বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘমেয়াদী অর্থায়নের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে বেগবান করার ক্ষেত্রে পুঁজিবাজারকে আর্থিক খাতের অন্যতম স্তম্ভ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ স্তম্ভটি অর্থাৎ পুঁজিবাজারটি একটি শক্ত ভিতের ওপর না দাঁড়ালে একটি প্রবৃদ্ধিশীল ও টেকসই অর্থনীতি সুনিশ্চিত করা সম্ভব নয়। একটি দক্ষ ও শক্ত পুঁজিবাজার একদিকে যেমন বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বড় অংকের পুঁজির যোগান দেয় আবার, অন্যদিকে দেশের বৃহৎ অংশের বিনিয়োগকারীদের জন্য মূলধনী ও লভ্যাংশ আয়েরও সুযোগ করে দেয়। বর্তমানে করোনা মহামারীর বিপর্যয়ে পিছিয়ে পড়া আমাদের দেশের অর্থনীতিকে বিশেষকরে করোনা মহামারী উত্তর সময়ে বেগবান ও চাঙ্গা করতে একটি শক্তিশালী ও ঊর্ধ্বমুখী পুঁজিবাজার খুবই জরুরি হয়ে পড়বে।

গত ডিসেম্বর ২০১৯ চীনে নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ও পরবর্তীতে এর সংক্রমণ সারাবিশ্বে মহামারী আকার ধারণ করায় বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল ছোট-বড় আর্থিক বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ওজিলি এবং থ্যাংকম (২০২০) অনুযায়ী করোনাকালীন ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৯ মার্চ এর মতধ্যে এসএন্ডপি ৫০০ সূচক ২৮ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে, এফটিএসই ২৫০ সূচক ৪১ দশমিক ৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে, এবং নিক্কেই সূচক ২৯ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। একই কারণে ডিসেম্বর ২০১৯ তুলনায় জুন ২০২০ এ আমাদের ডিএসই ৩০ সূচক হ্রাস পেয়েছে ১২ শতাংশ, আর সিএসই ৩০ সূচক হ্রাস পেয়েছে ১৩ শতাংশ।

করোনাকালে বিশ্বের বড় বড় পুঁজিবাজারে তুলনায় আমাদের দেশের পুঁজিবাজারে তেমন বড় ধরনের ধস না নামলেও বড় অংকের নিম্নমুখী বাজার প্রবণতা দৃশ্যমান। বর্তমান আপদকালীন সময়ে নিম্নমুখী বাজার প্রবনতার জন্য করোনা মহামারীর প্রাকৃতিক বিপর্যয়কে আপাতত দায়ী করা যেতে পারে। কেননা, করোনা মহামারীর বৈষয়িক ছোবলে জীবন, জীবিকা ও অর্থনীতি যখন অনিশ্চয়তায়  দোদুল্যমান তখন পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ সঙ্কুচিত হওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। যেকোনো অনিশ্চয়তার পরিবেশে সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখে এবং অনেক পুরনো বিনিয়োগকারী পুঁজিবাজারের বিনিয়োগ থেকে অর্থ উত্তোলনের চেষ্টা করে যার ফলে পুঁজিবাজার প্রবণতা নিম্নমুখী হতে বাধ্য। চাইনিজ প্রতিষ্ঠান আলিবাবা ডটকমের প্রতিষ্ঠাতা জ্যাক মার মতে করোনা মহামারী সময় যে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে পারছে সেই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে তার বিনিয়োগ বা ব্যবসা থেকে পর্যাপ্ত প্রতিদান পেয়েছে। প্রত্যাশিত সফলতার চেয়ে করোনা মহামারীর সময়ে নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখাটাই আসল কথা। কাজেই, করোনা মহামারী দুর্যোগকালীন সময়ে আমাদের দেশের পুঁজিবাজার তার অস্তিত্ব নিয়ে ভালোভাবেই যে টিকে আছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে যে, করোন মহামারি উত্তর আমাদের দেশে কি একটি শক্তিশালী পুঁজিবাজারের দেখা পাওয়া সম্ভব?

