সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে মসুর ডাল আমদানি কমেছে। গত অর্থবছরের প্রথম চার মাসের (জুলাই-অক্টোবর) তুলনায় চলতি অর্থবছরের একই সময়ে পণ্যটির আমদানি কমেছে ৪৫০ টনেরও বেশি। ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকরা বলছেন, ভারতে সরবরাহ কমে যাওয়ায় মসুর ডাল আমদানি কমেছে।

এদিকে আমদানি কমে যাওয়ার প্রভাবে দেশীয় বাজারে বেড়েছে মসুর ডালের দাম। কিছুদিন আগেও বাজারে প্রতি কেজি মসুর ডাল বিক্রি হয়েছে ৯৫-১০৫ টাকায়। গতকাল তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩০ টাকায়। পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, এক মাসের ব্যবধানে প্রতি কেজি মসুর ডালের দাম ২০-২৫ টাকা বেড়েছে। স্থানীয় পলাশপোল এলাকার বাসিন্দা মামুন আহমেদ জানান, বাজারে পর্যাপ্ত শীতকালীন সবজি উপস্থিতির পরও ডালের দাম বেড়ে চলেছে। তাছাড়া মাছের দামও এখন কমতির দিকে। কিন্তু মসুর ডালের দাম কমছে না। 

ভোমরা শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা রাজিব হোসেন জানান, চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম চার মাস পর্যন্ত এ বন্দর দিয়ে মসুর ডাল আমদানি হয়েছে ১৬৮ টন, যার মূল্য ২ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। গত অর্থবছরের প্রথম চার মাসে আমদানি হয়েছিল ৬২৪ টন, যার মূল্য ছিল ৭ কোটি ৫ লাখ টাকা। এ হিসাব অনুযায়ী চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে এ বন্দরে পণ্যটি আমদানি কমেছে ৪৫৬ টন।

ভোমরা বন্দরের অন্যতম কৃষিপণ্য আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স গনি অ্যান্ড সন্সের ব্যবস্থাপক অশোক কুমার বলেন, ‘‌ভারতে মসুর ডাল সরবরাহ কমে গেছে। তাছাড়া ডলারের মূল্য বেশি হওয়ায় আমদানি খরচ বেড়ে গেছে। ফলে অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় ডাল আমদানির পরিমাণ কমেছে।’

সাতক্ষীরা জেলা সদরের সুলতানপুর পাইকারি বাজারের ডাল বিক্রেতাপ্রতিষ্ঠান মেসার্স সাগর স্টোরের স্বত্বাধিকারী মো. মনিরুল ইসলাম জানান, বর্তমানে আমদানীকৃত মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১১০-১২০ টাকায়। এক মাস আগেও একই জাতের ডাল বিক্রি হয়েছে ৯৫-১০০ টাকায়। দাম বাড়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমে যাওয়ার পাশাপাশি আমদানি খরচ বেড়ে যাওয়ায় পণ্যটির দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠেছে।’