রফতানি বাড়ছে, সঙ্গে চাঙ্গা হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতও। তবু কাঙ্ক্ষিত গতি ফিরছে না চীনের অর্থনীতিতে। দেশটির আবাসন খাতের সংকট ও সাধারণ মানুষের কেনাকাটা কমে যাওয়ার কারণেই এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। অর্থনীতিবিদদের জরিপ বলছে, চলতি বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে চীনের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৪ দশমিক ৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। খবর নিক্কেই এশিয়া।
নিক্কেই ও নিক্কেই কুইক নিউজের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত জরিপে ২২ জন শীর্ষ অর্থনীতিবিদ অংশ নেন। তাদের প্রাক্কলনে জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকের প্রবৃদ্ধির হার ৪ থেকে ৪ দশমিক ৮ শতাংশের মধ্যে থাকবে বলে জানানো হয়। অর্থনীতিবিদদের গড় হিসাব অনুযায়ী জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৪ শতাংশ হতে পারে, যা এপ্রিল-জুন প্রান্তিকের তুলানায় সামান্য বেশি।
ব্রিটিশ সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান বেইলি গিফোর্ডের গ্লোবাল বন্ড প্রধান স্যালি গ্রেইগ বলেন, গ্রীষ্মের মৌসুমে চীনের অর্থনৈতিক গতি অনেকটা কমে গেছে। তিনি আগস্টে খুচরা বিক্রির দুর্বল প্রবৃদ্ধি, প্রথম আট মাসে স্থির সম্পদে বিনিয়োগ হ্রাস ও আবাসন খাতে প্রায় ২০ শতাংশ ধসের চিত্র তুলে ধরেন।
স্যালি গ্রেইগ বলেন, ‘রফতানি বৃদ্ধি ও এআই-সংক্রান্ত উৎপাদন খাত অর্থনীতিকে কিছুটা ধরে রাখলেও তা অভ্যন্তরীণ দুর্বল চাহিদা ও আবাসন খাতের সংকট কাটাতে মোটেও যথেষ্ট নয়।’
ডাচ আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইএনজির প্রধান অর্থনীতিবিদ লিন সং জানান, চীনের মন্দাকবলিত আবাসন খাতই এখন অর্থনীতির জন্য বড় বাধা।
দেশটির অভ্যন্তরীণ বাজার চাঙ্গা করতে সরকার সামনে আরো বড় ধরনের প্রণোদনা প্যাকেজ উন্মোচন করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। মিজুহো ব্যাংকের সিনিয়র অর্থনীতিবিদ হিদেকি ইতো বলেন, ‘স্থানীয় চাহিদার ওপর ঋণাত্মক চাপ মারাত্মক রূপ নিচ্ছে। সরকারের নতুন কোনো আর্থিক প্রণোদনা ছাড়া পুরো বছরের প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৩ শতাংশের বেশি হওয়া কঠিন।’










