একটি ব্যাগ। দাম কখনো কয়েক হাজার ডলার, আবার বিশেষ সংস্করণ হলে কয়েক লাখ ডলারও। সাধারণ কোনো ফ্যাশন পণ্য নয় এটি; বরং বিলাসিতা, আভিজাত্য ও সামাজিক মর্যাদার প্রতীক হিসেবে পরিচিত। বলছি ফরাসি বিলাসপণ্য নির্মাতা আর্মেসের বারকিন ব্যাগের কথা।
বিশ্বের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত বিলাসী ব্যাগগুলোর একটি বারকিন। ২৫০ কারিগরের হাতের ছোঁয়ায় ১৮ ঘণ্টার পরিশ্রমে তৈরি হয় একটি ব্যাগ।
বারকিনের জনপ্রিয়তার পেছনে রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস। আছে নিখুঁত কারু শিল্প, সীমিত সরবরাহ ও তারকাদের আগ্রহ। সব মিলিয়ে কয়েক দশক ধরে ব্যাগটি ধরে রেখেছে নিজের বিশেষ অবস্থান।
বারকিন ব্যাগের গল্পের শুরু ১৯৮১ সালে, প্যারিস থেকে লন্ডনগামী একটি উড়োজাহাজে। সেদিন অভিনেত্রী ও সংগীতশিল্পী জেন বারকিনের হাত থেকে তার কিছু জিনিসপত্র পড়ে যায়। কথিত আছে, তিনি সবসময় একটি ঝুড়ি সঙ্গে রাখতেন। ওইদিন উড়োজাহাজে ঝুড়িটি ওপরে রাখার পর এর ঢাকনা খুলে যায়। ছড়িয়ে পড়ে তার জিনিসপত্র।
বারকিনকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসেন পাশের আসনের এক ব্যক্তি। তিনি ছিলেন আর্মেসের তৎকালীন নির্বাহী চেয়ারম্যান জ্যঁ-লুই দ্যুমা। কথাবার্তার একপর্যায়ে জেন বারকিন জানান, প্রতিদিনের ব্যবহারের জন্য উপযোগী বড় ও ব্যবহারিক একটি ব্যাগ খুঁজছেন তিনি। তখন দ্যুমা সেখানেই ব্যাগটির নকশা আঁকতে শুরু করেন। সে ধারণা থেকেই তৈরি হয় বারকিন ব্যাগ। এরপর ১৯৮৪ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে বাজারে আসে এটি।
তবে শুরুতেই এটি এতটা জনপ্রিয় ছিল না। আশির দশকে বিলাসী ব্যাগের বাজারে আধিপত্য ছিল শ্যানেলের। বারকিনের জনপ্রিয়তা বাড়তে শুরু করে মূলত নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি থেকে। এরপর দ্রুতই এটি হয়ে ওঠে ‘ইট-ব্যাগ’ বা বিশেষ আকর্ষণের ফ্যাশন পণ্যের প্রতীক।
এছাড়া ব্যাগটির বিশেষত্বের অংশ ওয়েটিং লিস্ট। আর্মেসের দোকানে গিয়ে ইচ্ছেমতো বারকিন কেনা যায় না। বিলাসী পণ্যটি কিনতে হলে আগে দোকানটির পুরনো ও নিয়মিত ক্রেতা হতে হয় এবং কেনাকাটার নির্দিষ্ট ইতিহাস থাকতে হয়। তাছাড়া ব্র্যান্ডটির প্রতিটি দোকান বছরে খুব সীমিতসংখ্যক ব্যাগ তৈরির অর্ডার দিতে পারে। ফলে বিপুল অর্থ থাকলেও চাইলেই ব্যাগ সংগ্রহ করা সম্ভব নয়।
সাধারণ চামড়ার একটি বারকিনের দাম প্রায় ১০ হাজার ডলার থেকে শুরু হতে পারে। বিশেষ চামড়া, হীরা বসানো নকশা বা বিরল সংস্করণের দাম কয়েক লাখ ডলার পর্যন্ত উঠে যায়।
২০১৭ সালের এক গবেষণা অনুযায়ী, ৩৫ বছরে বারকিন ব্যাগের মূল্য ৫০০ শতাংশ বেড়েছে। এখন পর্যন্ত নিলামে বিক্রি হওয়া সবচেয়ে দামি বারকিন হলো ‘হিমালয়া বারকিন’, যার দাম ৫ লাখ ডলারের কিছু বেশি।
সীমিত সরবরাহের পাশাপাশি দীর্ঘ কারু শিল্পের ঐতিহ্যও ব্যাগটির মূল্য বাড়িয়ে দেয়। ফ্রান্সের ৫২টি স্থানে আর্মেসের ব্যাগ তৈরি হয়। একেকটি ব্যাগ কাটিং, পরিমার্জন ও সেলাইয়ের কাজে ১৮০-২৫০ জন কারিগরের দল যুক্ত থাকে। পুরো কাজই করা হয় হাতে। একটি বারকিন তৈরি করতে চলে যায় প্রায় এক দিন।
খবর ও ছবি গ্ল্যাম অবজার্ভার










