নভেল করোনাভাইরাসের বৈশ্বিক মহামারী দেশে দেশে ইস্পাত উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে। তবে এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম ইরান। মহামারীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের মাঝেও শিল্প ধাতুটির উৎপাদন চাঙ্গা রাখতে সক্ষম হয়েছে দেশটি। এ ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের মার্চে ইরানে অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৪ শতাংশের বেশি বেড়েছে। ওয়ার্ল্ড স্টিল অ্যাসোসিয়েশনের (ডব্লিউএসএ) সর্বশেষ মাসভিত্তিক প্রতিবেদনের তথ্যের বরাতে এ খবর দিয়েছে ইরানিয়ান মাইনস অ্যান্ড মাইনিং ইন্ডাস্ট্রিজ ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রেনোভেশন অর্গানাইজেশন (আইএমআইডিআরও)। খবর তেহরান টাইমস ও মেটাল বুলেটিন।
আইএমআইডিআরওর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চলতি বছরের মার্চে ইরানের কারখানাগুলোয় সব মিলিয়ে ২৮ লাখ টনের কিছু বেশি অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে দেশটিতে শিল্প ধাতুটির উৎপাদন বেড়েছে ১৪ দশমিক ১ শতাংশ।
গত বছর ইরানের ইস্পাত উৎপাদন খাতে প্রবৃদ্ধি বজায় ছিল। ডব্লিউএসএর প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর ইরানে শিল্প ধাতুটির উৎপাদন ২০১৮ সালের তুলনায় ৩০ শতাংশ বেড়েছে, যা বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির তুলনায় অনেক বেশি। ওই বছর বৈশ্বিক ইস্পাত উৎপাদনে প্রবৃদ্ধির হার ছিল সাকল্যে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ।
আইএমআইডিআরও জানিয়েছে, ২০১৮ সালে ইরানে সব মিলিয়ে ২ কোটি ৪০ লাখ টন অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন হয়েছিল। গত বছর দেশটিতে শিল্প ধাতুটির সম্মিলিত উৎপাদন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ১৯ লাখ টনে। সেই হিসেবে এক বছরের ব্যবধানে ইরানে অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন বেড়েছে ৭৯ লাখ টন।
ইস্পাত উৎপাদন খাতে ইরানের আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী তুরস্ক। চলতি বছরের মার্চে তুরস্কেও শিল্প ধাতুটির উৎপাদনে প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। ডব্লিউএসএর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মার্চে তুরস্কে অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে।
তবে ইরান ও তুরস্কে বাড়লেও নভেল করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে গত মাসে বিশ্বের বেশির ভাগ দেশের ইস্পাত উৎপাদন খাতে মন্দা ভাব বজায় ছিল। ডব্লিউএসএর সর্বশেষ মাসভিত্তিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের মার্চে সংস্থাভুক্ত ৬৪ দেশে সব মিলিয়ে ১৪ কোটি ৭১ লাখ টন অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন হয়েছে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় গত মাসে শিল্প ধাতুটির বৈশ্বিক উৎপাদন ৬ শতাংশ কমেছে। মূলত চীন, যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, ইইউসহ বিশ্বের প্রায় সব দেশ নভেল করোনাভাইরাস মহামারীর বিরুদ্ধে লড়াই করছে। বিশ্বের অর্ধেকের বেশি মানুষ লকডাউনের কারণে ঘরবন্দি রয়েছে। স্থবির হয়ে পড়েছে বৈশ্বিক অর্থনীতি। এ কারণেই মার্চে ইস্পাতের বৈশ্বিক উৎপাদনে বড় পতন দেখা দিয়েছে।









