বিশ্বজুড়ে রেস্তোরাঁ আধুনিকায়ন ও মেনু পরিবর্তনের পরিকল্পনা করছে ম্যাকডোনাল্ড’স। এ লক্ষ্যে আগামী এক দশকে ৮৫০ কোটি ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে কোম্পানিটি। যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বাজারে ফাস্টফুডের স্বাভাবিক বিক্রি স্থবির হয়ে পড়ায় বড় পদক্ষেপ নিচ্ছে ফাস্টফুড জায়ান্টটি। খবর এপি।
ম্যাকডোনাল্ডসের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ক্রিস কেম্পচিনস্কি বলেন, ‘বাজারের নতুন ক্রেতা না বাড়লে অন্য কোম্পানির ক্রেতাদের নিজের দিকে টেনে এনে ব্যবসা বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে রেস্তোরাঁর কাজের দক্ষতাও উন্নত করতে হবে।’
তিনি জানান, অর্ডারের ইনভেন্টরি ও কর্মীদের সময়সূচি তৈরির মতো কাজগুলো স্বয়ংক্রিয় করতে চায় ম্যাকডোনাল্ড’স। তবে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ৪৬ হাজার রেস্তোরাঁ আধুনিকায়নের বিপুল এ ব্যয়ের খবরে শেয়ারবাজারে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ঘোষণার পরই ম্যাকডোনাল্ড’সের শেয়ারদর গত সপ্তাহে প্রায় ৫ শতাংশ কমে যায়।
পণ্য বা খাবারের মেনুর ক্ষেত্রেও বেশকিছু বড় পরিবর্তন আনছে ম্যাকডোনাল্ড’স। এশিয়ার ১০ হাজার রেস্তোরাঁয় পরীক্ষামূলকভাবে হাতে তৈরি চিকেন বা ‘হ্যান্ড-ব্রেডেড চিকেন’ চালু করে ইতিবাচক ফল মিলেছে।
তাই চিক-ফিল-এ ও কেএফসির মতো প্রতিযোগীদের টেক্কা দিতে আগামী বছর যুক্তরাষ্ট্র ও আয়ারল্যান্ডে খাবারটির পরিধি বাড়ানো হবে বলে জানায় কোম্পানিটি। এছাড়া গ্রিল্ড চিকেন স্যান্ডউইচ, র্যাপ ও ডিম দিয়ে তৈরি প্রোটিনযুক্ত নতুন নতুন পদ যুক্ত করা হবে মেনুতে।
ম্যাকডোনাল্ড’স ইউএসএর প্রেসিডেন্ট স্কাই অ্যান্ডারসন জানান, যুক্তরাষ্ট্রে ওজন কমানোর দাবি করা ওষুধ ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়ছে ও তাদের খাবারে প্রোটিনের চাহিদাও বেশি। প্রায় ছয় কোটি মার্কিন নাগরিক বর্তমানে খাদ্যতালিকায় প্রোটিনকে প্রাধান্য দিচ্ছে। কোম্পানিটি এ চাহিদাকে বড় সুযোগ হিসেবে দেখছে।
রেস্তোরাঁর ভেতরের পরিবেশেও আসছে বড় বদল। অনলাইন ডেলিভারির খাবার সহজে সংগ্রহের জন্য বিশেষ লকার, কফি তৈরির উন্মুক্ত ব্যবস্থা ও শিশুদের খেলার বড় জায়গা রাখা হবে। এছাড়া অর্ডারের সঠিক ওজন ও নিখুঁত পরিবেশন নিশ্চিত করতে বিশেষ স্কেল বা ওজনযন্ত্র বসানো হচ্ছে। ২০২৮ সালের মধ্যে অন্তত ২০ হাজার রেস্তোরাঁয় এ ডিজিটাল প্রযুক্তি চালু করবে ম্যাকডোনাল্ড’স।
অন্যদিকে কর্মীদের প্রশিক্ষণ ব্যবস্থায়ও জোর দিচ্ছে রেস্তোরাঁটি। কোম্পানির চিফ পিপল অফিসার টিফানি বয়ড জানান, সেবা প্রদানের আন্তরিকতা ও খাবারের গুণমান বাড়ানোর ওপর জোর দিয়ে কর্মীদের নতুন প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।










