বিশ্বজুড়ে গত সেপ্টেম্বরে অপরিশোধিত ইস্পাতের উৎপাদন সামান্য কমেছে। ওয়ার্ল্ড স্টিল অ্যাসোসিয়েশনের (ওয়ার্ল্ডস্টিল) সম্প্রতি প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, গত সেপ্টেম্বরে ৭০টি দেশে উৎপাদন হয়েছে মোট ১৪ কোটি ২৪ লাখ টন অপরিশোধিত ইস্পাত। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় উৎপাদন কমেছে দশমিক ২ শতাংশ। এ সময় চীন, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো বড় উৎপাদক দেশগুলোয় উৎপাদন বাড়লেও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও মধ্যপ্রাচ্যে উৎপাদন কমেছে।

হেলেনিক শিপিং নিউজে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়ার্ল্ডস্টিলের হিসাবে, ২০২৫ সালে বিশ্বের মোট অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদনের প্রায় ৯৮ শতাংশ এসেছিল এ ৭০টি দেশ থেকে। ফলে এসব দেশের উৎপাদনের চিত্র থেকে বিশ্ব ইস্পাত শিল্পের সামগ্রিক পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

অঞ্চলভিত্তিক হিসেবে, এশিয়া ও ওশেনিয়া ছিল ইস্পাত উৎপাদনে শীর্ষে। গত সেপ্টেম্বরে এ অঞ্চলে উৎপাদন হয়েছে ১০ কোটি ৪০ লাখ টন, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় দশমিক ৭ শতাংশ বেশি।

বিশ্বের বৃহত্তম ইস্পাত উৎপাদক চীনে সেপ্টেম্বরে উৎপাদন হয়েছে ৭ কোটি ৩৬ লাখ টন। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় উৎপাদন বেড়েছে দশমিক ১ শতাংশ। দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎপাদক ভারতে উৎপাদন ১ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৩৯ লাখ টনে।

যুক্তরাষ্ট্রেও উৎপাদন বেড়েছে। সেপ্টেম্বরে দেশটিতে অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন আনুমানিক ৭২ লাখ টনে পৌঁছেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি। রাশিয়ায় উৎপাদন ৬ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ৫৫ লাখ টন হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ায় উৎপাদন ৩ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ৫২ লাখ টনে দাঁড়িয়েছে। তুরস্কে উৎপাদন বেড়েছে দশমিক ৮ শতাংশ, মোট ৩২ লাখ টন।

তবে কয়েকটি বড় উৎপাদক দেশে উৎপাদন কমেছে। জাপানে সেপ্টেম্বরে উৎপাদন দশমিক ৬ শতাংশ কমে ৬৩ লাখ টনে দাঁড়িয়েছে। ব্রাজিলে উৎপাদন দশমিক ৮ শতাংশ কমে হয়েছে ২৮ লাখ টন। জার্মানিতে উৎপাদন ১৩ শতাংশ কমে নেমে এসেছে ২৬ লাখ টনে।

অন্যদিকে ভিয়েতনামে উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। দেশটিতে সেপ্টেম্বরে ২৬ লাখ টন অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৯ দশমিক ১ শতাংশ বেশি।

অঞ্চলভিত্তিক হিসেবে, আফ্রিকায় উৎপাদন ১০ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ২২ লাখ টন হয়েছে। উত্তর আমেরিকায় উৎপাদন ৩ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ৯৩ লাখ টনে দাঁড়িয়েছে। দক্ষিণ আমেরিকায় উৎপাদন সামান্য বেড়ে ৩৫ লাখ টন হয়েছে।

অন্যদিকে ইইউর ২৭টি দেশে উৎপাদন ৫ শতাংশ কমে ১ কোটি ১০ লাখ টনের কাছাকাছি নেমেছে। মধ্যপ্রাচ্যে পরিস্থিতি আরো খারাপ ছিল। এ অঞ্চলে উৎপাদন ২০ দশমিক ৪ শতাংশ কমে ৩৬ লাখ টনে দাঁড়িয়েছে। রাশিয়া, অন্যান্য স্বাধীন রাষ্ট্রের কমনওয়েলথভুক্ত দেশ ও ইউক্রেনে সম্মিলিত উৎপাদন কমেছে ১ দশমিক ৯ শতাংশ।

সব মিলিয়ে এশিয়ার প্রধান উৎপাদক দেশগুলোয় উৎপাদন বাড়লেও ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের দুর্বল পরিস্থিতির কারণে সেপ্টেম্বরে বিশ্বে ইস্পাত উৎপাদন সামান্য কমেছে। বৈশ্বিক বাজার পরিস্থিতি বদলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাজার বিশ্লেষকরা এ আঞ্চলিক ওঠানামা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।