চীন থেকে ব্যবসা গুটিয়ে নিচ্ছে রেকর্ডসংখ্যক জাপানি প্রতিষ্ঠান। গত দুই বছরে ৪ হাজার ১৩৭টি জাপানি কোম্পানি সম্পূর্ণরূপে কার্যক্রম বন্ধ করে চীন ছেড়ে চলে গেছে। বিপরীতে একই সময় চীনে নতুন করে জাপানি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান বা কারখানা চালু হয়েছে ১ হাজার ২২১টি। কভিড-১৯ মহামারীর সময় বাদ দিলে এটি চীনে জাপানি ব্যবসার সর্বনিম্ন উপস্থিতির রেকর্ড।
জাপানের শীর্ষ তথ্য গবেষণা সংস্থা তেওকোকু ডেটাব্যাংকের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি।
বিশ্লেষকদের মতে, বেশকিছু জটিল বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক সংকটের কারণে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলো চীন ত্যাগ করছে। ফুজিতসু রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নীতিবিষয়ক প্রধান অর্থনীতিবিদ মার্টিন শুলজ জানান, মূলত শুল্কনীতি, জাপানি পণ্যের ওপর মার্কিন বিধিনিষেধ, চীনা পণ্যের প্রতি জনঅসন্তোষ ও ভারতের দ্রুতবর্ধনশীল বাজারের সুযোগকে কাজে লাগাতে টোকিও এ পদক্ষেপ নিয়েছে।
বর্তমানে চীনে বিনিয়োগের সার্বিক পরিবেশ বেশ প্রতিকূল অবস্থায় আছে মনে করেন তিনি। একই সুর পাওয়া গেছে আর্থিক গবেষণা সংস্থা মনেক্স গ্রুপের বিশেষজ্ঞ পরিচালক জেসপার কোলের বক্তব্যে।
তিনি বলেন, ‘জাপানি কোম্পানিগুলো এখন চীনের ওপর নির্ভরতা অনেক কমিয়ে এনেছে। এর বদলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে মনোযোগ বাড়ছে।’
ব্যবসা স্থানান্তরের পেছনে শুধু অর্থনৈতিক কারণই নয়, বরং চীনে কর্মরত জাপানি কর্মীদের নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগও বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করছেন বাজার পর্যবেক্ষকরা। চলতি বছরের আগস্টে দ্বৈত ব্যবহারের (সামরিক ও বেসামরিক) প্রযুক্তিপণ্যের রফতানি নীতি লঙ্ঘনের অভিযোগে বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তাসহ বহু জাপানি নাগরিককে আটক করে বেইজিং। রাজনৈতিক ঝুঁকি বিশ্লেষণকারী সংস্থা ইউরেশিয়া গ্রুপের বিশ্লেষক জেরেমি চ্যান বলেন, ‘চীনে কাজ করার পরিবেশ এখন আগের মতো অনূকূল বা নিরাপদ নয় বলে মনে করছেন জাপানি কর্মী ও ব্যবসায়ীরা।’
জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেটরো) একটি সমীক্ষা বলছে, সিংহভাগ জাপানি কোম্পানি এখন চীনে নতুন করে ব্যবসা বাড়ানোর ব্যাপারে অনিচ্ছুক। এদিকে পরিস্থিতি সামাল দিতে চীন জানিয়েছে, বিদেশী ও জাপানি ব্যবসায়ীদের জন্য দেশটির বাজার সবসময় উন্মুক্ত।










