বাংলাদেশের বিরাট বাজার আছে। অনেক জটিলতার মধ্য দিয়েও দেশ এতদূর এগিয়েছে। বাংলাদেশের সক্ষমতা বেড়েছে। তাই সবসময় পশ্চিমাদের প্রেসক্রিপশন মানার প্রয়োজন নেই। গতকাল এফবিসিসিআই কার্যালয়ে আয়োজিত এক কর্মশালায় এসব কথা বলেন বক্তারা।

‌বিল্ডিং এ রেজিলিয়েন্ট ইকোনমি ফর ভিশন ২০৪১: কি চ্যালেঞ্জেস অ্যান্ড ওয়ে ফরোয়ার্ড’ শীর্ষক এ কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্বব্যাংকের বিকল্প নির্বাহী পরিচালক আহমদ কায়কাউস।

দেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা এলে কী হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘‌যে আমার পণ্য কিনবে ইজ হি ডুইং ফেবার টু মি? দিজ ইজ আ ট্রেড। তারা আমাদের কাছে আসছে কারণ তাদের আমরা সুবিধা দিচ্ছি। আমরা যদি আমাদের কাজটাকে আরো বেশি ডিফাইন করি তাহলে এসব নিয়ে ভাবতে হবে না। বেসরকারি খাতকে প্রাধান্য দিতে হবে।’

স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে বেশকিছু করণীয় ও চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন এফবিসিসিআই সভাপতি মাহবুবুল আলম। তার মধ্যে রয়েছে ট্যাক্স জিডিপি বাড়াতে কর কাঠামো পুনর্গঠন ও ব্যবসাবান্ধব করা, কর আহরণ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও সহজীকরণ, বিদেশী বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে নীতিমালা প্রণয়ন, শ্রমঘন শিল্প, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের প্রসারে আর্থিক ও নীতিগত সুবিধা বৃদ্ধি করা, উন্নয়নের রোডম্যাপ বাস্তবায়নে শক্তিশালী মনিটরিং সেল গঠন করা, লজিস্টিক খাতের নীতিমালা প্রণয়ন, উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা, বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা এবং কারিগরি শিক্ষার সম্প্রসারণ করা।

কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ বলেন, ‘ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোয় সাত লাখ আইটি এক্সপার্ট দরকার। কয়েক বছর পর হয়তো ১০ লাখ দরকার হবে। কিন্তু দক্ষতার অভাবে আমরা পাঠাতে পারছি না। দক্ষ লোকবল না গড়ে উঠলে ভবিষ্যতে উচ্চপ্রযুক্তি ব্যবহারে বিদেশ থেকে লোক আনতে হবে।’

শিক্ষার মান বাড়ানো জরুরি উল্লেখ করে এনবিআর সদস্য মাসুদ সাদিক বলেন, ‘প্রতি বছর বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার নিয়ে যায় বিদেশীরা। অথচ দেশের ছেলে-মেয়েরা পড়াশোনা শেষ করে চাকরি পাচ্ছে না।’

কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পলিসি এক্সচেঞ্জ অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও এফবিসিসিআইয়ের প্যানেল উপদেষ্টা ড. মাশরুর রিয়াজ। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, ‘ভিশন ২০৪১ অর্জনে বিদেশী বিনিয়োগ (এফডিআই) বাড়ানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার বাড়ানো, সবুজায়ন বাড়ানো এবং সর্বোপরি বেসরকারি খাতবান্ধব নীতিমালা প্রণয়ন অপরিহার্য।’

কর্মশালায় প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন ফরেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি জাভেদ আক্তার, মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) সভাপতি কামরান টি রহমান প্রমুখ। কর্মশালায় এফবিসিসিআইয়ের সিনিয়র সহসভাপতি মো. আমিন হেলালী, সহসভাপতি মো. মুনির হোসেনসহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন।