সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ী ঘাটের তরল দুধের জিআইয়ের জন্য আবেদন করেছে বাংলাদেশ দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় ইউনিয়ন লিমিটেড (মিল্ক ভিটা)। পেটেন্ট, শিল্প নকশা ও ট্রেড মার্কস অধিদপ্তরে বর্তমানে ১৭টি পণ্যের জিআই আবেদন প্রক্রিয়াধীন। এর মধ্যে অন্যতম হলো মিল্ক ভিটার তরল দুধের আবেদন। ২০১৭ সালের ২৬ জানুয়ারি তরল দুধের জিআইয়ের জন্য আবেদন করেন তৎকালীন মিল্ক ভিটার সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ী ঘাট দুগ্ধ কারখানার উপব্যবস্থাপক ডা. এএফএম ইদ্রিস। ২০২৩ সালের ২১ মার্চ এবং একই বছর ১৬ নভেম্বর দুইবার শুনানি হলেও মিল্ক ভিটার পক্ষ থেকে পুনরায় দুই মাস সময় প্রার্থনা করা হয়।

প্রায় ২০ একর জমির ওপর ১৯৭৩ সালে নির্মিত হয় সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ী ঘাট দুগ্ধ কারখানা। বর্তমানে এ কারখানায় দৈনিক তরল দুধ ধারণ সক্ষমতা দুই লাখ টন। তরল দুধ প্রক্রিয়াজাতের সক্ষমতা ১২ হাজার লিটার, গুঁড়ো দুধ উৎপাদন সক্ষমতা দৈনিক আট টন, ঘি উৎপাদন সক্ষমতা দৈনিক দেড় টন এবং মাখন উৎপাদন সক্ষমতা দুই টন। এখানে ৬৯২টি প্রাথমিক সমিতির অধীনে সমবায়ী সদস্য ২৭ হাজার ৯৩৯ জন। গো-চারণের জন্য বাথান ভূমির পরিমাণ ১ হাজার ২৫ একর। বাথান ভূমির সুবিধাভোগী সমবায় সমিতির সংখ্যাও ৪৪টি। আর বাথান ভূমির সুবিধাভোগী পরিবারের সংখ্যা মোট দেড় হাজার। 

জিআই স্বীকৃতির জন্য দেয়া আবেদনে মিল্ক ভিটার পক্ষ থেকে সিরাজগঞ্জ অঞ্চলের দুধের বিশেষত্ব হিসেবে উল্লেখ করা হয়, এ দুধের আপেক্ষিক ঘনত্ব ১ দশমিক ২৮, ননীর হার ৪ থেকে ৪ দশমিক ২ এবং এসএনএফ ৮ শতাংশ। উৎপাদনের ভৌগোলিক এলাকা হিসেবে উল্লেখ করা হয় শাহজাদপুর, উল্লাপাড়া, ফরিদপুর, ভাঙ্গুড়া, সাঁথিয়া ও বেড়া উপজেলা। 

বাংলাদেশ কপিরাইট অ্যান্ড আইপি ফোরামের (বিসিআইপিএফ) প্রতিষ্ঠাতা ব্যারিস্টার এবিএম হামিদুল মিসবাহ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘মিল্ক ভিটা আবেদন করতে পারে না জিআইয়ের জন্য। এটি আইন অনুমোদন করে না। আইন অনুযায়ী একভাবে সম্ভব সেটা হলো, যদি বলা হয় বাঘাবাড়ীঘাটের গাভীর দুধ—তাহলে। মিল্ক ভিটা এটির আবেদন করতেই পারে না। যদি বিশেষত্ব থাকে তাহলে ওই বিশেষ কৃষক শ্রেণী তাদের সমিতি থেকে আবেদন করতে পারে। আগে বিশেষত্ব আছে কিনা সেটা জানতে হবে। আইন একটি সুযোগ দিয়েছে, তার মানে এই না যে সবাই এটি পাবে। এটি সম্ভব না। আইন এটি বলে না। 

তিনি আরো বলেন, ‘অ্যাট্রিবিউশন, ট্রেইসঅ্যাবিলিটি, পণ্যের গুণাগুণ—এগুলো ডকুমেন্টের মাধ্যমে প্রমাণ করতে হবে। সারা দেশ থেকেই মিল্ক ভিটার দুধ আসে। কিন্তু ওই এলাকার দুধ আলাদা করবে কীভাবে। এগুলো তো মিল্ক ভিটা হিসেবেই সারা দেশে বাজারজাত হয়, যেখানে সারা দেশের সব জায়গা থেকে দুধ আসে। কীভাবে এটি অন্য দুধ থেকে আলাদা, সেটা তো বোঝার উপায় নেই। 

পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মুনিম হাসান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আমি দায়িত্ব নিয়েছি কয়েক মাস হয়েছে। আগামী এক বছরের অন্তত ১০০টি পণ্য জিআই তালিকভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে আমার। বর্তমানে ১৭টি পণ্য জিআইয়ের জন্য আবেদন করেছে সেগুলো প্রক্রিয়াধীন।’ 

মিল্ক ভিটার চেয়ারম্যান শেখ নাদির হোসেন লিপু বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আমরা সারা দেশ থেকেই দুধ সংগ্রহ করি কিন্তু গুঁড়ো দুধ তৈরি করি শুধু বাঘাবাড়ীঘাটের দুধ থেকে। কারণ এ দুধের যে পাউডার হয় তা অন্য কোনো জায়গার দুধে হয় না। বেস্ট কোয়ালিটির পাউডার হয়। সিরাজগঞ্জ এখনো তার ঐতিহ্য ধরে রেখেছে।’