রাশিয়া বিশ্বের শীর্ষ গম রফতানিকারক দেশ। এছাড়া ভুট্টা, সূর্যমুখী তেলবীজসহ অন্যান্য শস্য রফতানিতেও দেশটির অবস্থান বেশ দৃঢ়। আগামীতে ছয় সপ্তাহের জন্য সব ধরনের শস্য রফতানি বন্ধ করে দিতে পারে দেশটি। খবর রয়টার্স।  

রাশিয়ার উপকৃষিমন্ত্রী ওকসানা লুত জানিয়েছেন, শস্য রফতানির ক্ষেত্রে সরকারের বেঁধে দেয়া কোটা পূরণ হয়ে গেলে ছয় সপ্তাহের জন্য রফতানি স্থগিত করতে পারে রাশিয়া। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী মে মাসের মাঝামাঝিতে এ কোটা পূরণ হতে পারে। 

তিনি আরো বলেন, শস্য রফতানিতে বর্তমানের নির্ধারিত কোটার সময় ধার্য করা হয়েছিল ১ এপ্রিল থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত। কিন্তু পরিস্থিতি যা পূর্বাভাস দিচ্ছে, তাতে মে মাসের মাঝামাঝি নাগাদ দেশটির শস্য রফতানি কোটা পূরণ হয়ে যেতে পারে। এর পর থেকে নির্ধারিত সময়ের আগে ইউরেশিয়ান ইকোনমিক ইউনিয়নের অঞ্চলের বাইরে দেশটি থেকে কোনো শস্য রফতানি করা হবে না। অবশ্য এ সিদ্ধান্তের পুরোটাই কোটা পূরণের গতির ওপর নির্ভর করছে। 

তিনি জানান, চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রন্তিকে শস্য রফতানি কোটা বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই রাশিয়ার। ২০২০-২১ বিপণন মৌসুমেও দেশটির কৃষি মন্ত্রণালয় শস্য রফতানিতে কোটা ব্যবস্থা অব্যাহত রাখতে পারে। প্রতি বছরের ১ জুলাই থেকে রাশিয়ায় নতুন বিপণন মৌসুম শুরু হয়।

এর আগে ২০১০ সালে সব ধরনের খাদ্যশস্য রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল রাশিয়া। এ সময় মাত্রাতিরিক্ত খরায় রাশিয়াসহ শস্যের বৈশ্বিক উৎপাদনে ধস নেমেছিল। ফলে অভ্যন্তরীণ সরবরাহ নিশ্চিতে খাদ্যশস্য রফতানি বন্ধ করে দিয়েছিল দেশটি। রাশিয়া থেকে সবচেয়ে বেশি গম আমদানি করে তুরস্ক, মিসর ও বাংলাদেশ।

শস্য রফতানিতে রাশিয়ার স্থগিতাদেশের মূলে রয়েছে নভেল করোনাভাইরাসের মহামারীর প্রভাব। এ মহামারীর প্রকোপে সংকটে পড়তে পারে এমন ধারণা থেকে খাদ্যপণ্যের বৈশ্বিক চাহিদা হঠাৎ বেড়ে গেছে। ফলে বেড়েছে দাম। এ পরিস্থিতিতে অভ্যন্তরীণ বাজারে সরবরাহ নিশ্চিত রেখে শস্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে চেষ্টা করছে দেশটি। এর আওতায় চলতি মাসের শুরুর দিকে শস্য রফতানি সীমিত করে আনে রাশিয়া।