আন্তর্জাতিক বাজারে তৈরি পোশাক রফতানির ক্ষেত্রে ক্রেতাদের কাছ থেকে দাম কমানোর জন্য নানামুখী চাপে রয়েছেন পোশাক শিল্প মালিকরা। উৎপাদক এবং ব্রান্ডের মাঝে যে সকল মধ্যস্বত্বভোগী প্রতিষ্ঠান রয়েছে দাম কমানোর ক্ষেত্রে তাদের এড়িয়ে চলতে চায় তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ। ফলে ভার্চুয়াল প্লাটফর্মের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যবসায়িক কার্যক্রম (ক্রয়াদেশ গ্রহণ) পরিচালনা করতে চায় সংস্থাটি। ভার্চুয়াল প্লাটফর্ম চালু হতে সময় লাগতে পারে অন্তত এক বছর।

ক্রেতার কাছে পৌঁছানোর সহজ মাধ্যম— ভার্চুয়াল প্লাটফর্ম এ মুহূর্তে কতোটা প্রস্তুত? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে বিজিএমইএর হয়ে একটি গবেষণা করেছে দুই প্রতিষ্ঠান— আইএফসি এবং লাইট ক্যাস্টলে। বৃহস্পতিবার (২৫ জানুয়ারি) উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ‘এস্টাবলিসিং এ ভার্চুয়াল মার্কেটপ্লেস প্লাটফর্ম ফর দ্য অ্যাপারেল সেক্টর: বিজনেস ফিজিবিলিটি অ্যান্ড পলিসি ল্যান্ডস্কেপিং’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

বিজিএমইএ নেতারা বলেন, দেশের ই-কমার্স পলিসি আন্তর্জাতিক পরিসরের উপযোগী নয়, রয়েছে পেমেন্ট গেটওয়ের বাধা। আর বর্তমান আইন অনুযায়ী অগ্রিম টাকা নিতে না পারার কারণে মূলধনও লাগবে অনেক বেশি। তবে অনলাইন প্লার্টফর্মে গেলে বিদেশী ক্রেতাদের অনৈতিক আবদারে দাম কমানোর চাপ থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে। তা করতে পারলে বছরে ৫০ কোটি ডলার রফাতানি আয় বাড়বে বলে উঠে এসেছে গবেষণা প্রতিবেদনে।

সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান উল্লেখ করে বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, বিশ্বব্যাপী ফ্যাশন বিক্রয়ের ১৮ শতাংশই হয়েছিল ২০২২  সালে, যা ২০২৫ সালের মধ্যে ২৩ শতাংশে পৌঁছাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। মূলত সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে প্রভাবিত হয়ে ক্রেতারা ভার্চুয়াল মার্কেটের দিকে ঝুঁকছেন। পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব কেনাকাটার বিকল্প হিসেবেও ভার্চুয়াল মার্কেটপ্লেস সমাদৃত। গত ৪৫ বছরে বাংলাদেশ বিশ্ব ফ্যাশন বাজারে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করেছে। কিন্তু গ্লোবাল ব্র্যান্ড এবং খুচরা বিক্রেতাদের জন্য উৎপাদন সত্ত্বেও এটি নিজস্ব ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ হয়েছে। আগামীতে আমরা এটি পরিবর্তন করতে চাই, আমরা নিজেদের অরিজিনাল ব্রান্ড ম্যানুফেকচারার (ওবিএম) হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাই। আর ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম হতে পারে আমাদের জন্য একটি কৌশলগত এন্ট্রি-পয়েন্ট।

বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, বিদেশী ক্রেতাদের কাছে দাম কমাতে বাধ্য হওয়ার চাপে রয়েছে দেশের তৈরি পোশাক খাত। সেখান থেকে বের হতে চায় বিজিএমইএ। এজন্য তারা বিটুবি ও বিটুসি ভিত্তিক অনলাইন প্লাটফর্মে পণ্য বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে।

হুথি বিদ্রোহীদের হামলার কারণে দেশের পোশাক খাতের রফতনি আয়ের কতটুকু ডুবছে লোহিত সাগরে— এমন প্রশ্নে বিজিএমইএ সভাপতি জানানি, আমরা সঠিক সময়ে (লিড টাইম) পণ্য পৌঁছানোর ক্ষেত্রে কিছুটা অসুবিধায় রয়েছি। তবে এ ক্ষেত্রে বাড়তি যে খরচ হচ্ছে তা বহন করছেন ক্রেতারা।