বিশ্বজুড়ে দ্রব্যমূল্য বেড়ে চলেছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে তাল মেলাতে বেতন বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছে জাপান। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানগুলোকে ২ শতাংশ বেতন বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে জাপান সরকার। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক মূল্যস্ফীতির হারের লক্ষ্যমাত্রা ২ শতাংশ নির্ধারণ করেছে।

কিয়োদো নিউজের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউক্রেনে রুশ আক্রমণের জের ধরে বিশ্ববাজারে পণ্যদ্রব্যের দাম অব্যাহতভাবে ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপসহ অন্যান্য দেশের ওপরও। এমনকি এর প্রভাব থেকে মুক্ত নয় বিশ্বের তৃতীয় শীর্ষ অর্থনীতি জাপানও। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি মোকাবেলায় প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের বেতন বাড়ানোর আহ্বান জানায় জাপান সরকার। এতে স্ট্যাগফ্লেশন (উচ্চমূল্যস্ফীতি, কর্মহীনতা ও শ্লথ প্রবৃদ্ধির একটি অবস্থা) থেকে রক্ষা পাবে দেশটি। সম্প্রতি জাপানিজ ইকোনমি অ্যান্ড পাবলিক ফাইন্যান্সের বার্ষিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

এই প্রথম ফুমিও কিশিদার প্রধানমন্ত্রিত্বে এ ধরনের প্রতিবেদন সমন্বয় করা হয়। নতুন পুঁজিবাদ গড়ার প্রতিশ্রুতি দেন ফুমিও কিশিদা। এটি হলো মূলত জোর প্রবৃদ্ধি ও পুনর্বণ্টনের চক্র। প্রতিবেদনে বলা হয়, জাপানের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রয়েছে। দেশটি স্ট্যাগফ্লেশন পরিস্থিতিতে নেই।

এ বিষয়ে সরকারি এক কর্মকর্তা জানান, অতীতের চেয়ে বেশি হারে জাপানে দ্রব্যমূল্য বেড়েছে। এর পেছনে মূলত দায়ী আমদানি মূল্যে চড়া ভাব। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামের ঊর্ধ্বমুখিতার কারণেই আমদানি মূল্য বেড়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, মূল্যসংকোচন রোধে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে বেতন বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ।

এদিকে কর্মীদের বেতনকে ব্যয় হিসেবে বিবেচনা করছে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলো। এ ব্যয় কোনোভাবে কর্মীদের পেছনে বিনিয়োগ করা নয়। এতে মুনাফা বণ্টনে অসমতা দেখা যায়।

বছরের শুরু থেকেই কভিড মহামারীর প্রকোপের প্রভাব পড়েছে জাপানের অর্থনীতির ওপর। সাম্প্রতিক সময়ে মূলধন বিনিয়োগ বাড়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। তবে এ সত্ত্বেও বিনিয়োগ কভিডপূর্ব স্তরের তুলনায় নিম্নে রয়েছে।

এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সূত্রপাত ধরে বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকে। এতে বিভিন্ন দেশে স্ট্যাগফ্লেশনের বিষয়েও আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সামষ্টিক অর্থনীতির দিক থেকে জাপানে মূল্যস্ফীতির চাপ ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় কম।

এদিকে কার্বন নিরপেক্ষতা অর্জনে প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন রয়েছে জাপান। পরিবেশগত পদক্ষেপ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখবে বলে জানায় জাপান সরকার। এর জের ধরে অটোমোবাইল শিল্প খাতে কার্বন নিঃসরণ কমানোর উদ্যোগ নেয়া হয়।

জাপানিজ ইকোনমি অ্যান্ড পাবলিক ফাইন্যান্সের বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়, পারমাণবিক শক্তির ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়ে বিবেচনা করা প্রয়োজন জাপানের। এর থেকে কোনো গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ হয় না। এছাড়া রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের জের ধরে বিশ্ববাজারে জীবাশ্ম জ্বালানি ও গ্যাসের দামের ঊর্ধ্বমুখিতা অব্যাহত রয়েছে। ২০১১ সালের ফুকুশিমা পারমাণবিক বিপর্যয়ের পর থেকে দেশটির অধিকাংশ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রই অফলাইনে রয়েছে। এর জন্য ডিজিটাল প্রযুক্তি দক্ষতায় বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। এর মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ইন্টারনেট অব থিংস রয়েছে। সামাজিক বিষয়গুলোর সমাধানে ও কার্বন নিরপেক্ষতা অর্জনের ক্ষেত্রে এর অবদান থাকবে।