অনেক বাজার-বিশ্লেষক এর মতো আমারও মনে হয় যে, করোনা মহামারী উত্তর আমাদের দেশের পুঁজিবাজার গুলোকে টেকসই ও শক্তিশালী করার জন্য নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর জরুরি বাস্তবায়ন দরকার-

(ক) একটি স্বচ্ছ ও সহজ বাজার কাঠামো: বর্তমানে আমাদের পুঁজিবাজারে শেয়ার ইস্যু করার জন্য বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে(BBM) প্রাথমিক গণ প্রস্তাব(IPO) করা হয়ে থাকে। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে প্রাথমিক গণ প্রস্রাব করা সময় সাপেক্ষ ও কিছুটা জটিল। তাছাড়া, এ পদ্ধতিতে শেয়ারের সত্যিকারের চাহিদা ও দাম নির্ধারণ করা হয়ে থাকে কি-না সে ব্যাপারেও অনেকে সন্দিহান! এ কারণেই প্রাথমিক গণপ্রস্তাব কে কিভাবে আরো বস্তুনিষ্ঠ,সহজ, ও ত্বরান্বিত করা যায় সে ব্যাপারে আমাদের ভাবার সময় এসেছে। কভিড-১৯ মহামারীর প্রাদুর্ভাব এর কারণে সরকারি সাধারণ ছুটির সময় আমাদের পুঁজিবাজার প্রায় দুই মাস বন্ধ ছিল যা পৃথিবীতে বিরল। হঠাৎ পুঁজিবাজার বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে খুচরা বিনিয়োগকারীরা কোনো শেয়ার লেনদেন করতে পারেনি যার ফলে অনলাইন শেয়ার লেনদেন এর সুবিধা থাকা সত্ত্বেও তারা ওই সময়ে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে । তাই অনলাইন লেনদেনেকে আরও সহজ ও কার্যকরী করার সাথে সাথে বিনিয়োগকারীদেরকেও এ ব্যাপারে আরও দক্ষ করে গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। খুচরা বিনিয়োগকারীদের জন্য পুঁজিবাজারের যেকোনো তথ্যের সহজলভ্যতা সুনিশ্চিত করা গেলে পুঁজিবাজার কারসাজি অনেকাংশে কমে যাবে। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের আর্থিক প্রতিবেদনে হিসেবের অসঙ্গতি দূর করার জন্য বিএসইসি কে একটি দক্ষ ও সৎ অডিটর প্যানেল নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন। বিনিয়োগকারীরা পুঁজিবাজারে তাদের যাবতীয় লেনদেন বিও(BO) হিসেবের মাধ্যমে সম্পাদন করে আর আমাদের দেশে যে পরিমাণ বিও হিসাব খোলা হয়েছে তার অর্ধেকই প্রায় অকার্যকর রয়েছে। পুঁজিবাজার কারসাজি রোধে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে এ সমস্ত বিশাল অংকের অকার্যকর বিও হিসাব খতিয়ে দেখার প্রয়োজন রয়েছে।

(খ) বৈচিত্র্যময় নতুন পুঁজিবাজার দ্রব্য: আমাদের দেশের পুঁজিবাজার গুলোতে মূলতঃ বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সাধারণ শেয়ার ইস্যু ও কেনা-বেচা হয়ে থাকে। শেয়ারে বিনিয়োগ কখনও ঝুঁকি মুক্ত নয়। যে সমস্ত বিনিয়োগকারী শেয়ার ছাড়া অন্য কোনো  পুঁজিবাজারে  দ্রব্যে বিনিয়োগ করতে চায় তাদের জন্য তেমন কোনো পুঁজিবাজার দ্রব্য নেই বললেই চলে-যেমন: আর্থিকভাবে সচ্ছল ও বিশ্বাসযোগ্য ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের বন্ড বা ডিবেঞ্চার, ইসলামিক বন্ড (সুকুক), মিউনিসিপাল বন্ড, সরকারী বা সার্বভৌম বন্ড, বিভিন্ন ধরনের ফাইনান্সিয়াল ডিরাইভেটিভ ইত্যাদি। তবে আশার কথা হচ্ছে যে, সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ কমিশন ইতিমধ্যেই (সূত্র: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, ১৫ আগস্ট,২০২০) বিদেশি ব্যাংক স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড সহ বেশ কিছু ব্যাংকের বন্ড বাজারে ছাড়ার উদ্যোগ গ্রহণ করছে এবং একই সাথে সরকারি বন্ড ইস্যুর উদ্যোগ গ্রহণ করলে দেশের পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগও বাড়বে। যেহেতু, বন্ডে  বিনিয়োগের ঝুঁকি শেয়ারে বিনিয়োগ এর চেয়ে কম সেহেতু সাধারণ বিনিয়োগকারীরা বন্ডে বিনিয়োগে আগ্রহী হবে যা পুঁজিবাজারকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে।

