জুলাইয়ে সিঙ্গাপুরের প্রধান প্রধান পণ্যের রফতানি প্রবৃদ্ধি কম ছিল। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কা এতে প্রভাব ফেলেছে। বিশেষ করে জ্বালানি তেলবহির্ভূত রফতানি ধীর হয়ে পড়েছে। খবর স্ট্রেইটস টাইমস।

বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের বোর্ড এন্টারপ্রাইজ সিঙ্গাপুর জানিয়েছে, গত মাসে জ্বালানি তেলবহির্ভূত পণ্যের রফতানি প্রবৃদ্ধি ছিল ৭ শতাংশ। জুনে এ প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৮ দশমিক ৫ শতাংশ। রফতানি বাড়ার হার ধীর হলেও তা বিশ্লেষকদের পূর্বাভাসকে ছাড়িয়ে গিয়েছে। এর আগে ব্লুমবার্গের এক সমীক্ষায় বলা হয়েছিল, জুলাইয়ে রফতানি প্রবৃদ্ধির হার হবে ৬ দশমিক ৪ শতাংশ।

চলতি বছরের জুলাইয়ে প্রযুক্তিপণ্যের চালান গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১০ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। জুনে এ প্রবৃদ্ধির হার ছিল মাত্র ৪ দশমিক ১ শতাংশ। গত মাসে ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট (আইসি) রফতানি ১৮ দশমিক ৫ শতাংশ, আইসির যন্ত্রাংশ ৮৩ দশমিক ২ শতাংশ ও ডিস্ক ড্রাইভের রফতানি ১১০ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে।

জুলাইয়ে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ইলেকট্রনিক-বহির্ভূত পণ্যের রফতানি বেড়েছে ৬ দশমিক ১ শতাংশ। জুনে এ প্রবৃদ্ধির হার ছিল ১০ শতাংশ। গত মাসে মেশিনারির রফতানি বেড়েছে ১২ দশমিক ২ শতাংশ।

এদিকে সিঙ্গারের জ্বালানি তেলবহির্ভূত পণ্য রফতানির বাজার বেড়েছে। যদিও চীন, জাপান, হংকং ও থাইল্যান্ডে পণ্য রফতানি নিম্নমুখী ছিল। দেশটির সব থেকে বেশি জ্বালানি তেলবহির্ভূত পণ্য রফতানি হয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), মালয়েশিয়া ও তাইওয়ানে।

এ বিষয়ে ওসিবিসি ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ সেলেনা লিং বলেন, চীন ও হংকংয়ে কভিডজনিত বিধিনিষেধের কারণে চারটি দেশের বাজারে চাহিদা কমেছে। এর জের ধরে ওই দেশগুলোয় রফতানিও নিম্নমুখী ছিল। এছাড়া মূল্যস্ফীতি ও সুদের হার বৃদ্ধির কারণে মানুষের আয় ও স্মার্টফোনের মতো ইলেকট্রিক পণ্যে ব্যয়ের ওপর প্রভাব পড়বে। বার্কলেসের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ ব্রায়ান টান বলেন, ইলেকট্রনিক পণ্যের রফতানি বেড়েছে। অন্যদিকে স্বর্ণ ও ওষুধের রফতানি অস্থিতিশীল ছিল।

এদিকে গত মাসে রফতানি ধীর হলেও জুলাই পর্যন্ত এ বছরে মোট বাণিজ্য ঊর্ধ্বমুখী ছিল বলে জানিয়েছে এন্টারপ্রাইজ সিঙ্গাপুর। ভবিষ্যতে রফতানির প্রবৃদ্ধি আরো কমবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অক্সফোর্ড ইকোনমিস্টের জ্যেষ্ঠ এশিয়া-বিষয়ক অর্থনীতিবিদ অ্যালেক্স হোমস। তিনি বলেন, লকডাউনের পর এখনো পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি চীনের অর্থনীতি। অন্যদিকে অনিয়ন্ত্রিত মূল্যস্ফীতির হার ও কঠোর মুদ্রানীতি বৈশ্বিক চাহিদার ওপরও প্রভাব ফেলেছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছরে দেশটির জ্বালানি তেলবহির্ভূত পণ্যের রফতানি বাড়বে ৫-৬ শতাংশ।