চলতি বছরের শুরু থেকে নভেল করোনাভাইরাসের মহামারীর সঙ্গে লড়াই করেছে চীন। এ সময় লকডাউনের কারণে স্থবির হয়ে এসেছে দেশটির শিল্প উৎপাদন, ব্যবসা-বাণিজ্য, আমদানি-রফতানিসহ সামগ্রিক অর্থনৈতিক কার্যক্রম। তবে ব্যতিক্রম দেখা গেছে দেশটির ইস্পাত খাতে। বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) চীনে ইস্পাত উৎপাদনে ১ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন হয়েছে। তবে সর্বশেষ মার্চে দেশটিতে শিল্প ধাতুটির উৎপাদন কমতির দিকে ছিল। খবর সিনহুয়া ও রয়টার্স।

ইস্পাত উৎপাদনের তথ্য নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে চীনের ন্যাশনাল ব্যুরো অব স্ট্যাটিস্টিকস (এনবিএস)। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে দেশটির কারখানাগুলোয় সব মিলিয়ে ২৩ কোটি ৪৪ লাখ ৫০ হাজার টন ইস্পাত উৎপাদন হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১ দশমিক ২ শতাংশ বেশি।

তবে বছরের প্রথম তিন মাসে সম্মিলিতভাবে বাড়লেও সর্বশেষ মার্চে চীনের ইস্পাত উৎপাদন খাত মন্দার মুখে পড়েছে। দেশটির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মার্চে চীনের কারখানাগুলোয় উৎপাদিত ইস্পাতের পরিমাণ ছিল ৭ কোটি ৮৯ লাখ ৮০ হাজার টন। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় গত মার্চে দেশটিতে শিল্প ধাতুটির উৎপাদন কমেছে ১ দশমিক ৭ শতাংশ।

চীনের এনবিএসের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালের মার্চে দেশটিতে ৮ কোটি ৩ লাখ ৩০ হাজার টন ইস্পাত উৎপাদন হয়েছিল। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে চীনে শিল্প ধাতুটির উৎপাদন কমেছে ১৩ লাখ ৫০ হাজার টন।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বছরের শুরু থেকে উৎপাদন খাত চাঙ্গা ছিল। তবে লকডাউন চলমান থাকায় আর ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা বজায় থাকার কারণে উৎপাদিত ইস্পাতের বড় একটি অংশ বিক্রি হয়নি। কারখানাগুলোয় শিল্প ধাতুটির মজুদ বেড়েছে।

এ পরিস্থিতিতে কারখানাগুলো গত মার্চে উৎপাদন কিছুটা কমিয়ে দিয়ে মজুদ করা ইস্পাত বিক্রির ওপর জোর দিয়েছে। এটাই মার্চে চীনে ইস্পাত উৎপাদন কমার বড় একটি কারণ। তবে মজুদ কমে এলে ফের চীনের কারখানাগুলোয় ইস্পাত উৎপাদন গতি ফিরে পেতে পারে।