(গ) স্বচ্ছল ও বিশ্বাসযোগ্য আর্থিকপত্র ইস্যুকারী: পুঁজিবাজারে শেয়ার বা বন্ড যাই ইস্যু করা হোক না কেন তার ইস্যুকারী যদি আর্থিকভাবে সচ্ছল ও বিশ্বাসযোগ্য না হয় তাহলে পুঁজিবাজারে জনগণ অর্থ বিনিয়োগ করতে চায়না। পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ এমনিতেই ঝুঁকিপূর্ণ তার উপর ইস্যুকারী  যদি কোন প্রতারণা বা কারসাজির আশ্রয় নেয় সে ক্ষেত্রে পুঁজিবাজারকে কখনোই শক্তিশালী করা সম্ভব নয়। যেসমস্ত প্রতিষ্ঠান আর্থিকভাবে সচ্ছল, ভালো মুনাফা অর্জন করে এবং  সময় মতো আশাতীত লভ্যাংশ বিনিয়োগকারীদেরকে প্রদান করতে সক্ষম  সেসমস্ত প্রতিষ্ঠানকে পুঁজিবাজারে আর্থিক পত্র ইস্যু করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ইস্যুকারী ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের ব্যবসায় সফল না হলে  প্রয়োজনীয় মুনাফা অর্জন করতে পারে না এবং শেয়ার মালিকদেরকে আশাতীত লভ্যাংশ প্রদানের ব্যর্থ হয়। অন্যদিকে যে সমস্ত প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রতারণা বা বাজার কারসাজির অভিযোগ রয়েছে সে সমস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে চিহ্নিত করে বিধি মোতাবেক তড়িৎ যথাযথ শাস্তির আওতায় আনতে হবে যার ফলে বাজার কারসাজি বা প্রতারণা অনেকাংশে কমে যাবে এবং বাজারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে । গত ১৩ আগস্ট ২০২০ তারিখের  বিএসইসি-এর ৭৩৫তম কমিশনের  সভায় জেড (Z) ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে শাস্তিমুলক ব্যবস্থা  তালিকাচ্যুতি সহ বেশ কিছু নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে যা খুবই জরুরী ছিল। তাছাড়া, দীর্ঘদিন যাবৎ এদেশে ব্যবসা করছে এমন বহুজাতিক ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠান গুলোকে অত্যাবশ্যক ভাবে পুঁজিবাজারে আর্থিক পত্র ইস্যু করার উদ্যোগও গ্রহণ করতে হবে।

(ঘ) বিপুল সংখ্যক বিজ্ঞ ও যৌক্তিক  বিনিয়োগকারী: পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ থেকে যেমন ব্যাপক লাভের সম্ভবনা থাকে ঠিক তেমনি ব্যাপক ক্ষতির সম্ভাবনাও থাকে। পুঁজিবাজারের যে কোন ক্ষতির জন্য বিনিয়োগকারী নিজেকেই দায়ী থাকতে হয়, আর এর দায়ভার অন্য কেউ গ্রহণ করে না। সে কারণে, শুধুমাত্র অন্যের তথ্যের উপর নির্ভর না করে বাজার তথ্য বিশ্লেষণ ও পর্যবেক্ষণ করে ভেবে-চিন্তে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করা উচিত। পুঁজিবাজারে লাভের পাশাপাশি লোকসানকেও মেনে নেওয়ার মানসিকতা  বিনিয়োগকারীদের মধ্যে থাকতে হবে। প্রয়োজনীয় ও পর্যাপ্ত জ্ঞান না থাকলে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ না করাই শ্রেয়। পুঁজিবাজারে যখন অধিক সংখ্যক বিজ্ঞ ও যৌক্তিক বিনিয়োগকারীর উপস্থিতি বৃদ্ধি পায় তখন যে কোন বাজার কারসাজির সম্ভাবনা কমে যায়। বিভিন্ন ধরনের কর্মশালা, প্রচার, ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সাধারণ বিনিয়োগকারীদেরকে বিজ্ঞ ও যৌক্তিক হিসাবে গড়ে তোলার কার্যকরী ব্যবস্থা পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে ব্যাপক হারে নিতে হবে।

