের দুই বৃহৎ অর্থনীতির মধ্যকার দীর্ঘ ১৮ মাস ধরে চলা টানাপড়েন কমবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। বাণিজ্য বিরোধের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন উভয়ের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি শ্লথ হয়ে পড়েছে। সাম্প্রতিক প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য বিরোধের জেরে বিদায়ী বছরে চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে গত ৩০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্নে নেমে গেছে। এ পরিস্থিতি উভয় দেশকে চুক্তি সইয়ে উদ্বুদ্ধ করেছে।

জিওজিট ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের পণ্যবিষয়ক বিশ্লেষক হারেস ভি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তির কারণে জিডিপি বৃদ্ধির প্রত্যাশা করলেও চীন উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়নি। বরং বাণিজ্যযুদ্ধের প্রভাব নিয়ে দেশটি এখনো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ফলে দেশটি স্বর্ণ কেনা অব্যাহত রাখতে পারে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতেও সুখবর মিলেছে। ডিসেম্বরে টানা তিন সপ্তাহ ঊর্ধ্বমুখী থাকতে দেখা গেছে দেশটির খুচরা পর্যায়ের বেচাকেনা। সব মিলিয়ে দেশটির অর্থনীতি ফের চাঙ্গা হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। 

অন্যদিকে গতকাল অপর মূল্যবান ধাতু প্যালাডিয়ামের দাম আউন্সে ২ হাজার ৩৬২ ডলার ৭১ সেন্টে উন্নীত হয়েছে, যা আগের দিনের তুলনায় ২ দশমিক ২ শতাংশ বেশি। আগের দিন ধাতুটির দাম আউন্সপ্রতি ২ হাজার ৩৯৫ ডলারে উঠে রেকর্ড করেছিল। এছাড়া সর্বশেষ সপ্তাহে পণ্যটির সাপ্তাহিক গড় দাম আগের সপ্তাহের তুলনায় ১২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২০১৬ সালের মার্চের পর সর্বোচ্চ অবস্থানে উঠেছে।

প্লাটিনাম ও রুপার বাজারেও চাঙ্গা ভাব বজায় রয়েছে। গতকাল প্রতি আউন্স প্লাটিনাম আগের দিনের তুলনায় দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ১২ ডলার ৫৮ সেন্টে বেচাকেনা হয়েছে। এর আগের দিন পণ্যটির দাম আউন্সপ্রতি ১ হাজার ৪১ ডলার দশমিক শূন্য ৪ সেন্টে বেচাকেনা হয়, যা ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারির পর সর্বোচ্চ। একই দিনে প্রতি আউন্স রুপার দাম দাঁড়িয়েছে ১৮ ডলার দশমিক শূন্য ৩ সেন্ট, যা আগের দিনের তুলনায় দশমিক ৫ শতাংশ বেশি।