কয়েক দশক ধরে মার্কিন ক্রীড়াঙ্গনের লিগভিত্তিক ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো আয়ের উৎস হিসেবে টিকিট বিক্রি, ছাড় এবং টেলিভিশন চুক্তির ওপর নির্ভরশীল ছিল। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় দলগুলোর মালিকরা অতিরিক্ত অর্থ আয় এবং ফ্র্যাঞ্চাইজি ‘‌ব্র্যান্ড ভ্যালু’ বাড়াতে আবাসন খাতের দিকে ঝুঁকছেন। খবর সিএনএন।

লিগভিত্তিক ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর বিলিয়নেয়ার মালিকরা কয়েক ডজন নতুন স্টেডিয়াম এবং এরিনা তৈরি করেছেন। গত বছর প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, রাজ্য ও স্থানীয় সরকারগুলো ১৯৭০ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে উত্তর আমেরিকার স্টেডিয়ামগুলো নির্মাণ করতে পাবলিক তহবিলে ৩ হাজার ৩০০ কোটি ডলার ব্যয় করেছে। যার মধ্যে সরকারি অবদান ৭৩ শতাংশ।

শহর ও রাজ্যগুলোর সঙ্গে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর চুক্তির অংশ হিসেবে, বল পার্কের চারপাশের জমিতে অফিস, অ্যাপার্টমেন্ট বিল্ডিং, হোটেল ও শপিং মল তৈরির অধিকার দেয়া হয়েছে।

ক্রীড়া স্টেডিয়ামের অর্থনীতি নিয়ে গবেষণা করেন কলোরাডো ডেনভার বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক জিওফ্রে প্রফেটার। তিনি বলেন, ‘‌স্টেডিয়ামগুলো বিশাল আকৃতির এবং অবিশ্বাস্য রকমের ব্যয়বহুল।’

তিনি আরো বলেন, ‘‌যখন আপনি নতুন একটি স্টেডিয়াম দেখতে পাবেন, একজন মালিক এটির সঙ্গে আবাসন এবং চারপাশে সবকিছু বিকাশের স্বত্ব দেখতে পাবেন। যাতে তারা নিজেরা স্টেডিয়াম পরিচালনা করার চেয়ে অবকাঠামো উন্নয়ন দিয়ে বেশি অর্থ উপার্জন করতে পারেন।’

দলগুলো এখন মূলত বিলিয়নেয়ার মালিকদের জন্য আবাসন খাতকে মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছে। কারণ স্টেডিয়ামগুলো ক্রমে বহুমুখী কাজের স্থাপনা হয়ে উঠছে। এগুলো কেনাকাটা ও বিনোদনের পাশাপাশি নোঙরখানা হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। স্টেডিয়ামগুলোর চারপাশে মালিকদের উন্নয়ন স্বত্ব প্রকল্পগুলোর জন্য সরকারি অর্থায়নের একটি মূল উপাদান হয়ে উঠেছে।

উদাহরণস্বরূপ, ওয়াশিংটন উইজার্ডস এবং ক্যাপিটালস ওয়াশিংটন ডিসি থেকে আলেকজান্দ্রিয়া ও ভার্জিনিয়ায় যাওয়ার পরিকল্পনা করছে। এতে স্টোর, রেস্তোরাঁ এবং একটি ই-স্পোর্টস গেমিং সুবিধাসহ অন্যান্য খাতে অর্থায়নের জন্য প্রায় ২০০ কোটি ডলারের বন্ড ইস্যু করবে।

স্টেডিয়াম তৈরিতে মালিকদের ভর্তুকিও দিচ্ছে সরকার। ‘‌সুইট ল্যান্ড রাইটস’ হলো তেমনই এক ধরনের ভর্তুকি চুক্তি। যার মাধ্যমে সরকারি কর্মকর্তারা নতুন স্টেডিয়াম নির্মাণের আকাশছোঁয়া খরচের জন্য মালিকদের সহায়তা দিতে পারেন।

গবেষক জিওফ্রে প্রফেটার বলেন, ‘‌এটি একটি দলের মালিককে আবাসন খাতে বিনিয়োগে উৎসাহিত করে। যতদিন তারা স্টেডিয়ামগুলো থেকে বড় ধরনের অর্থনৈতিক রিটার্ন পাবে, ততদিন তারা জমি নিতে থাকবে।’

স্টেডিয়ামগুলোর জন্য মালিকরা সরকারি বিনিয়োগ এবং বাজার সক্ষমতার অনুকূলে চুক্তি করতে সক্ষম হয়েছে, যা ক্রীড়াবান্ধব এবং এর ফলে লিগগুলোর ভক্তদের আগ্রহ বাড়াবে।

ক্রীড়া ব্যবসা নিয়ে গবেষণা পরিচালনাকারী স্মিথ কলেজের অর্থনীতিবিদ অ্যান্ড্রু জিম্বালিস্ট বলেন, ‘‌পেশাদার দলগুলোকে হোস্ট করার জন্য শহরগুলোর মধ্যে অতিরিক্ত চাহিদা তৈরি হয়েছে। শহর ও রাজ্যগুলোকে একে অন্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় বাধ্য করছে। যাতে একজন মালিককে সেরা প্যাকেজ অফার করতে পারে।’

তিনি আরো বলেন, ‘‌দলের মালিকরা শক্তিশালী স্টেডিয়াম প্যাকেজগুলোর জন্য প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদেরও শহর ছেড়ে যাওয়ার হুমকি দিতে পারেন।’

শহরাঞ্চলে বহুমুখী ক্রীড়া স্টেডিয়াম নির্মাণের প্রবণতা সাম্প্রতিক। ১৯৬০ ও ১৯৭০-এর দশকে অনেক দল কেন্দ্রীয়ভাবে অবস্থিত ডাউনটাউন থেকে ক্রমবর্ধমান শহরতলিতে স্থানান্তরিত হয়েছিল। তারা বিশালাকার পার্কিং লটের মাধ্যমে বেষ্টিত বৃত্তাকার, কুকি কাটার স্টেডিয়াম নির্মাণ করেছে। যা বেজবল ও ফুটবল উভয় খেলাই হোস্ট করতে পারে। সিনসিনাটির রিভারফ্রন্ট স্টেডিয়াম, সেন্ট লুইসের বুশ মেমোরিয়াল স্টেডিয়াম, পিটর্সবার্গের থ্রি রিভার স্টেডিয়াম ছিল বহুমুখী, যা সেই যুগের নকশাকে প্রতিফলিত করে।