(ঙ) একটি দক্ষ ও দায়িত্বশীল বাজার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা:  ক, খ, গ ও ঘ অনুচ্ছেদে আলোচিত প্রতিটি বিষয়ই বাস্তবায়নে যে সংস্থাটি সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখতে পারে সেটা  হচ্ছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। আমাদের পুঁজিবাজারের ইতিহাসে পুঁজিবাজারে বড় দুইটি ধস নেমেছিল ১৯৯৬ ও ২০১০ সালে যার ফলে ঐ সময় অনেক মাধ্যম ও প্রান্তিক বিনিয়োগকারী মূলধন হারিয়েছেন যার ফলে পুঁজিবাজারে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আস্থায় বড় ধরনের ভাঙন বা চিড় দেখা গিয়েছিল। আবার অন্যদিকে মুষ্টিমেয় কিছু সংখ্যক বিনিয়োগকারী বেশ লাভবানও হয়েছেন যা কখনো কাম্য ছিলনা। আর এই বাজার ভারসাম্যহীনতার জন্য অনেক বিশ্লেষকগণ পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থাসংস্থা বিএসইসি এর ভূমিকাকে দায়ী করেন। কেননা, বাজার ধসের পেছনে যারা কারসাজি করেছেন তাদেরকে বের করে উপযুক্ত শাস্তির আওতায় আনা হয়নি এবং এর ফলে পুঁজিবাজারে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতা দীর্ঘস্থায়ী হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের  দুশ্চিন্তা বা আস্থাহীনতাই আমাদের দেশের পুঁজিবাজার শক্তিশালীনা হওয়ার প্রধান অন্তরায় হিসেবে অনেকে মনে করেন। বর্তমানে ব্যাংকে গচ্ছিত বিভিন্ন সঞ্চয় এর উপরে সুদের হার ব্যাপক হারে হ্রাস করার ফলে অনেকেই হয়তো বিনিয়োগের বিকল্প ব্যবস্থা খোঁজবেন। আর এই সময়টায় পুঁজিবাজার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি দীর্ঘস্থায়ী ও উত্তম বিনিয়োগের প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠতে পারে।  তাই, বিএসইসি-কে শুধুমাত্র ঠোঁট জগন্নাথ হয়ে বসে না থেকে এবং  তথাকথিত অদৃশ্য রাজনৈতিক বলয় থেকে বেরিয়ে এসে সাধারণ বিনিয়োগকারীর স্বার্থ সুরক্ষা ও আস্থা সমুন্নত রাখার জন্য প্রয়োজনীয় বিধি, তদারকি, ও নিয়ন্ত্রণের কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। বিসিআইসি-তে আরো গতিশীলতা ও দক্ষতা আনার উদ্দেশ্যে এ বছরেই মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে সরকার  নতুন সভাপতি নিয়োগ দিয়েছেন। গত ১৪ই আগস্ট,২০২০ ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন অনুযায়ী আমাদের দেশের পুঁজিবাজারে লেনদেন বৃদ্ধি পাচ্ছে যা বাজার ঘুরে দাঁড়ানোর একটা প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত। আমরা আশা রাখি নতুন সভাপতির নেতৃত্বে বিএসইসি আমাদের পুরনো ধ্যান-ধারণা ভেঙ্গে দিয়ে সঠিক পথে ঘুরে দাঁড়াবে এবং পুঁজিবাজার উন্নয়নে বা শক্তিশালীকরণে প্রয়োজনীয় যাকিছু দরকার তার ব্যবস্থা গ্রহণ করবে অর্থাৎ পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বিএসইসি দক্ষতার ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেবে। আর,  আমরাও  করোনা মহামারী উত্তর একটি শক্তিশালী পুঁজিবাজার প্রত্যক্ষ করব যা দেশের আপতত পিছিয়ে পড়া অর্থনীতিকে সম্মুখে ছুটে যেতে প্রয়োজনীয় রসদ যোগাবে।   

লেখক: ডিন, ফ্যাকাল্টি অব বিজনেস স্টাডিস
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়