চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বাড়ায় দিনাজপুরের হিলিতে আদার দাম কমেছে। সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ৬০ টাকা কমে মসলাপণ্যটির দাম ১৯০-২০০ টাকায় নেমে এসেছে। গতকাল হিলি বাজার ঘুরে এ তথ্য জানা গেছে। 

ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, দেশীয় ও ভারতীয় আদার সরবরাহ কমলেও মিয়ানমার থেকে আমদানি বেড়েছে। এছাড়া ইন্দোনেশিয়া থেকে আদা আমদানি শুরু হয়েছে। ফলে মসলাপণ্যটির দাম কমেছে। 

গতকাল হিলি বাজার ঘুরে দেখা যায়, সব দোকানেই আমদানীকৃত বার্মা আদা শোভা পাচ্ছে। সরবরাহ বাড়তি থাকায় দাম কমতির দিকে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি আদা প্রকারভেদে ১৯০-২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। বর্তমানে তা দাম কমে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। 

হিলি বাজারের আদা বিক্রেতা আবুল হাসনাত জানান, মৌসুম শেষ হয়ে যাওয়ায় বেশ কিছুদিন ধরেই দেশীয় আদার সরবরাহ নেই বাজারে। ফলে বেশ কিছুদিন ধরেই আমদানীকৃত ভারতীয় আদা দিয়েই ক্রেতাদের চাহিদা মেটানো হচ্ছিল। কিন্তু ভারতে আদার মৌসুম শেষ হয়ে যাওয়ায় এবং বাড়তি দামের কারণে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে মসলাপণ্যটির আমদানি বন্ধ হয়ে গেছে। এতে দেশের বাজারে পণ্যটির সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছিল। বাড়তি দামে আমদানি করায় বাড়তি দামে বিক্রি করতে হয়েছে। 

তবে এ অবস্থা অনেকটা কাটিয়ে উঠেছে বলে জানান এ ব্যবসায়ী। বর্তমানে মিয়ানমার, ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়া থেকে আদা আমদানি করছেন আমদানিকারকরা। এতে দেশের বাজারে চাহিদার তুলনায় পণ্যটির সরবরাহ বেড়েছে। ফলে দাম কমতে শুরু করেছে। কম দামে আমদানি করতে পারায় খুচরা পর্যায়ে কম দামে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে। 

এদিকে আদার দাম কমায় স্বস্তিতে ক্রেতারা। হিলি বাজারে আদা কিনতে আসা শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘আয় কম হওয়ায় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বমুখী হলে আমাদের মতো নিম্ন আয়ের মানুষের সংসার চালানো বেশ কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়। তবে আদার দাম সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিপ্রতি ৬০ টাকার মতো কমেছে, এটা কিছুটা স্বস্তির খবর। আগে বাড়তি দামের কারণে প্রয়োজনের অর্ধেক আদা কিনে সংসারের চাহিদা মেটাতে হচ্ছিল। এখন দাম কমতে শুরু করায় পর্যাপ্ত পরিমাণ কিনতে পারছি। দীর্ঘমেয়াদেও আদাসহ সব পণ্যের দাম যেন সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকে সে বিষয়ে নজর দেয়া উচিত।’

ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, সরবরাহ অক্ষুণ্ন থাকলে আদার দাম বাড়বে না।