কভিড মহামারী, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধসহ নানা কারণে বিশ্বজুড়ে বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে। সেই সঙ্গে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি। এ পরিস্থিতিতে বিনিয়োগ সম্পর্কিত বিষয়ে এশিয়ার ধনীরা বেশ দুশ্চিন্তায় পড়ে গিয়েছে।
১০ লাখ ডলারের বেশি বিনিয়োগযোগ্য অর্থ রয়েছে এমন ধনীরা বিনিয়োগের বিষয়টি নতুন করে ভাবছে। অস্থিতিশীল বাজারের কারণে সেখানে বিনিয়োগের চেয়ে তাদের সম্পদের সুরক্ষায় বেসরকারি বাজারগুলোর দিকে ঝুঁকছে তারা। লমবার্ড ওডিয়ারের ২০২২ সালের সমীক্ষা অনুসারে, এ ধনীরা এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশ যেমন সিঙ্গাপুর, হংকং ও জাপানে বিনিয়োগ সরিয়ে নিচ্ছে।
এ ধনীরা পুঁজিবাজার ও বন্ডে বিনিয়োগ এড়িয়ে চলতে শুরু করেছে। তার বদলে নিজেদের ব্যক্তিগত বা কোম্পানির অর্থ-স্বর্ণ নগদ অর্থে রূপান্তর করে রাখাকে তারা বেশি নিরাপদ মনে করছে। একই সময়ে ক্রিপ্টোকারেন্সি থেকেও দূরে থাকছে তারা। কারণ ভার্চুয়াল এ মুদ্রার অবস্থাও বেশ অস্থিতিশীল।
লমবার্ড ওডিয়ারের এশিয়া অঞ্চলের প্রধান ভিনসেন্ট ম্যাগনেনাট এক বিবৃতিতে বলেন, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বিনিয়োগকারীরা তাদের বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অনেক বেশি গোঁড়া আচরণ করছেন। নিজেদের সম্পদের সুরক্ষার জন্য তা তুলনামূলক নিরাপদ মাধ্যমের দিকে ঝুঁকছেন। ফলে ডিজিটাল সম্পদে রূপান্তরের পরিমাণ কমে গিয়েছে।
লমবার্ড ওডিয়ার বিশ্বের সাড়ে চার শতাধিক ধনী ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে এ জরিপ পরিচালনা করেছে। এর মধ্যে রয়েছেন সিঙ্গাপুর, হংকং, জাপান, থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া, তাইওয়ান ও অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক। গত মে-জুনের মধ্যে এ জরিপ চালানো হয়।
একটি জরিপ অনুযায়ী, ২০২২ সালের প্রথমার্ধে বিশ্বের ৫০০ ধনী ব্যক্তির সামষ্টিক সম্পদের পরিমাণ ১ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন কমেছে। এর কারণ হিসেবে প্রযুক্তি খাতের শেয়ারে মন্দা এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির কথা বলা হচ্ছে। গত দুই বছরের পরিস্থিতির সঙ্গে এবারের পরিস্থিতি একেবারেই বিপরীতমুখী। গত দুই বছর কভিড মহামারীর প্রভাব কাটিয়ে উঠতে বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো ব্যবসায়ীদের সম্পদ বৃদ্ধিতে বরং সহায়তা করেছিল।
লমবার্ড ওডিয়ারের করা জরিপে অর্ধেকের বেশি অংশগ্রহণকারী বলেছেন, তারা বাজারের অস্থিরতা নিয়ে চিন্তিত। সে কারণেই তারা সম্পদের ক্ষেত্রে বৈচিত্র্য আনতে চান। বিশ্বের এ অতিধনীরা এখন এড়িয়ে চলছে ক্রিপ্টোকারেন্সি। ৮৩ শতাংশ বলেছে, ডিজিটাল মুদ্রায় এ মুহূর্তে তাদের কোনো বিনিয়োগ নেই।
সুইস ব্যাংক বলছে, ধনীদের মধ্যে যারা আগের প্রজন্মের তারা ব্যক্তিগত সম্পদ বাড়ানোর দিকে বেশি জোর দিচ্ছে। সিঙ্গাপুর ও অস্ট্রেলিয়ার ধনীদের ৬০ শতাংশই বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে।









