মহামারীতে ভ্রমণ বন্ধ হয়ে বিপর্যস্ত অবস্থায় পড়ে এয়ারলাইনস খাত। কয়েক বছর ধরে লোকসান গুনতে হয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে। সাম্প্রতিক সময়ে ভ্রমণ বাড়ায় উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থাগুলো লোকসান কাটিয়ে উঠছে। এরই অংশ হিসেবে কভিড-১৯ শুরুর পর প্রথম মুনাফায় ফিরেছে আইএজি।
ফ্রি মালয়েশিয়া টুডের খবর অনুসারে, ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের মালিকানা প্রতিষ্ঠান আইএজি শক্তিশালী ভ্রমণ চাহিদার মাধ্যমে মুনাফায় ফিরতে সক্ষম হয়েছে। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানিয়েছে, চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) ১৩ কোটি ৩০ লাখ ইউরো (১৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার) মুনাফা পেয়েছে আইএজি। যেখানে গত বছরের একই সময়ে সংস্থাটির লোকসানের পরিমাণ ছিল ৯৮ কোটি ১০ লাখ ইউরো।
কভিডজনিত ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি তুলে নেয়ার পর গ্রুপটি এরই মধ্যে বার্ষিক মুনাফায় ফেরার পূর্বাভাস দিয়েছে। আইএজির প্রধান নির্বাহী লুইস গ্যালেগো বলেন, এপ্রিল-জুন সময়ে এয়ারলাইনস খাতের চাহিদা দৃঢ়ভাবে পুনরুদ্ধার হয়েছে। এটি আমাদের মুনাফায় ফিরতে সহায়তা করেছে। পাশাপাশি শক্তিশালী চাহিদার কারণে পুরো বছরে আমরা মুনাফা করতে পারব বলে আশা করছি। তাছাড়া এখন পর্যন্ত চাহিদা দুর্বল হওয়ার কোনো লক্ষণও দেখা যাচ্ছে না।
সব মিলিয়ে চলতি বছরের প্রথমার্ধে সংস্থাটির লোকসান ৬৫ কোটি ৪০ লাখ ইউরো। গত বছরের এ সময়ে সংস্থাটির লোকসানের পরিমাণ ছিল প্রায় ২০০ কোটি ডলার। মহামারীজনিত স্থবিরতার কারণে আইএজি ২০২০ ও ২০২১ সালে বার্ষিক লোকসান গুনেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ ও সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো হাজার হাজার কর্মী ছাঁটাই করেছিল। আইএজি আয়ারল্যান্ডের এয়ার লিংগাস এবং স্পেনের আইবেরিয়া ও ভুয়ালিংয়ের মতো বিভিন্ন এয়ারলাইনসের মালিক।
কভিডজনিত বিপর্যয়ের প্রভাব এখনো পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেনি উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থাগুলো। এক্ষেত্রে তারা কর্মী ঘাটতি, অতিরিক্ত ব্যয়সহ নানা প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হয়েছে।
লুইস গ্যালেগো বলেন, আমাদের শিল্প কার্যক্রমে অভূতপূর্ব চাহিদাও চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। বিশেষ করে হিথ্রো বিমানবন্দরে কার্যক্রম পরিচালনা তীব্র হয়েছে। আমরা এ সমস্যাগুলো মোকাবেলা করার জন্য শিল্পের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাব। যদিও উড়োজাহাজ চলাচল সবচেয়ে বড় সংকট থেকে বেরিয়ে এসেছে।









