যুক্তরাষ্ট্রে বিলাসপণ্যে ভোক্তাদের খরচ কমেছে। সেপ্টেম্বরে দেশটির ক্রেডিট কার্ডে লাক্সারি ব্র্যান্ডের কেনাকাটা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় কমেছে ৬ শতাংশ। এ নিয়ে টানা তৃতীয় মাসে খরচ কমল খাতটিতে। নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি নিয়ে ভোক্তাদের উদ্বেগ বাড়ার মধ্যেই এমন তথ্য সামনে এল। খবর রয়টার্স।
সিটি ব্যাংকের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, জুলাই ও আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে বিলাসপণ্য কেনাকাটায় ক্রেডিট কার্ডের খরচ ৪ শতাংশ করে কমেছিল। সেপ্টেম্বরে এ পতন আরো বেড়েছে। ব্যাংকটি লাখ লাখ ক্রেডিট কার্ড লেনদেনের তথ্য বিশ্লেষণ করে এ হিসাব দিয়েছে।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিলাসপণ্যের বাজার যুক্তরাষ্ট্র। চীনের বাজারে দীর্ঘদিনের দুর্বলতা ও ইরান যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাবের কারণে লাক্সারি ব্র্যান্ডগুলো যুক্তরাষ্ট্রের ধনী ক্রেতাদের ওপর বেশি নির্ভর করছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাত থেকে নতুন করে ধনী হওয়া ব্যক্তিদেরও এ বাজারের গুরুত্বপূর্ণ ক্রেতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে গত সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক বিলাসপণ্য কেনাকাটায় দুর্বলতা দেখা গেলেও ধনী ক্রেতাদের ব্যয় তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী ছিল। ফলে বাজারের সবচেয়ে দামি পণ্যগুলোর চাহিদা এখনো কিছুটা স্থিতিশীল রয়েছে।
সিটি ব্যাংকের বিশ্লেষকরা বলছেন, উচ্চ আয়ের ক্রেতাদের ওপর বেশি নির্ভরশীল ব্র্যান্ডগুলো তুলনামূলকভাবে ভালো অবস্থানে থাকতে পারে। শেয়ারবাজারে সম্পদের মূল্য বাড়ায় ধনী ক্রেতাদের ব্যয়ের সক্ষমতাও বাড়ছে।
সেপ্টেম্বরে চামড়াজাত পণ্য ও তৈরি পোশাকের বিক্রি আগের মাসের তুলনায় কিছুটা উন্নত হয়েছে। তবে ঘড়ি ও বিলাসবহুল গয়নার বাজারে পরিস্থিতি আশানুরূপ নয়। চলতি বছর পোশাক, জুতা ও চামড়াজাত পণ্য বিক্রি করা বেশির ভাগ বিলাসজাত ব্র্যান্ড পণ্যের দাম কয়েক শতাংশ বাড়িয়েছে। ঘড়ি ও গয়না নির্মাতাদের দাম বাড়ানোর হারও এর কাছাকাছি।
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বেশি ব্যবসা রয়েছে এমন বিলাসজাত ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে রয়েছে কোচ ও কেট স্পেডের মালিক ট্যাপেস্ট্রি, লুই ভুইতোঁ ও টিফানির মালিক এলভিএমএইচ এবং ইতালির ফেরাগামো।
বিলাসপণ্যে খরচ কমানোর প্রবণতা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি নিয়ে বাড়তে থাকা উদ্বেগের সঙ্গেও সম্পর্কিত। সম্প্রতি কনফারেন্স বোর্ড ও ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানের জরিপেও অর্থনীতি নিয়ে ভোক্তাদের উদ্বেগ বাড়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ভোক্তা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত ব্যয়ের ক্ষেত্রে কিছুটা সতর্ক থাকে। রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এ সময় বড় সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে পারে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বন্ডের সুদহার ও বন্ধকি ঋণের সুদহার বাড়ার চাপ। অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কা, এসব কারণে দেশটির অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরো ধীর হতে পারে।










