উত্তর লাওসে অবস্থিত প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী শহর লুয়াং প্রাবাংয়ের পর্যটন শিল্পের গতি বাড়ছে। চীন ও লাওসকে সংযুক্তকারী নতুন আন্তঃসীমান্ত রেলপথের কারণে এ খাত প্রবৃদ্ধিতে রয়েছে। গত এপ্রিলে রেলপথ চালু হওয়ার পর লাওসে চীনা পর্যটক উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। খবর নিক্কেই এশিয়া।
রেলপথটির কারণে লুয়াং প্রাবাং শহরের সমৃদ্ধ সংস্কৃতি, স্থাপত্যশিল্প ও ঐতিহ্যবাহী মন্দিরগুলো দেখতে দর্শনার্থীর ভিড় বেড়েছে। পর্যটনে এ প্রবৃদ্ধি লাওসের ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা। পাশাপাশি মহামারী-পরবর্তী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের সাহায্য করবে বলে আশা করছে দেশটির সরকার।
লুয়াং প্রাবাং লাওসের ঐতিহাসিক রাজকীয় ও আধ্যাত্মিক রাজধানী। বৌদ্ধ মন্দিরের জন্য পরিচিত শহরটি এখন ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজের অংশ। এ কারণে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোয় অন্যতম প্রধান পর্যটন গন্তব্য লুয়াং প্রাবাং।
শহরের কুনমিং হোটেলের কর্মচারী সিচুয়া জানান, চীনা পর্যটক বৃদ্ধির কারণে হোটেলে অতিথি বেড়েছে। নতুন আন্তঃসীমান্ত রেলপথের জন্য বেশি চীনা পর্যটক আসতে পারছেন।
রেলপথটি লাওসের রাজধানী ভিয়েনতিয়েন থেকে থাই সীমান্তের কাছাকাছি লুয়াং প্রাবাং হয়ে চীনের ইউনান প্রদেশের কুনমিং পর্যন্ত বিস্তৃত। যার দৈর্ঘ্য প্রায় এক হাজার কিলোমিটার। রেলপথটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৬০০ কোটি ডলার। চীনের বহুল আলোচিত বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের (বিআরআই) অংশ হিসেবে ৬০ শতাংশ অর্থ ঋণ দিয়েছে এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংক অব চায়না।
লাওস সরকার জানায়, দেশটিতে ২০২৩ সালের প্রথম নয় মাসে বিদেশী পর্যটকের সংখ্যা ছিল ২৪ লাখ ৯০ হাজার, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৩ দশমিক ৮ গুণ বেশি। তবে পর্যটকের সংখ্যা এখনো ২০১৯ সালের প্রাক-কভিড স্তরের নিচে রয়েছে। মোট ৪ লাখ ৭০ হাজার ভ্রমণকারীদের মধ্য প্রায় ২০ শতাংশ ছিলেন চীনা পর্যটক।
চলতি বছরও লাওসের সরকার পর্যটকদের আকৃষ্ট করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশন (জেট্রো) ভিয়েনতিয়েন অফিসের কর্মকর্তা কেনিচিরো ইয়ামাদা জানান, লাওসের সরকার প্রধানত পর্যটনের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রার আয় বাড়ানোর লক্ষ্য হাতে নিয়েছে।
যখন লাওসের পর্যটন শিল্প গতি ফিরে আসছে শুরু করেছে, তখনই দেশটির সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় অর্থনৈতিক কষ্টের সঙ্গে লড়াই করছে। ২০২৩ সালে ভোক্তা মূল্যসূচক বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১ দশমিক ২ শতাংশে। বিশ্বব্যাংকের মতে, ২০২২ সালের শেষে লাওসের সরকারি ঋণ জিডিপির ১২৫ শতাংশে পৌঁছে, যা দেশটির সম্ভাব্য আর্থিক সংকট সম্পর্কে আরো উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
হং নামের একজন হোটেলকর্মী বলেন, ‘পর্যটক বাড়ার কারণে হোটেলে কার্যক্রম বেড়েছে। তবে খাদ্য ও বিদ্যুতের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ বেড়েই চলেছে। যার বোঝা সামাল দিতে সাধারণ মানুষ হিমশিম খাচ্ছে।’










