অপ্রতুল ইন্টারনেট সুবিধার কারণে ব্যাহত হচ্ছে সিলেটের শেওলা স্থলবন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম। সময়মতো বিল অব এন্ট্রি ও বিল অব এক্সপোর্ট আপলোড করা যাচ্ছে না। ফলে স্থলবন্দর এলাকায় আটকা পড়ছে বিপুলসংখ্যক ট্রাক। এতে সরকারের রাজস্ব আহরণের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। হয়রানির শিকার হচ্ছেন আমদানিকারকরা। রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকের কোনো শাখা না থাকায় জানা গিয়েছে, দেশের আমদানি-রফতানিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখলেও সিলেটের শেওলা স্থলবন্দর নানা সমস্যায় জর্জরিত। পর্যাপ্ত ইন্টারনেট সুবিধার অভাবে অটোমেটেড সিস্টেম ফর কাস্টমস ডাটা পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সম্প্রতি এ স্থলবন্দর দিয়ে অটোমেটেড সিস্টেম ফর কাস্টমস ডাটার মাধ্যমে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম পরিচালনার আদেশ জারি করে। কিন্তু শেওলা স্থলবন্দর এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবা খুবই দুর্বল। ফলে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পাদন করতে পারে না। এ কারণে যথাসময়ে আমদানি-রফতানি সংক্রান্ত শুল্ক পরিশোধ করা সম্ভব হয় না। ফলে পণ্যবাহী ট্রাকগুলোকে ২-১ দিন আটকে থাকতে হয়। এতে আমদানি-রফতানিকারদের বিলম্ব শুল্ক বাবদ বিপুল অর্থ গুনতে হয়।
কাস্টমস ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং এজেন্টসহ আমদানিকারকরা জানিয়েছে, এ স্থলবন্দরে ইন্টারনেটের ব্যবস্থা না করে এবং শুল্ক স্টেশনের কাছাকাছি সোনালী ব্যাংকের শাখা স্থাপন না করা পর্যন্ত সাবেক ব্যবস্থায় শুল্ক গ্রহণপূর্বক আমদানি-রফতানি কার্যক্রম পরিচালনা করা প্রয়োজন।
সিলেট কয়লা আমদানিকারক গ্রুপের সভাপতি চন্দন সাহা বলেন, শেওলা ব্রিজ থেকে কাস্টমস অফিস পর্যন্ত সড়কটির স্থায়ী ও টেকসই উন্নয়ন এবং মেরামতের জন্য বার বার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে তাগিদ দিয়ে আসছি। সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ দায়সারাভাবে মেরামত করে দেয়। এরপর পুনরায় আগের মতো জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে। গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি কিছুদিন পর পরই যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। সড়কটির স্থানে স্থানে গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। ফলে মালামাল নিয়ে ট্রাক চলাচলে সমস্যা হয়। তিনি সড়কটির আরসিসি ঢালাই করে দেয়ার দাবি জানান।
সিলেট জেলা কাস্টমস ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং এজেন্ট গ্রুপের সাবেক সভাপতি আলহাজ শাহ আলম বলেন, সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধির জন্য এ স্থলবন্দরকে উন্নত করে গড়ে তুলতে হবে। এজন্য সবার আগে নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট ব্যবস্থা এবং শুল্ক স্টেশনের কাছাকাছি সোনালী ব্যাংকের শাখা স্থাপন অপরিহার্য।
সিলেট জেলা কাস্টমস ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং এজেন্ট গ্রুপের বর্তমান সভাপতি মো. বশিরুল হক বলেন, সরকার প্রতি বছর এ স্থলবন্দর থেকে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় করে। ব্যাংকিং ব্যবস্থা সহজতর, সহজলভ্য ইন্টারনেট সেবা ও রাস্তাটি সংস্কার হলে এ স্থলবন্দরের আয় অনেক গুণ বেড়ে যাবে।
সিলেটের শেওলা স্থলবন্দরের রাজস্ব কর্মকর্তা মুহাম্মদ কামরুল ইসলাম বলেন, সরকারের রাজস্ব বাড়ানোর স্বার্থে নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সেবা না থাকায় অ্যাসাইকুডা সিস্টেম যথাযথভাবে ব্যবহার করা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, রাস্তাঘাটের অবস্থা খুব খারাপ। দ্রুত সংস্কার করা প্রয়োজন।










