লোকসানের বোঝা আর পুরনো যন্ত্রপাতি দিয়েই খুঁড়িয়ে চলছে জেলার একমাত্র ভারী শিল্প ঠাকুরগাঁওয়ের সুগার মিল। এছাড়া শ্রমিকের বকেয়া বেতন, অবিক্রীত চিনি আর চলতি মৌসুমে মাড়াই কার্যক্রমে কাঙ্ক্ষিত আখ পাওয়া নিয়েও রয়েছে অনিশ্চয়তা। নানা অনিশ্চয়তা ও জটিলতাকে সামনে রেখেই আগামী ডিসেম্বরে নতুন মৌসুমের কার্যক্রম চালু করবে কর্তৃপক্ষ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ছয় শতাধিক শ্রমিক ঠাকুরগাঁও সুগার মিলে কাজ করেন। চলতি মৌসুমে আখ মাড়াই কার্যক্রম সফল করতে পুরনো যন্ত্রপাতি মেরামতে তারা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। যদিও পাঁচ মাস ধরে শ্রমিকদের বেতন বকেয়া রয়েছে। এ অবস্থায় পরিবার নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন তারা। এছাড়া খোলা বাজারের চেয়ে মিলের চিনির দাম বেশি হওয়ায় গোডাউনেই পড়ে আছে ২ হাজার ৯০০ টন চিনি। সময়মতো চিনি বিক্রি না হওয়ায় গুণগত মান নষ্টের পাশাপাশি লোকসানের পাল্লাও ভারী হচ্ছে।

সূত্রটি জানায়, ১৯৫৮-৫৯ মৌসুমে মিলটি আখ মাড়াই কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে যাত্রার পর থেকেই লোকসানের বোঝা টানছে। কর্তৃপক্ষ আখ আবাদে চাষীদের উদ্বুদ্ধ করলেও সময়মতো টাকা দিতে না পারায় হয়রানির শিকার হয়ে আখ উৎপাদনে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন চাষীরা। ফলে মিলটি অন্যান্য বছরের মতো চলতি মৌসুমেও কাঙ্ক্ষিত আখ মাড়াই কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার শঙ্কায় রয়েছে।

স্থানীয় আখচাষীরা বলছেন, সময়মতো সার, বীজ ও অর্থ পরিশোধ করলে এলাকার চাষীরা আখ আবাদ করবেন, না হলে মুখ ফিরিয়ে নেবেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো আখচাষীর টাকা বকেয়া নেই।

অন্যদিকে সুগার মিল শ্রমিকরা বলছেন, দীর্ঘ পাঁচ মাস ধরে বেতন বন্ধ রয়েছে। একদিকে করোনা মহামারীর কারণে বাজারে নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে গেছে, অন্যদিকে বেতন বন্ধ রয়েছে। এ অবস্থায় পরিবার নিয়ে চরম সংকটে দিন পার করতে হচ্ছে। এছাড়া পুরনো যন্ত্রপাতি দিয়েই কার্যক্রম পরিচালনা করায় বারবার লোকসান গুনতে হচ্ছে।

ঠাকুরগাঁও সুগার মিলের ইক্ষু সংগ্রহের উপব্যবস্থাপক সুমন কুমার সাহা বণিক বার্তাকে বলেন, আখ উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে আমরা চাষীদের নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। চাষরাি এখন নিয়মিত টাকা পাচ্ছেন। তবে চাহিদার তুলনায় আখ উৎপাদন হচ্ছে না। আমরা চেষ্টা করছি কৃষকদের আখ চাষে উদ্বুদ্ধ করতে।

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও সুগার মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুরুল কবির বলেন, নানা সংকট সত্ত্বেও চাষীদের বকেয়া পরিশোধের পাশাপাশি সার-কীটনাশক সরবরাহ করা হয়েছে। দ্রুতই শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধ করা হবে। তাছাড়া কারখানা পর্যায়ে চিনির দাম কমানোর জন্য এরই মধ্যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। দাম কমানো হলে গুদামে থাকা চিনি বিক্রি করা সম্ভব হবে।