মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পণ্য পরিবহনে বড় ধরনের বাধা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বিকল্প পথে পণ্য পরিবহন বাড়ছে। এর অংশ হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) শারজাহ ও ওমানের মধ্যে চালু হওয়া লজিস্টিকস করিডোরে পণ্য লেনদেনের পরিমাণ গত তিন মাসে দ্রুত বেড়েছে। খবর দ্য ন্যাশনাল।
চালুর প্রথম তিন মাসে এ করিডোর দিয়ে পণ্য বাণিজ্য ৬৬ শতাংশের বেশি বেড়েছে। গত ১৭ মে করিডোরটি চালুর পর এ পথে ১৭০ কোটি দিরহাম বা ৪৬ কোটি ৩২ লাখ ডলারের পণ্য পরিবহন হয়েছে।
শারজাহ পোর্টস, কাস্টমস অ্যান্ড ফ্রি জোনস অথরিটি ও ওমান কাস্টমস যৌথভাবে এ করিডোর চালু করে। সীমান্ত পার হয়ে ওমানের বন্দরগুলোয় সহজে পণ্য পাঠানোর সুযোগ তৈরি করাই ছিল এর উদ্দেশ্য।
শারজাহ কাস্টমস জানায়, এ উদ্যোগ সমুদ্র ও স্থলপথের সমন্বিত একটি লজিস্টিকস ব্যবস্থা তৈরি করায় পণ্য পরিবহনের প্রবাহ সহজ হয়েছে। একই সঙ্গে সরবরাহ ব্যবস্থার দক্ষতাও বাড়ছে। আমদানিকারক, রফতানিকারক, পণ্যবাহী পরিবহন কোম্পানি ও লজিস্টিকস সেবাদাতারা এ করিডোরের মাধ্যমে আরো নমনীয় ও প্রতিযোগিতামূলক পরিবহন সুবিধা পাচ্ছেন।
মদ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের সপ্তম মাসেও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ রয়েছে। বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলার কারণে এ পথে চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস বাণিজ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সরু জলপথটি দিয়ে পরিবহন করা হতো। হরমুজে জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ায় পণ্য বাণিজ্য ও বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায়ও প্রভাব পড়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে পণ্য পরিবহনে ইউএইতে ভারী পণ্যবাহী যানবাহনের ব্যবহার বেড়েছে। এসব যান ওমান ও সৌদি আরব থেকে সুপারমার্কেটের নিত্যপণ্য থেকে শুরু করে শিল্পপণ্য সংগ্রহ করছে। পরে উৎপাদিত পণ্য ওমানের বন্দর দিয়ে বিভিন্ন গন্তব্যে পাঠানো হচ্ছে।
চালুর প্রথম তিন মাসে শারজাহ-ওমান লজিস্টিকস করিডোর দিয়ে ট্রাক চলাচল ৩৪ হাজার ছাড়িয়েছে। একই সময়ে ৩২ হাজারের বেশি কাস্টমস ঘোষণা প্রক্রিয়াকরণ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, করিডোরটি শারজাহ ও ওমানের বিভিন্ন বন্দর এবং লজিস্টিকস কেন্দ্রকে যুক্ত করেছে। কালবার খাতমাত মালাহা সীমান্ত ও আল মাদাম সীমান্ত দিয়ে এ সংযোগ ওমান পর্যন্ত বিস্তৃত। ফলে ব্যবসাগুলো পণ্য পরিবহনের জন্য একাধিক পথ ব্যবহার করতে পারছে। একই সঙ্গে পণ্য পরিবহনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সময় কমছে। কমছে পণ্য ওঠানো-নামানোর ধাপও। এতে লজিস্টিকস কার্যক্রম আরো দক্ষ হচ্ছে।
শারজাহ পোর্টস, কাস্টমস অ্যান্ড ফ্রি জোনস অথরিটির সীমান্ত ও প্রবেশপথবিষয়ক পরিচালক মোহাম্মদ আল রাইসি বলেন, ‘চালুর পর প্রথম কয়েক মাসের ফলাফল প্রকল্পটির পরিকল্পনার সফলতা দেখাচ্ছে। শুরু থেকেই ব্যবসায়ীদের জন্য শুধু একটি পণ্য পরিবহনের পথ নয়, বরং আরো বিস্তৃত সমন্বিত লজিস্টিকস সুবিধা তৈরির লক্ষ্য ছিল।’










